সিলেট ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
News Title :
টাঙ্গাইলে র‍্যালি ও আলোচনা সভায় পালিত হলো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ ‎চার শিশু সন্তানকে এতিম করে মরতে চাননা সুজিনা লাখাইয়ে সড়কের পাশের বটবৃক্ষটি  রাতের আঁধারে কেটে ফেলেছে একটি চক্র। ‎শান্তিগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও গাছের চারা বিতরণ‎ গোয়াইনঘাটে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন সুবিপ্রবি উপাচার্যকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ, অপপ্রচারের নিন্দা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গোয়াইনঘাটে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, অভিযুক্ত আটক‎ ‎বানিয়াচংয়ে  প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস ২০২৬ অনুষ্ঠিত।‎ ‎বানিয়াচংয়ে বিনামূল্যে আমন বীজ, সার বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন‎ ১৮ দিন নিখোঁজ, উঠানের ৮ ফুট নিচে মিলল গৃহবধূর মরদেহ: স্বামীর স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এলো হত্যার রহস্য‎
মানবিক আবেদন...

‎চার শিশু সন্তানকে এতিম করে মরতে চাননা সুজিনা

সুজিনা বেগম, গলায় ক্যান্সার নিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।


‎সুজিনা বেগমের বয়স সর্বোচ্চ সাঁইত্রিশ হবে। দেখলে মনে হয় অন্তত পঞ্চাশ। সুজিনা বলেন, যুগে নয়, বুড়া হয়েছি রোগে। তিনি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত। গলার দুই পাশে ফুলে উঠেছে। স্পষ্ট চোখে পড়ে গলার ফুলা অংশ। এজন্য ঠিকঠাক ভাবে খেতেও পারেন না তিনি। সার্বক্ষণিক শয্যাশায়ী থাকতে হয় তাকে।

‎চার সন্তানের জননী সুজিনা বেগম সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের জয়কলস গ্রামের ফকির বাড়ির বাসিন্দা আমিনুল হকের স্ত্রী। আমিনুল হক একজন দিনমজুর। একা স্ত্রী ও বৃদ্ধ মায়ের ঔষধের খরচ ও সংসারের ঘানি টেনে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না তিনি। সহায় সম্পত্তি যা আছে স্ত্রী’র চিকিৎসার পেছনেই শেষ সব কিছু। এখন আছে শুধু মাথা গুঁজবার ঠাঁই ভিটে খানি। অভাবের করালগ্রাসে সন্তানদের লেখাপড়াও করাতে পারছেন না তিনি। বড় ছেলে সাইম আহমদের বয়স চৌদ্দ। সে মাত্র ছয় হাজার টাকা মাসিক বেতনে সিলেটে একটি ফ্যাক্টরিতে কাজ করে। যে বয়সে বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা সে বয়সে করছে চাকরি, যোগান দিচ্ছে মৃত্যু পথযাত্রী মায়ের চিকিৎসা খরচের। মেঝো মেয়ে ওয়াকিয়া বেগমের বয়স ১১। পড়ছে ক্লাস ফোরে। মা অসুস্থ্য থাকায় দাদীর সাথে সব কাজ সামলায় সে-ই। নিয়মিত স্কুলেও যেতে পারে না। বাকী দুই সন্তানের একজনের নাম সিয়াম আহমদ (৮) ও ছোট মেয়ে মুনতাহা জান্নাতের বয়স দুই বছর।

‎অভাব, টানাপোড়েন আর অসুস্থতায় বিকল সুজিনা বেগমের সংসার। কেমোথেরাপি দিয়ে কিছু দিন চলেছিলেন তিনি। এখন আর পারছেন না ২০ হাজার টাকা দামের থেরাপি চালিয়ে নিতে। অসহায় ও বাধ্য হয়ে এখন হাত পেতেছেন সমাজেন বিত্তশালী মানুষের কাছে। পরম আত্মবিশ্বাস নিয়ে সহযোগিতা চেয়েছেন সুজিনা। ছোট ছোট চারটি শিশু সন্তানকে এতিম করে এতো তারাতাড়ি মরতে চাননা তিনি।

