সিলেট ০৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
News Title :
‎রোগীসেবায় মানবিক উদ্যোগ, জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে দোস্ত এইডের হুইলচেয়ার উপহার পুলিশের হাতকড়া নিয়ে পলায়ন,নতুন মামলায় আসামী ১৪ জন, হাতকড়া উদ্ধার। শান্তিগঞ্জে বিকেএমের মাসিক নির্বাহী বৈঠক, প্রতিটি ঘরে ঘরে দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার আহবান মাধবপুরে অসামাজিক কার্যকলাপে আবাসিক হোটেলে পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ১০ নারী-পুরুষ শ্রমিক আন্দোলন নেত্রী গীতা কানু গ্রেপ্তার! চা বাগান গুলোতে চাপা উত্তেজনা ‎সিলেটে র‍্যাব-৯ এর অভিযান: অনলাইন জুয়া চক্রের সদস্য গ্রেফতার, মোবাইল জব্দ। কানাইঘাটে তরুণীকে ১০ দিন আটকে রেখে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ৬ বস্তা গাঁজাসহ ট্রাক ও চালক আটক ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র বাহুবল আহত অন্তত ৫০ ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি কালিম উদ্দিন আহমদ মিলন
ফেসবুক লাইভে ‘নির্দোষ’ দাবি আসামীর!

পুলিশের হাতকড়া নিয়ে পলায়ন,নতুন মামলায় আসামী ১৪ জন, হাতকড়া উদ্ধার।



‎সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর থানায় নেওয়ার পথে স্বজনদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির সুযোগে হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছেন মারামারির মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আসির মিয়া (৩০)। পালিয়ে যাওয়ার পর হাতকড়া পরা অবস্থায় ফেসবুক লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি। এদিকে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে হাতকড়াটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পরও আসির মিয়া ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

‎বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার দামোধরদপী পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। পলাতক আসির মিয়া ওই এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি একটি মারামারির মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ঘটনার পর পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার আসির মিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে শান্তিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দামোধরদপী পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে মারামারির মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আসির মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে থানায় নেওয়ার জন্য পুলিশ গাড়িতে তোলার সময় তার স্বজনেরা বাধা দেন।

‎এ সময় পুলিশ ও স্বজনদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতির একপর্যায়ে পুলিশের নজর এড়িয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় আসির মিয়া পালিয়ে যান। পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর আসির মিয়া হাতকড়া পরা অবস্থায় ফেসবুক লাইভে আসেন। লাইভে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

‎স্থানীয় ইউপি সদস্য আজির উদ্দিন বলেন, ‘শুনেছি, আসির মিয়াকে আটকের সময় হট্টগোল হয়। সে সময় তিনি পুলিশের হাতকড়াসহ পালিয়ে যান। আসির মিয়া পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে হাতকড়াটি উদ্ধার করা হয়। তবে এ সময় আসির মিয়াকে পাওয়া যায়নি।

‎ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের নিরাপত্তা ও হেফাজত থেকে একজন আসামি কীভাবে হাতকড়াসহ পালিয়ে গেলেন—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।

‎শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি উল্লাহ বলেন, ‘আমার একজন কর্মকর্তা নিয়মিত মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের পর কয়েকজন নারী ঝামেলা সৃষ্টি করেন। তখন আসামি পালিয়ে যায়।’

‎অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার বলেন, ‘সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাতকড়া উদ্ধার করা হয়েছে। দ্রুতই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হবে। এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।’

‎পুলিশ বলছে, পলাতক আসির মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎রোগীসেবায় মানবিক উদ্যোগ, জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে দোস্ত এইডের হুইলচেয়ার উপহার

ফেসবুক লাইভে ‘নির্দোষ’ দাবি আসামীর!

পুলিশের হাতকড়া নিয়ে পলায়ন,নতুন মামলায় আসামী ১৪ জন, হাতকড়া উদ্ধার।

সময় ০৭:৫৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬



‎সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর থানায় নেওয়ার পথে স্বজনদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির সুযোগে হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছেন মারামারির মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আসির মিয়া (৩০)। পালিয়ে যাওয়ার পর হাতকড়া পরা অবস্থায় ফেসবুক লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি। এদিকে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে হাতকড়াটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পরও আসির মিয়া ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

‎বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার দামোধরদপী পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। পলাতক আসির মিয়া ওই এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি একটি মারামারির মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ঘটনার পর পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার আসির মিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে শান্তিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দামোধরদপী পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে মারামারির মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আসির মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে থানায় নেওয়ার জন্য পুলিশ গাড়িতে তোলার সময় তার স্বজনেরা বাধা দেন।

‎এ সময় পুলিশ ও স্বজনদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতির একপর্যায়ে পুলিশের নজর এড়িয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় আসির মিয়া পালিয়ে যান। পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর আসির মিয়া হাতকড়া পরা অবস্থায় ফেসবুক লাইভে আসেন। লাইভে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

‎স্থানীয় ইউপি সদস্য আজির উদ্দিন বলেন, ‘শুনেছি, আসির মিয়াকে আটকের সময় হট্টগোল হয়। সে সময় তিনি পুলিশের হাতকড়াসহ পালিয়ে যান। আসির মিয়া পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে হাতকড়াটি উদ্ধার করা হয়। তবে এ সময় আসির মিয়াকে পাওয়া যায়নি।

‎ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের নিরাপত্তা ও হেফাজত থেকে একজন আসামি কীভাবে হাতকড়াসহ পালিয়ে গেলেন—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।

‎শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি উল্লাহ বলেন, ‘আমার একজন কর্মকর্তা নিয়মিত মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের পর কয়েকজন নারী ঝামেলা সৃষ্টি করেন। তখন আসামি পালিয়ে যায়।’

‎অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার বলেন, ‘সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাতকড়া উদ্ধার করা হয়েছে। দ্রুতই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হবে। এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।’

‎পুলিশ বলছে, পলাতক আসির মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।