
জামালপুর-শেরপুর ২ জেলা সংযোগকারী ব্রহ্মপুত্র সেতুতে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে টোল আদায় অব্যাহত থাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সেতু নির্মাণের পর মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় হলেও সেতুর সংস্কার, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী ও পরিবহন চালকদের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে—সেতুটির নির্মাণ ব্যয় কি আজও ওঠেনি?
প্রতিদিন সেতুটি ব্যবহারকারী যাত্রীদের অভিযোগ, সেতুর দুই প্রান্ত এবং সংযোগ সড়কের বেহাল দশা দীর্ঘদিনের। এছাড়া সেতুর পিলারের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। সেতুতে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকলেও অধিকাংশ সময়ই বাতি জ্বলে না। ফলে রাতের আঁধারে সেতু এলাকায় প্রায়ই ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, টোল প্লাজায় টোল পরিশোধের পরও রসিদ দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম অনীহা প্রদর্শন করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। অনেক চালক অভিযোগ করেন, টাকা নেওয়ার পর রশিদ চাইলে টোল আদায়কারীদের দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সরকারি রাজস্ব আদায়ের স্বচ্ছতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুনামও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
অটোরিকশা ও সিএনজি চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ২৬ বছর ধরে একই সেতুতে টোল প্রদান করতে করতে তারা অতিষ্ঠ। তারা দ্রুত এই টোল আদায় বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সড়ক ও সেতু কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকির অভাবেই সেতুর এই সামগ্রিক বিপর্যয়। তারা দ্রুত এই টোল ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে জনস্বার্থে সেতুটিকে ‘টোলমুক্ত’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে, যতদিন টোল আদায় চালু থাকবে, ততদিন প্রতিটি গাড়ির জন্য ডিজিটাল রসিদ নিশ্চিত করা এবং সেতুর নিরাপত্তা ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জামালপুর-শেরপুর যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষ।
ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া, জামালপুর। 

















