সিলেট ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
কমরেড সুমন ও কমরেড সুইটের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত: সমাধিতে বাসদ নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা‎ এনায়েত উল্লাাহ আব্বাসী’র মানহানিকর বক্তব্য ও সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে সিসকপ’র মানববন্ধন!  ‎করাব ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী যুবদল নেতা মাহবুব আলম মালু বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ মৌলভীবাজারে পিকআপসহ চারজন আটক, চুরি হওয়া দুই গাভী উদ্ধার ‎মিষ্টির আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হতে যাচ্ছেন এলিজা জামান পদ্ম হাতে “তুমি আসবে বলেই তো অপেক্ষাটা এত সুন্দর” প্রধান শিক্ষক তন্নী রহমানের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা‎ গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব সম্পাদক কে.এম. লিমনকে গ্রাম পুলিশের সংবর্ধনা ‎সিলেটের গোয়াইনঘাটে যুবদল নেতা বদরুল হত্যা: দিরাই থেকে ২ আসামি গ্রেফতার মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের রুট কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিতকরণের শুভ উদ্বোধন

‎সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মধুমিতা মিষ্টিঘর: তিন দশকেরও বেশি স্বাদের পরিক্রমা।

0-3968x2976-1-0-{}-0-12#

সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে স্বকীয়তা বজায় রেখেছে মধুমিতা মিষ্টিঘর। ১৯৯০ সালে স্বর্গীয় কার্ত্তিক চন্দ্র দেবের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি আজও সিলেটের মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে এক আস্থার নাম। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন মধুমিতার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির স্বাদ নিতে। এটি শুধু একটি মিষ্টির দোকান নয়, সিলেটের মিষ্টি ব্যবসার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা এ অঞ্চলের আদি মিষ্টির প্রতিচ্ছবি।

‎যেকোনো উৎসব-পার্বণে সিলেটবাসীর পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে মধুমিতা মিষ্টিঘর। এর কারণ এর অতুলনীয় স্বাদ এবং ঐতিহ্য যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিদ্যমান। প্রায় ৩৫ বছর ধরে সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি, যেখানে ঐতিহ্য এবং স্বাদ উভয়ই সমান্তরালভাবে বজায় রয়েছে।

‎কার্ত্তিক চন্দ্র দেবের মৃত্যুর পর তার ছোট ভাই লিটন দেব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মধুমিতা মিষ্টিঘরের হাল ধরেছেন। বর্তমান কর্ণধার হিসেবে তার অমায়িক ব্যবহার, বন্ধুবৎসল আচরণ এবং হাসিমুখে কথা বলার ভঙ্গি ক্রেতাদের মন জয় করে নিয়েছে। তার নেতৃত্বেই মধুমিতা মিষ্টিঘর তার ঐতিহ্যকে আগলে রেখেছে, বিশেষ করে তার ভগ্নিপতির স্মৃতি রক্ষার্থে তিনি অত্যন্ত দৃঢ় হাতে এই ব্যবসাটি সামলিয়ে চলেছেন।

মধুমিতা মিষ্টি ঘরে অনলাইন সিলেট পরিবার।

তবে, বর্তমান সময়ে চিনির ও দুধসহ মিষ্টি তৈরির উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় লাভজনকতা নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে মধুমিতা মিষ্টিঘর। লিটন দেব জানান, ক্রেতাদের ভালোবাসার কারণেই তারা এই ব্যবসা ছাড়তে পারছেন না, যদিও প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। বিক্রি প্রায় অর্ধেক কমে গেছে এবং উৎপাদন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের পর মাস শেষে লোকসানের পাল্লাই ভারী থাকে। তবুও, তার বোন জামাইয়ের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে তিনি এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি ধরে রেখেছেন।

মধুমিতা মিষ্টিঘর শুধু মিষ্টি বিক্রি করে না, এটি সিলেটের একটি ঐতিহ্য এবং ভালোবাসার গল্পও বটে। এই কঠিন সময়েও তারা যে নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কমরেড সুমন ও কমরেড সুইটের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত: সমাধিতে বাসদ নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা‎

‎সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মধুমিতা মিষ্টিঘর: তিন দশকেরও বেশি স্বাদের পরিক্রমা।

সময় ০৬:৫৩:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে স্বকীয়তা বজায় রেখেছে মধুমিতা মিষ্টিঘর। ১৯৯০ সালে স্বর্গীয় কার্ত্তিক চন্দ্র দেবের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি আজও সিলেটের মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে এক আস্থার নাম। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন মধুমিতার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির স্বাদ নিতে। এটি শুধু একটি মিষ্টির দোকান নয়, সিলেটের মিষ্টি ব্যবসার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা এ অঞ্চলের আদি মিষ্টির প্রতিচ্ছবি।

‎যেকোনো উৎসব-পার্বণে সিলেটবাসীর পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে মধুমিতা মিষ্টিঘর। এর কারণ এর অতুলনীয় স্বাদ এবং ঐতিহ্য যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিদ্যমান। প্রায় ৩৫ বছর ধরে সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি, যেখানে ঐতিহ্য এবং স্বাদ উভয়ই সমান্তরালভাবে বজায় রয়েছে।

‎কার্ত্তিক চন্দ্র দেবের মৃত্যুর পর তার ছোট ভাই লিটন দেব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মধুমিতা মিষ্টিঘরের হাল ধরেছেন। বর্তমান কর্ণধার হিসেবে তার অমায়িক ব্যবহার, বন্ধুবৎসল আচরণ এবং হাসিমুখে কথা বলার ভঙ্গি ক্রেতাদের মন জয় করে নিয়েছে। তার নেতৃত্বেই মধুমিতা মিষ্টিঘর তার ঐতিহ্যকে আগলে রেখেছে, বিশেষ করে তার ভগ্নিপতির স্মৃতি রক্ষার্থে তিনি অত্যন্ত দৃঢ় হাতে এই ব্যবসাটি সামলিয়ে চলেছেন।

মধুমিতা মিষ্টি ঘরে অনলাইন সিলেট পরিবার।

তবে, বর্তমান সময়ে চিনির ও দুধসহ মিষ্টি তৈরির উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় লাভজনকতা নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে মধুমিতা মিষ্টিঘর। লিটন দেব জানান, ক্রেতাদের ভালোবাসার কারণেই তারা এই ব্যবসা ছাড়তে পারছেন না, যদিও প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। বিক্রি প্রায় অর্ধেক কমে গেছে এবং উৎপাদন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের পর মাস শেষে লোকসানের পাল্লাই ভারী থাকে। তবুও, তার বোন জামাইয়ের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে তিনি এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি ধরে রেখেছেন।

মধুমিতা মিষ্টিঘর শুধু মিষ্টি বিক্রি করে না, এটি সিলেটের একটি ঐতিহ্য এবং ভালোবাসার গল্পও বটে। এই কঠিন সময়েও তারা যে নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য।