সিলেট ০২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
‎মৌলভীবাজারের রাজনগরে ব্যতিক্রমী দুর্গাপূজা, লোককথা ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের টানে ছুটে আসেন দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা‎ ‎সিলেটে রেলওয়ে স্টেশনের থেকে ১৮ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেফতার-১ ‎মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জের:‎দোয়ারা বাজারে সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম, আটক ১ শান্তিগঞ্জে ১৬২ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত ‎সিলেট বিভাগ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন এসআরবি-৯ এর অধিনায়ক‎ ‎প্রবাসীদের সেবায় শাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রলি হস্তান্তর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর‎ হবিগঞ্জে রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজায় দেবীরূপে পূজিত ১০ বছরের কৃত্তিকা বানিয়াচংয়ে ফ্যামিলি কার্ড শুমারীর উদ্বোধন নারীর স্বাবলম্বিতায় দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ ‎লাখাইয়ে ৩৮ পিস ইয়াবাসহ দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার।

‎মৌলভীবাজারের রাজনগরে ব্যতিক্রমী দুর্গাপূজা, লোককথা ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের টানে ছুটে আসেন দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা‎

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আনন্দ, উল্লাস ও ভক্তির বর্ণিল আবহে যখন দেশজুড়ে দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়, তখন মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামে দেবী দুর্গার এক ব্যতিক্রমী রূপ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। এখানে দেবী দুর্গার প্রতিমা গড়া হয় লাল বর্ণে। শতাব্দীপ্রাচীন এই ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও লোককথাকে ঘিরে প্রতিবছর পূজার সময় পাঁচগাঁওয়ে সমাগম ঘটে বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর।
‎
‎চোখে পড়ার মতো রক্তিম প্রতিমা ভক্তদের মনে সৃষ্টি করে বিস্ময় ও ভক্তির অনুভূতি। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী,সাধক সর্বানন্দ দাসের আধ্যাত্মিক দর্শন থেকেই পাঁচগাঁওয়ে লালবর্ণের দেবী দুর্গার পূজার সূচনা। সময়ের পরিক্রমায় এই আয়োজন ধর্মীয় ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি ও শিল্পকলার এক অনন্য সংমিশ্রণে পরিণত হয়েছে।
‎
‎পাঁচগাঁওয়ের দেবী দুর্গার লালবর্ণের প্রতিমাকে ঘিরে প্রচলিত রয়েছে এক অলৌকিক কাহিনি। লোককথা অনুযায়ী, সাধক সর্বানন্দ দাস আসামের কামাখ্যায় পূজার উদ্দেশ্যে এক শিশুকন্যা লাভ করেন। ধীরে ধীরে শিশুকন্যার শরীর লাল বর্ণ ধারণ করলে সাধক উপলব্ধি করেন, তার মধ্যে দেবীর ছায়ারূপ প্রকাশিত হয়েছে।
‎
‎কথিত আছে, দেবী সাধককে বর দিতে চাইলে তিনি রাজনগরের পাঁচগাঁওয়ে দেবীর আবির্ভাব কামনা করেন। তখন দেবী জানান, পাঁচগাঁওয়ে তার প্রতিমার রং হবে লাল। সেই বিশ্বাস থেকেই পাঁচগাঁওয়ে লালবর্ণের প্রতিমায় দেবী দুর্গার পূজা হয়ে আসছে।
‎
‎আরেকটি প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, দেবী তার উপস্থিতির নিদর্শন হিসেবে একটি কাঁচা ঘরের বেড়ায় পাঁচ আঙুলের লাল ছাপ রেখে যান এবং স্বর্ণালংকার দান করেন। পূজার সময় সেই অলংকার প্রতিমাকে পরানো হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
‎
‎পূজার সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত পাঁচগাঁওয়ের মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। আলো, ধূপ, ঢাক ও শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত পরিবেশে ভক্তরা দেবী দর্শন, পূজা-অর্চনা ও নানা মনস্কামনা নিয়ে সমবেত হন।
‎
‎আয়োজক ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভক্তদের কেউ কেউ পশুবলি, বস্ত্র ও অলংকার নিবেদন করেন। প্রচলিত রীতিতে কয়েকটি মহিষ, বিপুল সংখ্যক পাঁঠা, হাঁস ও কবুতর বলি দেওয়া হয়। অনেকে হোমযজ্ঞ, প্রদীপ ও আগরবাতি প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে তাঁদের মানত পূরণ করেন।
‎
