সিলেট ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
News Title :
‎সিলেটে এসএমপি পুলিশের মাদকবিরোধী কর্মসূচি শুরু: বিভিন্ন এলাকায় র‍্যালি ও সমাবেশ মাধবপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২২ লাখ টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ,পুড়িয়ে ধ্বংস লাখাইয়ে বুল্লা সিংহগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির পরিচিতি ও আলোচনা সভা। ‎লাখাইয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ। শান্তিগঞ্জে সংসদ সদস্যের পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধন ‎সিলেটে মাসব্যাপী মাদকবিরোধী কর্মসূচির উদ্বোধন: গডফাদারদের বিরুদ্ধেও কঠোর হুঁশিয়ারি কমিশনারের লাখাইয়ে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা।‎ ‎মানব সেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জামালপুরের খোরশেদ আলমকে সম্মাননা প্রদান বিয়ানীবাজারে পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে খুন ‎বানিয়াচংয়ে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত

‎মনু-ধলাইয়ের বাঁধ ভেঙে মৌলভীবাজারে বন্যা: পানিবন্দি ৪০ হাজার মানুষ, কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতি‎



‎টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর একাধিক স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে জেলার চার উপজেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে সদর, রাজনগর, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলার ২৮টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার প্রায় ১০ হাজার পরিবারের অন্তত ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা, আউশ ধানের ক্ষেত, সবজির আবাদ ও শতাধিক মাছের খামার। এতে কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

‎জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বর্ষণের সঙ্গে উজানের ঢল মিলিত হয়ে মনু ও ধলাই নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর একপর্যায়ে দুই নদীর একাধিক প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজনগর উপজেলা।

‎সরেজমিনে দেখা গেছে, মনু নদীর বাঁধ ভেঙে রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহীমপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। একই সময়ে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে টেংরা ও কামারচাক ইউনিয়নের প্রায় ২৫টি গ্রাম পানির নিচে চলে যায়। অনেক পরিবার এখনো বাড়িঘরে আটকা রয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় নৌকাই অনেক এলাকার একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম।



‎মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ও পৌরসভার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজাপুর, শিকড়া, আলিনগর ও ধামুলিসহ কয়েকটি গ্রামও বন্যাকবলিত হয়েছে। লোকালয় থেকে পানি নামতে শুরু করলেও হাকালুকি, কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওরের পানি এখনো বাড়ছে।

‎বন্যার পানিতে আমনের বীজতলা, আউশ ধান, সবজি ও মাছের খামার ডুবে যাওয়ায় কৃষক ও মৎস্যচাষিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক এলাকায় নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার ও গবাদিপশুর খাদ্যেরও অভাব দেখা দিয়েছে।

‎পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, মনু নদীর চাঁদনীঘাট পয়েন্টে পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসায় মনু ও ধলাই নদীর পানি ধীরে ধীরে কমছে। তবে নিম্নাঞ্চলের জলাবদ্ধতা কাটতে আরও সময় লাগতে পারে।

‎জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ৭৫০ ব্যাগ শুকনো ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী দুর্গত মানুষকে সেখানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

‎জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া বলেন, পানিবন্দি মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।

‎রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বিপুল সিকদার বলেন, টেংরা, কামারচাকসহ কয়েকটি ইউনিয়নে এখনো হাজারো মানুষ পানিবন্দি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

‎পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ বলেন,ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের কাজ চলছে। পানি কমে গেলে স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‎মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন,বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

‎এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে মনু ও ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে একই ধরনের দুর্ভোগ সৃষ্টি হলেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় ক্ষয়ক্ষতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তাঁরা দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যচাষিদের পুনর্বাসন এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎সিলেটে এসএমপি পুলিশের মাদকবিরোধী কর্মসূচি শুরু: বিভিন্ন এলাকায় র‍্যালি ও সমাবেশ

‎মনু-ধলাইয়ের বাঁধ ভেঙে মৌলভীবাজারে বন্যা: পানিবন্দি ৪০ হাজার মানুষ, কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতি‎

সময় ০৩:০১:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬



‎টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর একাধিক স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে জেলার চার উপজেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে সদর, রাজনগর, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলার ২৮টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার প্রায় ১০ হাজার পরিবারের অন্তত ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা, আউশ ধানের ক্ষেত, সবজির আবাদ ও শতাধিক মাছের খামার। এতে কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

‎জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বর্ষণের সঙ্গে উজানের ঢল মিলিত হয়ে মনু ও ধলাই নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর একপর্যায়ে দুই নদীর একাধিক প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজনগর উপজেলা।

‎সরেজমিনে দেখা গেছে, মনু নদীর বাঁধ ভেঙে রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহীমপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। একই সময়ে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে টেংরা ও কামারচাক ইউনিয়নের প্রায় ২৫টি গ্রাম পানির নিচে চলে যায়। অনেক পরিবার এখনো বাড়িঘরে আটকা রয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় নৌকাই অনেক এলাকার একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম।



‎মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ও পৌরসভার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজাপুর, শিকড়া, আলিনগর ও ধামুলিসহ কয়েকটি গ্রামও বন্যাকবলিত হয়েছে। লোকালয় থেকে পানি নামতে শুরু করলেও হাকালুকি, কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওরের পানি এখনো বাড়ছে।

‎বন্যার পানিতে আমনের বীজতলা, আউশ ধান, সবজি ও মাছের খামার ডুবে যাওয়ায় কৃষক ও মৎস্যচাষিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক এলাকায় নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার ও গবাদিপশুর খাদ্যেরও অভাব দেখা দিয়েছে।

‎পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, মনু নদীর চাঁদনীঘাট পয়েন্টে পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসায় মনু ও ধলাই নদীর পানি ধীরে ধীরে কমছে। তবে নিম্নাঞ্চলের জলাবদ্ধতা কাটতে আরও সময় লাগতে পারে।

‎জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ৭৫০ ব্যাগ শুকনো ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী দুর্গত মানুষকে সেখানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

‎জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া বলেন, পানিবন্দি মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।

‎রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বিপুল সিকদার বলেন, টেংরা, কামারচাকসহ কয়েকটি ইউনিয়নে এখনো হাজারো মানুষ পানিবন্দি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

‎পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ বলেন,ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের কাজ চলছে। পানি কমে গেলে স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‎মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন,বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

‎এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে মনু ও ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে একই ধরনের দুর্ভোগ সৃষ্টি হলেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় ক্ষয়ক্ষতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তাঁরা দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যচাষিদের পুনর্বাসন এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।