সিলেট ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
News Title :
‎জেসমিন প্রকল্প ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের উদ্যোগে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত জনতা ব্যাংক কুলাউড়া শাখায় ১০০ কোটি টাকার আমানতের মাইলফলক ‎চুনারুঘাটে ধানখেত থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার ‎জামালপুরের হাজিপুরে ব্র্যাকের সহযোগিতায় বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ক্যাম্প শায়েস্তাগঞ্জের জেমির আন্তর্জাতিক সাফল্য: ৭৫ লাখ টাকার বৃত্তি পেয়ে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে ভর্তি কুয়েতে ১৬ বছর ধরে নিখোঁজ এক বাংলাদেশী আটক। জুড়ীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর সমাপনী‎ বিশ্বকে চমকে দিয়ে কি গিনেস বুকে বাংলাদেশের নারী বান্ধব ‘পিংক বাস’? ‎মৌসুমী শব্দ বিলুপ্ত ও রাজস্ব খাতে স্থায়ী করার দাবিতে ভূমিমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে থাকা দেশের অন্যতম অঞ্চল হচ্ছে সিলেটঃ ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক

শায়েস্তাগঞ্জের জেমির আন্তর্জাতিক সাফল্য: ৭৫ লাখ টাকার বৃত্তি পেয়ে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে ভর্তি

কৃতি শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি। ছবি- সংগৃহীত।


‎হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান জানান দিল জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি। চট্টগ্রামের মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন’-এ উচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকা (৬০ হাজার মার্কিন ডলার) সমমূল্যের আন্তর্জাতিক বৃত্তি অর্জন করেছেন তিনি।

‎গত ১৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পরিচালক মৌরি রহমান এক আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে জেমিকে এই বৃত্তি প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। চার বছর মেয়াদি এই বৃত্তির আওতায় তিনি প্রতি বছর ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পাবেন, যা তার আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষার সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে।

‎জেমি শায়েস্তাগঞ্জের পশ্চিম লেঞ্জাপাড়ার বাসিন্দা ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আফজল আলীর কন্যা। নানা আর্থিক ও সামাজিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জহুর চান বিবি মহিলা কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তিনি ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেন।

‎এইচএসসি পরীক্ষার পর গত ২০ জুলাই থেকে শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত এক মাসব্যাপী বিশেষ সামার স্কুল প্রোগ্রামে অংশ নেন তিনি। শতাধিক প্রতিযোগীর মধ্য থেকে মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী এই মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হন। চূড়ান্ত ফলাফলে অনন্য সাধারণ কৃতিত্বের জন্য যে দুইজনকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, জেমি তাদের অন্যতম।

‎বিজ্ঞানভিত্তিক ও সম্পূর্ণ ইংরেজি মাধ্যমের এই সামার স্কুলটিতে মানিয়ে নেওয়া জেমির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা এবং শিক্ষক ও পরিবারের নিরন্তর সমর্থনে তিনি সেই সীমাবদ্ধতা জয় করেছেন।

‎জেমির এই অসামান্য অর্জন কেবল তার পরিবারের দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতিই নয়, বরং মফস্বল অঞ্চলের হাজারও অদম্য তরুণ শিক্ষার্থীর জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা। সঠিক সুযোগ ও অধ্যবসায় থাকলে যেকোনো সীমাবদ্ধতা ভেঙে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছানো সম্ভব—জেমি তা আরও একবার প্রমাণ করলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎জেসমিন প্রকল্প ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের উদ্যোগে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

শায়েস্তাগঞ্জের জেমির আন্তর্জাতিক সাফল্য: ৭৫ লাখ টাকার বৃত্তি পেয়ে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে ভর্তি

সময় ১২:০৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
কৃতি শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি। ছবি- সংগৃহীত।


‎হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান জানান দিল জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি। চট্টগ্রামের মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন’-এ উচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকা (৬০ হাজার মার্কিন ডলার) সমমূল্যের আন্তর্জাতিক বৃত্তি অর্জন করেছেন তিনি।

‎গত ১৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পরিচালক মৌরি রহমান এক আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে জেমিকে এই বৃত্তি প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। চার বছর মেয়াদি এই বৃত্তির আওতায় তিনি প্রতি বছর ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পাবেন, যা তার আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষার সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে।

‎জেমি শায়েস্তাগঞ্জের পশ্চিম লেঞ্জাপাড়ার বাসিন্দা ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আফজল আলীর কন্যা। নানা আর্থিক ও সামাজিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জহুর চান বিবি মহিলা কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তিনি ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেন।

‎এইচএসসি পরীক্ষার পর গত ২০ জুলাই থেকে শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত এক মাসব্যাপী বিশেষ সামার স্কুল প্রোগ্রামে অংশ নেন তিনি। শতাধিক প্রতিযোগীর মধ্য থেকে মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী এই মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হন। চূড়ান্ত ফলাফলে অনন্য সাধারণ কৃতিত্বের জন্য যে দুইজনকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, জেমি তাদের অন্যতম।

‎বিজ্ঞানভিত্তিক ও সম্পূর্ণ ইংরেজি মাধ্যমের এই সামার স্কুলটিতে মানিয়ে নেওয়া জেমির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা এবং শিক্ষক ও পরিবারের নিরন্তর সমর্থনে তিনি সেই সীমাবদ্ধতা জয় করেছেন।

‎জেমির এই অসামান্য অর্জন কেবল তার পরিবারের দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতিই নয়, বরং মফস্বল অঞ্চলের হাজারও অদম্য তরুণ শিক্ষার্থীর জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা। সঠিক সুযোগ ও অধ্যবসায় থাকলে যেকোনো সীমাবদ্ধতা ভেঙে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছানো সম্ভব—জেমি তা আরও একবার প্রমাণ করলেন।