‎স্বামী ও সন্তানদের সাথে হতভাগ্য সুজিনা বেগম।

‎কে দেখবে অবুঝ এই সন্তানদের? কে দেবে তাদের মুখে আহার তুলে? মা মা বলে চিৎকার করে কাঁদলে কে তাদের সান্ত্বনা দিয়ে মায়ের আদরে কোলে তুলে নিবে? এসব বলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন একজন মমতাময়ী মা।

‎পাশে থাকা নির্বাক স্বামী আমিনুর হক হাত জোর করে করুণ ভঙ্গি আর চাহনি দিয়ে বলে দিলেন তার অপারগতার কথা। দুনিয়ার সকল অসহায়ত্ব যেনো তার এই আবদারের কাছে ধরা দিয়েছে। সাহায্য চেয়েছেন সকলের কাছে। স্ত্রী না হোক, সুজিনা বেগম একজন মা। তার চার চারটি সন্তান। তাকে বাঁচাতে করজোড়ে মিনতি করেন সমাজের সকলের কাছে। একটু একটু সহায়তা করে তাকে যেনো চিকিৎসার খরচটি জোগার করে দেন সেই প্রার্থনা দিন আনা দিন খাওয়া মানুষটির।

‎সুজিনা বেগমকে সহায়তা করতে ও তার সাথে যোগাযোগ করতে একটি বিকাশ নাম্বার দিয়েছেন তিনি। নিচে দেওয়া নাম্বারে যোগাযোগ করে তাকে সহায়তা করার অনুরোধ করেছেন সুজিনা ও তার স্বামী আইনুল হক। বিকাশ নাম্বার – 01738-924003

‎সেই সাথে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন মানবিক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, সমাজসেবী ও সহায়তাকারী ফেসবুক ব্যবহারকারীদের। তারা প্রত্যেকে যদি তাকে নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি বা অর্থ সহায়তা ক্যাম্পেইন করে চিকিৎসা সহায়তা চান দেশ, বিদেশের মানুষের কাছে তাহলে হয়তো আর মা হারা এতিম হতে হবে না সন্তানদের এমনটাই প্রত্যাশা সুজিনা বেগমের।



ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টাঙ্গাইলে র‍্যালি ও আলোচনা সভায় পালিত হলো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬

মানবিক আবেদন...

‎চার শিশু সন্তানকে এতিম করে মরতে চাননা সুজিনা

সময় ১০:০৯:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
সুজিনা বেগম, গলায় ক্যান্সার নিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।


‎সুজিনা বেগমের বয়স সর্বোচ্চ সাঁইত্রিশ হবে। দেখলে মনে হয় অন্তত পঞ্চাশ। সুজিনা বলেন, যুগে নয়, বুড়া হয়েছি রোগে। তিনি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত। গলার দুই পাশে ফুলে উঠেছে। স্পষ্ট চোখে পড়ে গলার ফুলা অংশ। এজন্য ঠিকঠাক ভাবে খেতেও পারেন না তিনি। সার্বক্ষণিক শয্যাশায়ী থাকতে হয় তাকে।

