
স্টিয়ারিংয়ে নারী, পুরো বাস পরিচালনায় নারী, বিশ্বকে চমকে দিতে পারে বাংলাদেশের উদ্যোগ।
ভাবুন তো ব্যস্ত শহরের সড়কে ছুটে চলছে একটি বাস। তার স্টিয়ারিংয়ে একজন নারী, সহকারীও নারী, টাকা তুলছেন নারী আর সকল যাত্রীও নারী!
বাসটির চালনা থেকে যাত্রীসেবা সবকিছুতেই নারীর অংশগ্রহণ। বাংলাদেশের নতুন এই উদ্যোগ তাই নিছক একটি বাস সার্ভিস নয়; এটি নারীর নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নের এক চমৎকার প্রতীক।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারী-নির্দিষ্ট বাসসেবা রয়েছে। মেক্সিকো সিটির নারী নির্দিষ্ট বাস, পাকিস্তানের করাচির Pink Bus, এবং ভারত, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের উদ্যোগ তার উদাহরণ। কিন্তু বাংলাদেশের উদ্যোগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল, নারী এখানে শুধু যাত্রী নন নারী নিজেই বাস চালাচ্ছেন এবং সেবা পরিচালনা করছেন।
এ দৃশ্যের প্রতীকী শক্তি অনেক বড়। যে স্টিয়ারিংকে এতদিন মূলত পুরুষের কর্মক্ষেত্র হিসেবে দেখা হতো, সেখানে নারী বসেছেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। একজন নারী চালকের হাতে শুধু বাসের স্টিয়ারিং নয় নিজের কর্মজীবন, আত্মনির্ভরতা ও নেতৃত্বেরও স্টিয়ারিং।
আরও বড় পরিসরে যদি এই উদ্যোগকে পরিকল্পিতভাবে সম্প্রসারণ করা যায় নারী চালক, কন্ডাক্টর ও সহকারীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা যায় তাহলে বাংলাদেশ নারী বান্ধব গণপরিবহনের একটি আন্তর্জাতিক রোল মডেল হয়ে উঠতে পারে।
এমনকি উদ্যোগটির পরিসর ও বৈশিষ্ট্য যদি বিশ্বের বিদ্যমান রেকর্ডের তুলনায় সত্যিই অনন্য হয়, তাহলে ভবিষ্যতে Guinness World Records-এর স্বীকৃতির জন্য আবেদন করার কথাও ভাবা যেতে পারে।
সবচেয়ে সুন্দর বার্তাটি হল, নারী শুধু বাসের যাত্রী নয়; নারী বাসের চালক, নারী সেবাদাতা, নারী কর্মী নারী নিজেই নেতৃত্বে।
আজ নয়টি বাস দিয়ে শুরু হয়েছে। আগামী দিনে হয়তো এই উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়বে আরও অনেক শহরে। আর তখন বাংলাদেশের রাস্তায় শুধু বাস চলবে না চলবে নারীর আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতা ও ক্ষমতায়নের গল্প।
ডা. সাঈদ এনাম। 

