‎স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষাধিক ভক্ত ও দর্শনার্থী এই পূজায় অংশ নেন। বৃহত্তর সিলেটের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং ভারত থেকেও অনেকে পাঁচগাঁওয়ে আসেন। তবে দর্শনার্থীর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সম্পর্কে আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক হিসাব পাওয়া যায়নি।
‎
‎পাঁচগাঁও দুর্গাপূজার পরিচালক সঞ্জয় দাস সাধক সর্বানন্দ দাসের ষষ্ঠ উত্তরপুরুষ। তিনি জানান, তাঁদের পরিবারে ৩০০ বছরের বেশি সময় ধরে লালবর্ণের দেবী দুর্গার পূজা হয়ে আসছে। এটি মূলত পারিবারিক পূজা হলেও দেবীর জাগ্রত উপস্থিতিতে বিশ্বাসী ভক্তদের সমাগমে আয়োজনটি বৃহৎ উৎসবে রূপ নিয়েছে।
‎
‎সঞ্জয় দাস বলেন, পূজার কয়েক দিন দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের বেশ ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। এবারও স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।
‎
‎তিনি আরও জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় একবার পূজার প্রচলিত আয়োজন বন্ধ থাকলেও সেবার ঘটপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
‎
‎পাঁচগাঁওয়ের ব্যতিক্রমী আয়োজনের পাশাপাশি মৌলভীবাজার জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় দুর্গোৎসব ঘিরে চলছে উৎসবের প্রস্তুতি। জেলার কয়েকটি পূজামণ্ডপ নান্দনিক সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন প্রবেশপথে সজ্জিত করা হয়েছে। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে জেলাজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
‎
‎জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সূত্রে জানা গেছে, এবার মৌলভীবাজার জেলায় সার্বজনীন ৮৯৮টি ও ব্যক্তিগত ১২৪টিসহ মোট ১ হাজার ২২টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
‎
‎উপজেলাভিত্তিক পূজামণ্ডপের সংখ্যা হলো—মৌলভীবাজার সদরে ১১১টি, বড়লেখায় ১৪৬টি, জুড়ীতে ৭৬টি, কুলাউড়ায় ২২৭টি, রাজনগরে ১৩৬টি, কমলগঞ্জে ১৫৪টি এবং শ্রীমঙ্গলে ১৭২টি।
‎
‎মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, জেলার সব পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
‎
‎পাঁচগাঁওয়ের লালবর্ণের দেবী দুর্গার পূজা তাই শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়; এটি স্থানীয় ঐতিহ্য, পারিবারিক উত্তরাধিকার ও লোকবিশ্বাসেরও পরিচায়ক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই পূজা মৌলভীবাজারের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করছে। রক্তিম প্রতিমার অনন্য রূপ আর শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যের টানে প্রতিবছরই পাঁচগাঁও হয়ে ওঠে ভক্তি ও উৎসবের এক বিশেষ মিলনস্থল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎মৌলভীবাজারের রাজনগরে ব্যতিক্রমী দুর্গাপূজা, লোককথা ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের টানে ছুটে আসেন দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা‎

‎মৌলভীবাজারের রাজনগরে ব্যতিক্রমী দুর্গাপূজা, লোককথা ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের টানে ছুটে আসেন দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা‎

সময় ০১:১২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আনন্দ, উল্লাস ও ভক্তির বর্ণিল আবহে যখন দেশজুড়ে দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়, তখন মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামে দেবী দুর্গার এক ব্যতিক্রমী রূপ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। এখানে দেবী দুর্গার প্রতিমা গড়া হয় লাল বর্ণে। শতাব্দীপ্রাচীন এই ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও লোককথাকে ঘিরে প্রতিবছর পূজার সময় পাঁচগাঁওয়ে সমাগম ঘটে বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর।
‎
‎চোখে পড়ার মতো রক্তিম প্রতিমা ভক্তদের মনে সৃষ্টি করে বিস্ময় ও ভক্তির অনুভূতি। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী,সাধক সর্বানন্দ দাসের আধ্যাত্মিক দর্শন থেকেই পাঁচগাঁওয়ে লালবর্ণের দেবী দুর্গার পূজার সূচনা। সময়ের পরিক্রমায় এই আয়োজন ধর্মীয় ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি ও শিল্পকলার এক অনন্য সংমিশ্রণে পরিণত হয়েছে।
‎
