
সম্প্রতি সুনামগঞ্জের কয়েকটি স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ এবং ‘সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস সুনামগঞ্জ জেলা সদরে বাস্তবায়ন আন্দোলন’ ব্যানারে প্রচারিত একটি স্মারকলিপিতে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) উপাচার্যকে জড়িয়ে আনা বিভিন্ন অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নিয়াজ আব্দুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, উপাচার্যের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে মনগড়া তথ্য প্রচার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এসব অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান ও ভূমির পরিমাণ নির্ধারণ সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। এ বিষয়ে উপাচার্যের এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই। তিনি সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
নিয়োগে স্বজনপ্রীতি কিংবা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, বর্তমান উপাচার্যের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারীর নিয়োগ সম্পূর্ণ আইন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নীতিমালা এবং উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে।
সুনামগঞ্জ বা সিলেট বিভাগের যোগ্য প্রার্থীদের ইন্টারভিউ কার্ড দেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগকেও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বলা হয়, যোগ্য আবেদনকারীদের নিয়ম অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েনি।
উপাচার্যের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, তিনি নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন, সরকারি বৈঠক এবং ইউজিসির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই তিনি অফিস আদেশের মাধ্যমে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সফর করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও উপাচার্যের একক সিদ্ধান্তের সুযোগ নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ, সরকারি বিধিমালা, ইউজিসির নির্দেশনা এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদনের ভিত্তিতেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন, সিন্ডিকেট গঠন এবং নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য, সিন্ডিকেট ও অন্যান্য পর্ষদের সদস্য মনোনয়ন আইন ও সরকারি গেজেট অনুযায়ী হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে উপাচার্যের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কোনো সুযোগ নেই।
প্রতিবাদলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান প্রশাসনের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিনা ভাড়ায় দুটি নতুন ক্যাম্পাস চালু, একটি ছাত্রাবাস, একটি ছাত্রীবাস এবং একটি দ্বিতল বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি পূবালী ব্যাংকের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন বহরে নতুন একটি বাস যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি 

















