সিলেট ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
News Title :
‎মৌসুমী শব্দ বিলুপ্ত ও রাজস্ব খাতে স্থায়ী করার দাবিতে ভূমিমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে থাকা দেশের অন্যতম অঞ্চল হচ্ছে সিলেটঃ ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক গ্রামবাসীর উদ্যোগে ঐতিহাসিক মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস পালন, ছিলনা এমপি ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মসূচি ‎গোয়াইনঘাটে মেছোবিড়াল পিটিয়ে হত্যা, ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ হবিগঞ্জে বিক্ষোভের প্রস্তুতিকালে আটক, ২১ ঘণ্টা পর মুচলেকায় মুক্ত মাহদীসহ তিনজন ‎নবীগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদের মৃত্যু, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন কুলাউড়ায় অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের মতবিনিময় ‎ছাতকে মোবাইল কোর্ট: চার প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা, পচা মাংস জব্দ জুড়ীতে হাকালুকি হাওরের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদন বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত‎
মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ...।

গ্রামবাসীর উদ্যোগে ঐতিহাসিক মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস পালন, ছিলনা এমপি ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মসূচি


‎বানিয়াচং উপজেলার মাকালকান্দি স্মৃতিসৌধে ঐতিহাসিক মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস পালন করা হয়েছে। গতকাল ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার গ্রামবাসী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। তবে অন্যান্য বছরের মতো স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্থানীয় প্রশাসনের কোনো কর্মসূচি ছিলনা।

‎প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সরকারি কর্মকর্তা এসে অতীতের মতো স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার সুজিত দাশসহ এলাকাবাসী। অন্তরবর্তীকালীন সরকারের আমলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি কর্মকর্তা গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করার কথা জানিয়ে নির্বাচিত সরকারের আমলে প্রশাসনের শ্রদ্ধা না জানানোর ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ নমীর আলী।

‎সকাল সাড়ে ১১ টায় মাকালকান্দি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও গ্রামবাসী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া কাগাপাশা ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

‎পুস্সস্তবক অর্পণ শেষে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বিধান দাশ, শহীদ পরিবারের সন্তান প্রাণ গোপাল দাশ, দ্বীপেশ চৌধুরী গোপাল, গৌরপদ দাশ, শীতল দাশ, অবসরপ্রাপ্ত পোস্ট মাস্টার প্রীতেশ দাশ, কাগাপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ জামাল উদ্দিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফারুক হোসেন, ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাহাদত আলী, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ আকবর আলী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম প্রমুখ।

‎অতীতে প্রতিবছর স্থানীয় সংসদ সদস্য স্মৃতিসৌধে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করলেও এবার না করার ব্যাপারে জানতে হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ডাক্তার আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন এর হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিলে তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদীয় সভা থাকায় তিনি ঢাকার পথে; তাই মাকালকান্দি গণহত্যা দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যেতে পারেননি। তবে উপজেলা বিএনপি পক্ষে দুপুরে মাকালকান্দি শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, উপজেলা বিএনপি সভাপতি মুজিবুল হোসেন মারুফ, সাধারণ সম্পাদক নকিব ফজলে রকিব মাখন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান তানিয়া খানম সহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

‎উপজেলা প্রশাসনের কর্মসূচি না থাকার ব্যাপারে জানতে ইউএনও মাহমুদা বেগম সাথী ও তার সিএ হৃদয় সূত্রধর এর মোবাইলে কল দিয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেওয়ার পর সিন করতে দেখা গেলেও উত্তর দেননি।

‎উল্লেখ্য, ১৮ আগষ্ট হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের ঐতিহাসিক মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস। এ দিনটি এলেই বানিয়াচং উপজেলার মানুষ ১৯৭১ সালের ভয়াল স্মৃতি স্মরণ করে আঁতকে উঠেন। ওইদিন বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সবচেয়ে বড় গণহত্যা সংঘটিত করেছিল পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী। বানিয়াচংয়ের হিন্দু জনসংখ্যা অধ্যুষিত মাকালকান্দি, হারুনী, গোগড়াপুর, সিকান্দরপুর, কাগাপাশা ও পার্শবর্তী থানা আজমিরীগঞ্জের ঝিলুয়া গ্রামে আক্রমণ চালিয়ে দুই শতাধিক নারী-পুরুষ-শিশুকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হলে বর্তমানে এলাকাবাসীর কাছে দিনটি মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস হিসাবে পরিচিত। পাক হানাদার বাহিনীর মেজর দুররানীর নেতৃত্বে বানিয়াচংয়ের রাজাকার কমান্ডার ফয়জুল হক মতোয়াল্লীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় নৃশংস হত্যাকান্ড ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ ছিল।

