সিলেট ০২:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
News Title :
‎চট্টগ্রামে শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি বিরোধে হত্যাচেষ্টা মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার মৌলভীবাজারে নবাগত পুলিশ সুপারের যোগদান হরষপুর পুলিশ ফাঁড়িতে ‘হুমকি’ অভিযোগ মিথ্যা-আলফাজ মহলদারের প্রতিবাদ ‎নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুবিপ্রবি পূর্ব নির্ধারিত স্থানেই হবে : এমপি কয়ছর‎ হবিগঞ্জে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন ‎চুনারুঘাটে নদীভাঙন প্রতিরোধক জিও ব্যাগ কাজের উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ ‎চুনারুঘাটে খোয়াই নদীতে গোসল করতে গিয়ে এক  বৃদ্ধ নিখোঁজ ‎শান্তিগঞ্জে অনলাইন জুয়া চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার : সাইবার সুরাক্ষা আইনে মামলা দায়ের জামালপুরে ৪২ কেজি গাঁজাসহ ২ নারী মাদক কারবারী গ্রেপ্তার ‎মৌলভীবাজারে ১৭ জুন তারেক রহমানের জনসভা: ভেন্যু পরিবর্তন,গভ.স্কুল মাঠে প্রস্তুতি শুরু
হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) স্থাপনের দাবী...

‎বানিয়াচংয়ে সবজি চাষে নীরব বিপ্লব: সংরক্ষণের অভাব ও কৃষি অফিসের অসহযোগিতা অভিযোগ!

0-3968x2976-1-0-{}-0-12#

বানিয়াচংয়ের হাওরে একটি পাকা টমেটো বাগান




‎পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রাম হবিগঞ্জের বানিয়াচং। এক সময়ের এক ফসলি জমি এখন সবুজের সমারোহে পূর্ণ। গত এক দশকে এই অঞ্চলের কৃষি চিত্রে এসেছে আমূল পরিবর্তন। আমন ধানের পরিবর্তে এখন বানিয়াচং সদরের ৪টি ইউনিয়নসহ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নেই হচ্ছে হরেক রকমের সবজি চাষ।

‎তবে এই কৃষি বিপ্লবের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হিমাগারের (কোল্ড স্টোরেজ) অভাব এবং উপজেলা কৃষি অফিসের চরম উদাসীনতার অভিযোগ আছে!


‎স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে এই অঞ্চলে অগ্রহায়ণে আমন আর বৈশাখে বোরো ধানই ছিল একমাত্র ভরসা। কিন্তু ফলন ভালো হওয়া এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা এখন সবজি চাষে ঝুঁকছেন। এতে শুধু কৃষকরাই লাভবান হচ্ছেন না, সৃষ্টি হচ্ছে বেকার যুবক ও সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান।


‎কৃষি বিপ্লব ঘটলেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের দাবি,উৎপাদিত সবজি পচনশীল হওয়ায় সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।‎ তাই বানিয়াচংয়ে জরুরি ভিত্তিতে একটি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।




‎সরকারি বীজ, সার ও কীটনাশক সহায়তার সুফল হাতেগোনা কয়েকজন পেলেও সাধারণ কৃষকরা তা পান না! ফসলে রোগ-বালাই হলে কৃষি কর্মকর্তাদের পাশে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেছেন কৃষক জিয়া উদ্দিন ও সোহেল মিয়াসহ আরও অনেকে।

‎তাদের ভাষ্য, অফিসাররা মাঝেমধ্যে মিটিং করলেও সরেজমিনে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা মাঠে আসেন না? অথচ সরকারি ভাবে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা থাকলেও তিনি নিয়মিত মাঠে যান না বলেও কৃষকদের অভিযোগ।

‎স্থানীয় কৃষকেরা বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

‎বানিয়াচংয়ে রবি মৌসুমে ১৪ শত হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হচ্ছে বলে বানিয়াচং উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ এনামুল হক জানান। ‎তিনি বলেন,কৃষকদের অভিযোগ আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে শুনেছি, যারা মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব আছেন, তারা ঠিকমত দায়িত্ব পালন করছে কি না বা দায়িত্ব অবহেলা থাকলে তা তিনি তড়িৎ ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানান।


‎কৃষি কর্মকর্তা মোঃ এনামুল হক তিনি বানিয়াচংয়ে ৫ বছরের বেশি সময় ধরে সুনামের সাথে চাকুরী করছেন, কৃষকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দাবী করেন আমরা সব সময় সময় কৃষকদের সেবায় নিয়োজিত আছি। ‎তিনি আরও বলেন, আমরা গত ৩ মাস আগে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয় বানিয়াচংয়ে এসেছিলেন, আমরা বানিয়াচংয়ের কৃষকের সুবিধার জন্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের ব্যাপারে লিখিত ভাবে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছ। এখন মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন বলেও তিনি জানান।