‎চার সন্তানের জননী সুজিনা বেগম সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের জয়কলস গ্রামের ফকির বাড়ির বাসিন্দা আমিনুল হকের স্ত্রী। আমিনুল হক একজন দিনমজুর। একা স্ত্রী ও বৃদ্ধ মায়ের ঔষধের খরচ ও সংসারের ঘানি টেনে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না তিনি। সহায় সম্পত্তি যা আছে স্ত্রী’র চিকিৎসার পেছনেই শেষ সব কিছু। এখন আছে শুধু মাথা গুঁজবার ঠাঁই ভিটে খানি। অভাবের করালগ্রাসে সন্তানদের লেখাপড়াও করাতে পারছেন না তিনি। বড় ছেলে সাইম আহমদের বয়স চৌদ্দ। সে মাত্র ছয় হাজার টাকা মাসিক বেতনে সিলেটে একটি ফ্যাক্টরিতে কাজ করে। যে বয়সে বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা সে বয়সে করছে চাকরি, যোগান দিচ্ছে মৃত্যু পথযাত্রী মায়ের চিকিৎসা খরচের। মেঝো মেয়ে ওয়াকিয়া বেগমের বয়স ১১। পড়ছে ক্লাস ফোরে। মা অসুস্থ্য থাকায় দাদীর সাথে সব কাজ সামলায় সে-ই। নিয়মিত স্কুলেও যেতে পারে না। বাকী দুই সন্তানের একজনের নাম সিয়াম আহমদ (৮) ও ছোট মেয়ে মুনতাহা জান্নাতের বয়স দুই বছর।

‎অভাব, টানাপোড়েন আর অসুস্থতায় বিকল সুজিনা বেগমের সংসার। কেমোথেরাপি দিয়ে কিছু দিন চলেছিলেন তিনি। এখন আর পারছেন না ২০ হাজার টাকা দামের থেরাপি চালিয়ে নিতে। অসহায় ও বাধ্য হয়ে এখন হাত পেতেছেন সমাজেন বিত্তশালী মানুষের কাছে। পরম আত্মবিশ্বাস নিয়ে সহযোগিতা চেয়েছেন সুজিনা। ছোট ছোট চারটি শিশু সন্তানকে এতিম করে এতো তারাতাড়ি মরতে চাননা তিনি।

‎স্বামী ও সন্তানদের সাথে হতভাগ্য সুজিনা বেগম।

‎কে দেখবে অবুঝ এই সন্তানদের? কে দেবে তাদের মুখে আহার তুলে? মা মা বলে চিৎকার করে কাঁদলে কে তাদের সান্ত্বনা দিয়ে মায়ের আদরে কোলে তুলে নিবে? এসব বলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন একজন মমতাময়ী মা।

‎পাশে থাকা নির্বাক স্বামী আমিনুর হক হাত জোর করে করুণ ভঙ্গি আর চাহনি দিয়ে বলে দিলেন তার অপারগতার কথা। দুনিয়ার সকল অসহায়ত্ব যেনো তার এই আবদারের কাছে ধরা দিয়েছে। সাহায্য চেয়েছেন সকলের কাছে। স্ত্রী না হোক, সুজিনা বেগম একজন মা। তার চার চারটি সন্তান। তাকে বাঁচাতে করজোড়ে মিনতি করেন সমাজের সকলের কাছে। একটু একটু সহায়তা করে তাকে যেনো চিকিৎসার খরচটি জোগার করে দেন সেই প্রার্থনা দিন আনা দিন খাওয়া মানুষটির।

‎সুজিনা বেগমকে সহায়তা করতে ও তার সাথে যোগাযোগ করতে একটি বিকাশ নাম্বার দিয়েছেন তিনি। নিচে দেওয়া নাম্বারে যোগাযোগ করে তাকে সহায়তা করার অনুরোধ করেছেন সুজিনা ও তার স্বামী আইনুল হক। বিকাশ নাম্বার – 01738-924003

‎সেই সাথে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন মানবিক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, সমাজসেবী ও সহায়তাকারী ফেসবুক ব্যবহারকারীদের। তারা প্রত্যেকে যদি তাকে নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি বা অর্থ সহায়তা ক্যাম্পেইন করে চিকিৎসা সহায়তা চান দেশ, বিদেশের মানুষের কাছে তাহলে হয়তো আর মা হারা এতিম হতে হবে না সন্তানদের এমনটাই প্রত্যাশা সুজিনা বেগমের।