‎স্বাধীনতার ৩৭ বছর পর ২০০৮ সালে শুধুমাত্র মাকালকান্দি গ্রামে ৭৮ জন শহীদের নাম খচিত স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন তৎকালীন ইউএনও নুরে আলম সিদ্দিকী। পরবর্তীতে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সারাদেশের স্মৃতিসৌধের নকশার আদলে মাকালকান্দি গ্রামেও নির্মাণ করা হয় নতুন স্মৃতিসৌধ। তবে অন্যান্য গ্রামের শহীদদের স্মরণে অদ্যাবধি কোন স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়নি। এছাড়া স্বাধীনতার এত বছর পরও শত শত শহীদের এই গ্রামগুলোর আশানুরূপ উন্নয়ন হয়নি।


ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎মৌসুমী শব্দ বিলুপ্ত ও রাজস্ব খাতে স্থায়ী করার দাবিতে ভূমিমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান

মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ...।

গ্রামবাসীর উদ্যোগে ঐতিহাসিক মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস পালন, ছিলনা এমপি ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মসূচি

সময় ১০:০২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬


‎বানিয়াচং উপজেলার মাকালকান্দি স্মৃতিসৌধে ঐতিহাসিক মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস পালন করা হয়েছে। গতকাল ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার গ্রামবাসী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। তবে অন্যান্য বছরের মতো স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্থানীয় প্রশাসনের কোনো কর্মসূচি ছিলনা।

‎প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সরকারি কর্মকর্তা এসে অতীতের মতো স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার সুজিত দাশসহ এলাকাবাসী। অন্তরবর্তীকালীন সরকারের আমলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি কর্মকর্তা গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করার কথা জানিয়ে নির্বাচিত সরকারের আমলে প্রশাসনের শ্রদ্ধা না জানানোর ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ নমীর আলী।

‎সকাল সাড়ে ১১ টায় মাকালকান্দি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও গ্রামবাসী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া কাগাপাশা ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

‎পুস্সস্তবক অর্পণ শেষে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বিধান দাশ, শহীদ পরিবারের সন্তান প্রাণ গোপাল দাশ, দ্বীপেশ চৌধুরী গোপাল, গৌরপদ দাশ, শীতল দাশ, অবসরপ্রাপ্ত পোস্ট মাস্টার প্রীতেশ দাশ, কাগাপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ জামাল উদ্দিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফারুক হোসেন, ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাহাদত আলী, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ আকবর আলী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম প্রমুখ।

‎অতীতে প্রতিবছর স্থানীয় সংসদ সদস্য স্মৃতিসৌধে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করলেও এবার না করার ব্যাপারে জানতে হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ডাক্তার আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন এর হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিলে তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদীয় সভা থাকায় তিনি ঢাকার পথে; তাই মাকালকান্দি গণহত্যা দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যেতে পারেননি। তবে উপজেলা বিএনপি পক্ষে দুপুরে মাকালকান্দি শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, উপজেলা বিএনপি সভাপতি মুজিবুল হোসেন মারুফ, সাধারণ সম্পাদক নকিব ফজলে রকিব মাখন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান তানিয়া খানম সহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

‎উপজেলা প্রশাসনের কর্মসূচি না থাকার ব্যাপারে জানতে ইউএনও মাহমুদা বেগম সাথী ও তার সিএ হৃদয় সূত্রধর এর মোবাইলে কল দিয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেওয়ার পর সিন করতে দেখা গেলেও উত্তর দেননি।

‎উল্লেখ্য, ১৮ আগষ্ট হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের ঐতিহাসিক মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস। এ দিনটি এলেই বানিয়াচং উপজেলার মানুষ ১৯৭১ সালের ভয়াল স্মৃতি স্মরণ করে আঁতকে উঠেন। ওইদিন বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সবচেয়ে বড় গণহত্যা সংঘটিত করেছিল পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী। বানিয়াচংয়ের হিন্দু জনসংখ্যা অধ্যুষিত মাকালকান্দি, হারুনী, গোগড়াপুর, সিকান্দরপুর, কাগাপাশা ও পার্শবর্তী থানা আজমিরীগঞ্জের ঝিলুয়া গ্রামে আক্রমণ চালিয়ে দুই শতাধিক নারী-পুরুষ-শিশুকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হলে বর্তমানে এলাকাবাসীর কাছে দিনটি মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস হিসাবে পরিচিত। পাক হানাদার বাহিনীর মেজর দুররানীর নেতৃত্বে বানিয়াচংয়ের রাজাকার কমান্ডার ফয়জুল হক মতোয়াল্লীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় নৃশংস হত্যাকান্ড ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ ছিল।

‎স্বাধীনতার ৩৭ বছর পর ২০০৮ সালে শুধুমাত্র মাকালকান্দি গ্রামে ৭৮ জন শহীদের নাম খচিত স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন তৎকালীন ইউএনও নুরে আলম সিদ্দিকী। পরবর্তীতে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সারাদেশের স্মৃতিসৌধের নকশার আদলে মাকালকান্দি গ্রামেও নির্মাণ করা হয় নতুন স্মৃতিসৌধ। তবে অন্যান্য গ্রামের শহীদদের স্মরণে অদ্যাবধি কোন স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়নি। এছাড়া স্বাধীনতার এত বছর পরও শত শত শহীদের এই গ্রামগুলোর আশানুরূপ উন্নয়ন হয়নি।