সিলেট ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
News Title :
জৈন্তাপুরে খুচরা সার–ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত। ‎টাঙ্গাইলে নকল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে লাজফার্মাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা ‎লাখাইয়ে সমাজসেবা অফিসারের ছুটি ছাড়া অনুপস্থিতি: ভাতা বঞ্চিত ২০-২৫ প্রতিবন্ধী ‎মাধবপুরে দুই গ্রামের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক ‎মধুপুরে আলোকদিয়া চাপড়ী রোডে ট্রলি-মোটরসাইকেলের ভয়াবহ সংঘর্ষ, আহত ৩ ‎হবিগঞ্জের নবাগত জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনের জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়। মৌলভীবাজারে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট–ফার্মাসিস্টদের দুই ঘণ্টা কর্মস্থল বর্জন‎ ‎নবীগঞ্জে পৌর এলাকায় এক যুবকের লাশ উদ্ধার!‎ ‎টাঙ্গাইলের নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার এর দায়িত্ব গ্রহণ ‎মাধবপুরের আবুল বাশারের টমেটো চাষে দৃষ্টান্ত স্থাপন, ৫০ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ!‎

‎কমলগঞ্জে বালুভর্তি ট্রাকের দাপটে সড়কে ধুলার রাজত্ব, অতিষ্ঠ গ্রামবাসী





‎মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার
‎মুন্সিবাজার টু মিরতিংগা চাবাগান বায়া ভৈরবগঞ্জ বাজার  রোড আঞ্চলিক সড়কটি বালু ব্যবসায়ীদের কারণে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। ভারি ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে। সড়কটির বেশির ভাগ জায়গায় উপরের স্তর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে।

‎বালু ভর্তি ট্রাক চলাচলের কারণে মুন্সিবাজার টু মিরতিংগা চাবাগান পর্যন্ত রাস্তাটি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এ সড়কটি দিয়ে সারাদিন বালু ভর্তি ট্রাক চলার কারণে বালু উড়ে আশপাশের দোকান সহ পথচারীদের চোখে মুখে ঢুকে পড়ছে।

‎বিরামহীন ট্রাক  আবাধ চলাচলে কারণে রাস্তার বেশির ভাগ অংশ খানাখন্দ হয়ে জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তিতে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে বালুমহাল ধলাই নদীর ধর্মপুর মৌজায় থাকায় ধর্মপুর গ্রামের কাচা সড়কে চরম ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এলাকার মানুষ বাড়িঘরে ধুলা বালির বলির শিকার হচ্ছেন, ধর্মপুর এলাকার মানুষ ঘরে বসে শান্তিতে খাওয়া-দাওয়া করতে পারছে না ।
‎এলাকাটি ধুলার রাজ্যে পরিণত হয়েছে। সড়কটির এমন বেহাল দশার কারণে সাধারণ পথচারীদের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সারাক্ষণ বালুভর্তি ট্রাকের চলাচলের কারণে ধুলোয় অতিষ্ঠ এ অঞ্চলের মানুষ। অসহ্য ধুলার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকে। এ সড়কে ধুলাবালি এতই বেশি যে একটা ট্রাক গেলে সামনে আর কিছুই দেখা যায় না। এ সড়কটির ধুলাবালি ঘন কুয়াশাকেও হার মানিয়েছে।

‎ট্রাক চলাচলের কারণে ঘন ধুলাবালিতে দিনকে যেন রাত বলে মনে হয়। কমলগঞ্জের মুন্সিবাজার টু মিরতিংগা চাবাগান বায়া ভৈরবগঞ্জ বাজার  রোড রাস্তার ধারে বসবাসরত সাধারণ মানুষ ও দোকানদারদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ধুলোবালিতে রাস্তার পাশে গাছের পাতার রং সবুজ থেকে সাদা হয়ে গেছে।  স্থানীয় জব্বার মিয়া জানান, সড়কটি এখন বালু ব্যবসায়ীদের দখলে। বালুভর্তি খোলা ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলে শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‎মো: মনু মিয়া  জানান, বালুভর্তি ট্রাকের অবাধ চলাচলে শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের নাকে মুখে ধুলা ঢুকে শ্বাস কষ্ট, যক্ষা, হাঁপানী, চোখের সমস্যা, সর্দি ছাড়াও বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হচ্ছে।

‎উল্লেখ্য, শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাখন চন্দ্র সূত্রধর এর নের্তৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত
‎উপজেলার ধলাই নদীর ১ম খন্ড  ধর্মপুর মৌজায়  অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ভ্রাম্যমান আদালত ২ ব্যক্তি কে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করে।  ৫দিনের ভিতরে বালু সরানোর নির্দেশনা দিলেও ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও ধলাই নদীর প্রথম খন্ডের ইজারাদার প্রতিনিধি বদরুল ইসলাম তা এখনও সরান নি।

‎জানা যায়, উপজেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত ধলাই নদীর একাধিক স্থান থেকে বালু উত্তোলন হচ্ছে। লিজের বাহিরেও বালু উত্তোলনের পর কৃষিজমিতে স্তুপীকৃত হচ্ছে। এতে মানা হচ্ছেনা কোন আইন। ড্রেজার মেশিনে উচ্চ শব্দে বালু উত্তোলনে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ধ্বসে পড়ছে। একাধিক ট্রাকযোগে বালু পরিবহনে ভেঙ্গে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী রাস্তাঘাট।
‎ধর্মপুর গ্রামের প্রায় অর্ধ কি.মি. জুড়ে বালু উত্তোলনের ফলে গ্রাম্য রাস্তার বিভিন্ন অংশে গর্ত ও ভাংঙ্গনের সৃষ্টি হচ্ছে। ড্রেজার মেশিনের উচ্চ শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন স্থানীয়রা। হুমকির মুখে পড়েছে নদীর উপর স্টিলের ব্রিজ। নদীর বাঁধ ধ্বসে এই এলাকার কয়েকটি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা রয়েছে।

