সিলেট ০৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
‎রক্তাক্ত গণমাধ্যম: সাগর-রুনি থেকে আলিফ ফকিরের বিয়োগান্তক সুর‎ নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা: শেরপুর প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ‎জৈন্তাপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: আহত একই পরিবারের ৩  ভাইসহ একাধিক সদস্য। ‎প্রতিবন্ধী নাতনির দায়িত্ব বৃদ্ধ দাদির কাঁধে লাখাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা ‎সিলেটে বাস টমটম সংঘর্ষে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় ঘাতক বাস চালক গ্রেপ্তার কুলাউড়ায় নতুন আঙ্গিকে গোবিন্দাস রেস্টুরেন্ট, সাশ্রয়ী মূল্যে মিলবে তিন বেলার খাবার নিউইয়র্ক পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল মাহবুবের সঙ্গে স্রোত সাহিত্য পর্ষদের শুভেচ্ছা বিনিময় ‎হবিগঞ্জে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ‎লাখাইয়ে শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজাঁ‎ উদযাপনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।   

১৮ দিন নিখোঁজ, উঠানের ৮ ফুট নিচে মিলল গৃহবধূর মরদেহ: স্বামীর স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এলো হত্যার রহস্য‎



‎
‎মৌলভীবাজারের রাজনগরে ১৮ দিন ধরে নিখোঁজ থাকা এক গৃহবধূর মরদেহ শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হলো তার নিজের বাড়ির উঠানের মাটির নিচ থেকে। পুলিশের দাবি, স্বামীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে প্রায় আট ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে সোমবার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
‎
‎নিহত জাহেদা বেগম (৩৮) উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৮ জুন থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে ৩ জুলাই তার বাবা আব্দুল হান্নান রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
‎
‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জিডির তদন্তে প্রথম থেকেই জাহেদার স্বামী আলমগীর আলীর বক্তব্যে অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। একাধিক দফা জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পুলিশের।
‎
‎তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী করিমপুর চা বাগান এলাকায় নিজ বাড়ির উঠানের সামনে নির্দিষ্ট একটি স্থান চিহ্নিত করা হয়। জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল সিকদারের উপস্থিতিতে খননকাজ শুরু হলে প্রায় আট ফুট গভীরে চাপা দেওয়া অবস্থায় জাহেদার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
‎
‎তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মরদেহ বাড়ির উঠানে পুঁতে রাখার ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছে। হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে কী ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, কিংবা এতে আরও কেউ সহযোগিতা করেছে কি না, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।


‎
‎এ ঘটনায় আলমগীর আলী (৪০), জালাল আহমদ, আমিনুল ইসলাম ও নুরুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে।
‎
‎জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ, হত্যার সময়, পদ্ধতি এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—সব বিষয়ই তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়া হবে।”
‎
‎পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত সংগ্রহ এবং আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎রক্তাক্ত গণমাধ্যম: সাগর-রুনি থেকে আলিফ ফকিরের বিয়োগান্তক সুর‎

১৮ দিন নিখোঁজ, উঠানের ৮ ফুট নিচে মিলল গৃহবধূর মরদেহ: স্বামীর স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এলো হত্যার রহস্য‎

সময় ০৭:৫১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬



‎
‎মৌলভীবাজারের রাজনগরে ১৮ দিন ধরে নিখোঁজ থাকা এক গৃহবধূর মরদেহ শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হলো তার নিজের বাড়ির উঠানের মাটির নিচ থেকে। পুলিশের দাবি, স্বামীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে প্রায় আট ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে সোমবার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
‎
‎নিহত জাহেদা বেগম (৩৮) উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৮ জুন থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে ৩ জুলাই তার বাবা আব্দুল হান্নান রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
‎
‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জিডির তদন্তে প্রথম থেকেই জাহেদার স্বামী আলমগীর আলীর বক্তব্যে অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। একাধিক দফা জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পুলিশের।
‎
‎তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী করিমপুর চা বাগান এলাকায় নিজ বাড়ির উঠানের সামনে নির্দিষ্ট একটি স্থান চিহ্নিত করা হয়। জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল সিকদারের উপস্থিতিতে খননকাজ শুরু হলে প্রায় আট ফুট গভীরে চাপা দেওয়া অবস্থায় জাহেদার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
‎
‎তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মরদেহ বাড়ির উঠানে পুঁতে রাখার ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছে। হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে কী ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, কিংবা এতে আরও কেউ সহযোগিতা করেছে কি না, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।


‎
‎এ ঘটনায় আলমগীর আলী (৪০), জালাল আহমদ, আমিনুল ইসলাম ও নুরুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে।
‎
‎জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ, হত্যার সময়, পদ্ধতি এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—সব বিষয়ই তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়া হবে।”
‎
‎পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত সংগ্রহ এবং আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।