‎পাঁচগাঁওয়ের দেবী দুর্গার লালবর্ণের প্রতিমাকে ঘিরে প্রচলিত রয়েছে এক অলৌকিক কাহিনি। লোককথা অনুযায়ী, সাধক সর্বানন্দ দাস আসামের কামাখ্যায় পূজার উদ্দেশ্যে এক শিশুকন্যা লাভ করেন। ধীরে ধীরে শিশুকন্যার শরীর লাল বর্ণ ধারণ করলে সাধক উপলব্ধি করেন, তার মধ্যে দেবীর ছায়ারূপ প্রকাশিত হয়েছে।
‎
‎কথিত আছে, দেবী সাধককে বর দিতে চাইলে তিনি রাজনগরের পাঁচগাঁওয়ে দেবীর আবির্ভাব কামনা করেন। তখন দেবী জানান, পাঁচগাঁওয়ে তার প্রতিমার রং হবে লাল। সেই বিশ্বাস থেকেই পাঁচগাঁওয়ে লালবর্ণের প্রতিমায় দেবী দুর্গার পূজা হয়ে আসছে।
‎
‎আরেকটি প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, দেবী তার উপস্থিতির নিদর্শন হিসেবে একটি কাঁচা ঘরের বেড়ায় পাঁচ আঙুলের লাল ছাপ রেখে যান এবং স্বর্ণালংকার দান করেন। পূজার সময় সেই অলংকার প্রতিমাকে পরানো হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
‎
‎পূজার সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত পাঁচগাঁওয়ের মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। আলো, ধূপ, ঢাক ও শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত পরিবেশে ভক্তরা দেবী দর্শন, পূজা-অর্চনা ও নানা মনস্কামনা নিয়ে সমবেত হন।
‎
‎আয়োজক ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভক্তদের কেউ কেউ পশুবলি, বস্ত্র ও অলংকার নিবেদন করেন। প্রচলিত রীতিতে কয়েকটি মহিষ, বিপুল সংখ্যক পাঁঠা, হাঁস ও কবুতর বলি দেওয়া হয়। অনেকে হোমযজ্ঞ, প্রদীপ ও আগরবাতি প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে তাঁদের মানত পূরণ করেন।
‎
‎স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষাধিক ভক্ত ও দর্শনার্থী এই পূজায় অংশ নেন। বৃহত্তর সিলেটের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং ভারত থেকেও অনেকে পাঁচগাঁওয়ে আসেন। তবে দর্শনার্থীর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সম্পর্কে আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক হিসাব পাওয়া যায়নি।
‎
‎পাঁচগাঁও দুর্গাপূজার পরিচালক সঞ্জয় দাস সাধক সর্বানন্দ দাসের ষষ্ঠ উত্তরপুরুষ। তিনি জানান, তাঁদের পরিবারে ৩০০ বছরের বেশি সময় ধরে লালবর্ণের দেবী দুর্গার পূজা হয়ে আসছে। এটি মূলত পারিবারিক পূজা হলেও দেবীর জাগ্রত উপস্থিতিতে বিশ্বাসী ভক্তদের সমাগমে আয়োজনটি বৃহৎ উৎসবে রূপ নিয়েছে।
‎
‎সঞ্জয় দাস বলেন, পূজার কয়েক দিন দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের বেশ ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। এবারও স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।
‎
‎তিনি আরও জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় একবার পূজার প্রচলিত আয়োজন বন্ধ থাকলেও সেবার ঘটপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
‎
‎পাঁচগাঁওয়ের ব্যতিক্রমী আয়োজনের পাশাপাশি মৌলভীবাজার জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় দুর্গোৎসব ঘিরে চলছে উৎসবের প্রস্তুতি। জেলার কয়েকটি পূজামণ্ডপ নান্দনিক সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন প্রবেশপথে সজ্জিত করা হয়েছে। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে জেলাজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
‎
‎জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সূত্রে জানা গেছে, এবার মৌলভীবাজার জেলায় সার্বজনীন ৮৯৮টি ও ব্যক্তিগত ১২৪টিসহ মোট ১ হাজার ২২টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
‎
‎উপজেলাভিত্তিক পূজামণ্ডপের সংখ্যা হলো—মৌলভীবাজার সদরে ১১১টি, বড়লেখায় ১৪৬টি, জুড়ীতে ৭৬টি, কুলাউড়ায় ২২৭টি, রাজনগরে ১৩৬টি, কমলগঞ্জে ১৫৪টি এবং শ্রীমঙ্গলে ১৭২টি।
‎
‎মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, জেলার সব পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
‎
‎পাঁচগাঁওয়ের লালবর্ণের দেবী দুর্গার পূজা তাই শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়; এটি স্থানীয় ঐতিহ্য, পারিবারিক উত্তরাধিকার ও লোকবিশ্বাসেরও পরিচায়ক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই পূজা মৌলভীবাজারের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করছে। রক্তিম প্রতিমার অনন্য রূপ আর শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যের টানে প্রতিবছরই পাঁচগাঁও হয়ে ওঠে ভক্তি ও উৎসবের এক বিশেষ মিলনস্থল।