‎এব্যাপার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সুত্রধর।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জৈন্তাপুরে খুচরা সার–ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত।

‎কমলগঞ্জে বালুভর্তি ট্রাকের দাপটে সড়কে ধুলার রাজত্ব, অতিষ্ঠ গ্রামবাসী

সময় ০৫:৩৬:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫





‎মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার
‎মুন্সিবাজার টু মিরতিংগা চাবাগান বায়া ভৈরবগঞ্জ বাজার  রোড আঞ্চলিক সড়কটি বালু ব্যবসায়ীদের কারণে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। ভারি ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে। সড়কটির বেশির ভাগ জায়গায় উপরের স্তর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে।

‎বালু ভর্তি ট্রাক চলাচলের কারণে মুন্সিবাজার টু মিরতিংগা চাবাগান পর্যন্ত রাস্তাটি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এ সড়কটি দিয়ে সারাদিন বালু ভর্তি ট্রাক চলার কারণে বালু উড়ে আশপাশের দোকান সহ পথচারীদের চোখে মুখে ঢুকে পড়ছে।

‎বিরামহীন ট্রাক  আবাধ চলাচলে কারণে রাস্তার বেশির ভাগ অংশ খানাখন্দ হয়ে জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তিতে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে বালুমহাল ধলাই নদীর ধর্মপুর মৌজায় থাকায় ধর্মপুর গ্রামের কাচা সড়কে চরম ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এলাকার মানুষ বাড়িঘরে ধুলা বালির বলির শিকার হচ্ছেন, ধর্মপুর এলাকার মানুষ ঘরে বসে শান্তিতে খাওয়া-দাওয়া করতে পারছে না ।
‎এলাকাটি ধুলার রাজ্যে পরিণত হয়েছে। সড়কটির এমন বেহাল দশার কারণে সাধারণ পথচারীদের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সারাক্ষণ বালুভর্তি ট্রাকের চলাচলের কারণে ধুলোয় অতিষ্ঠ এ অঞ্চলের মানুষ। অসহ্য ধুলার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকে। এ সড়কে ধুলাবালি এতই বেশি যে একটা ট্রাক গেলে সামনে আর কিছুই দেখা যায় না। এ সড়কটির ধুলাবালি ঘন কুয়াশাকেও হার মানিয়েছে।

‎ট্রাক চলাচলের কারণে ঘন ধুলাবালিতে দিনকে যেন রাত বলে মনে হয়। কমলগঞ্জের মুন্সিবাজার টু মিরতিংগা চাবাগান বায়া ভৈরবগঞ্জ বাজার  রোড রাস্তার ধারে বসবাসরত সাধারণ মানুষ ও দোকানদারদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ধুলোবালিতে রাস্তার পাশে গাছের পাতার রং সবুজ থেকে সাদা হয়ে গেছে।  স্থানীয় জব্বার মিয়া জানান, সড়কটি এখন বালু ব্যবসায়ীদের দখলে। বালুভর্তি খোলা ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলে শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‎মো: মনু মিয়া  জানান, বালুভর্তি ট্রাকের অবাধ চলাচলে শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের নাকে মুখে ধুলা ঢুকে শ্বাস কষ্ট, যক্ষা, হাঁপানী, চোখের সমস্যা, সর্দি ছাড়াও বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হচ্ছে।

‎উল্লেখ্য, শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাখন চন্দ্র সূত্রধর এর নের্তৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত
‎উপজেলার ধলাই নদীর ১ম খন্ড  ধর্মপুর মৌজায়  অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ভ্রাম্যমান আদালত ২ ব্যক্তি কে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করে।  ৫দিনের ভিতরে বালু সরানোর নির্দেশনা দিলেও ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও ধলাই নদীর প্রথম খন্ডের ইজারাদার প্রতিনিধি বদরুল ইসলাম তা এখনও সরান নি।

‎জানা যায়, উপজেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত ধলাই নদীর একাধিক স্থান থেকে বালু উত্তোলন হচ্ছে। লিজের বাহিরেও বালু উত্তোলনের পর কৃষিজমিতে স্তুপীকৃত হচ্ছে। এতে মানা হচ্ছেনা কোন আইন। ড্রেজার মেশিনে উচ্চ শব্দে বালু উত্তোলনে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ধ্বসে পড়ছে। একাধিক ট্রাকযোগে বালু পরিবহনে ভেঙ্গে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী রাস্তাঘাট।
‎ধর্মপুর গ্রামের প্রায় অর্ধ কি.মি. জুড়ে বালু উত্তোলনের ফলে গ্রাম্য রাস্তার বিভিন্ন অংশে গর্ত ও ভাংঙ্গনের সৃষ্টি হচ্ছে। ড্রেজার মেশিনের উচ্চ শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন স্থানীয়রা। হুমকির মুখে পড়েছে নদীর উপর স্টিলের ব্রিজ। নদীর বাঁধ ধ্বসে এই এলাকার কয়েকটি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা রয়েছে।

‎এব্যাপার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সুত্রধর।