কৃষকদের দাবি, বানিয়াচংয়ের কৃষিকে আরও এগিয়ে নিতে এবং উৎপাদন ধরে রাখতে অবিলম্বে কৃষি অফিসের অসহযোগিতা বন্ধ করা হোক এবং প্রয়োজনীয় কৃষি অবকাঠামো গড়ে তোলা হোক। পাশাপাশি সরকারি অথবা বেসরকারি পর্যায়ে বানিয়াচংয়ে একটি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগের ব্যাপার সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎চট্টগ্রামে শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি বিরোধে হত্যাচেষ্টা মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার

হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) স্থাপনের দাবী...

‎বানিয়াচংয়ে সবজি চাষে নীরব বিপ্লব: সংরক্ষণের অভাব ও কৃষি অফিসের অসহযোগিতা অভিযোগ!

সময় ০৩:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বানিয়াচংয়ের হাওরে একটি পাকা টমেটো বাগান




‎পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রাম হবিগঞ্জের বানিয়াচং। এক সময়ের এক ফসলি জমি এখন সবুজের সমারোহে পূর্ণ। গত এক দশকে এই অঞ্চলের কৃষি চিত্রে এসেছে আমূল পরিবর্তন। আমন ধানের পরিবর্তে এখন বানিয়াচং সদরের ৪টি ইউনিয়নসহ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নেই হচ্ছে হরেক রকমের সবজি চাষ।

‎তবে এই কৃষি বিপ্লবের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হিমাগারের (কোল্ড স্টোরেজ) অভাব এবং উপজেলা কৃষি অফিসের চরম উদাসীনতার অভিযোগ আছে!


‎স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে এই অঞ্চলে অগ্রহায়ণে আমন আর বৈশাখে বোরো ধানই ছিল একমাত্র ভরসা। কিন্তু ফলন ভালো হওয়া এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা এখন সবজি চাষে ঝুঁকছেন। এতে শুধু কৃষকরাই লাভবান হচ্ছেন না, সৃষ্টি হচ্ছে বেকার যুবক ও সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান।


‎কৃষি বিপ্লব ঘটলেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের দাবি,উৎপাদিত সবজি পচনশীল হওয়ায় সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।‎ তাই বানিয়াচংয়ে জরুরি ভিত্তিতে একটি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।




‎সরকারি বীজ, সার ও কীটনাশক সহায়তার সুফল হাতেগোনা কয়েকজন পেলেও সাধারণ কৃষকরা তা পান না! ফসলে রোগ-বালাই হলে কৃষি কর্মকর্তাদের পাশে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেছেন কৃষক জিয়া উদ্দিন ও সোহেল মিয়াসহ আরও অনেকে।

‎তাদের ভাষ্য, অফিসাররা মাঝেমধ্যে মিটিং করলেও সরেজমিনে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা মাঠে আসেন না? অথচ সরকারি ভাবে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা থাকলেও তিনি নিয়মিত মাঠে যান না বলেও কৃষকদের অভিযোগ।

‎স্থানীয় কৃষকেরা বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

‎বানিয়াচংয়ে রবি মৌসুমে ১৪ শত হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হচ্ছে বলে বানিয়াচং উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ এনামুল হক জানান। ‎তিনি বলেন,কৃষকদের অভিযোগ আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে শুনেছি, যারা মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব আছেন, তারা ঠিকমত দায়িত্ব পালন করছে কি না বা দায়িত্ব অবহেলা থাকলে তা তিনি তড়িৎ ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানান।


‎কৃষি কর্মকর্তা মোঃ এনামুল হক তিনি বানিয়াচংয়ে ৫ বছরের বেশি সময় ধরে সুনামের সাথে চাকুরী করছেন, কৃষকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দাবী করেন আমরা সব সময় সময় কৃষকদের সেবায় নিয়োজিত আছি। ‎তিনি আরও বলেন, আমরা গত ৩ মাস আগে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয় বানিয়াচংয়ে এসেছিলেন, আমরা বানিয়াচংয়ের কৃষকের সুবিধার জন্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের ব্যাপারে লিখিত ভাবে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছ। এখন মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন বলেও তিনি জানান।



কৃষকদের দাবি, বানিয়াচংয়ের কৃষিকে আরও এগিয়ে নিতে এবং উৎপাদন ধরে রাখতে অবিলম্বে কৃষি অফিসের অসহযোগিতা বন্ধ করা হোক এবং প্রয়োজনীয় কৃষি অবকাঠামো গড়ে তোলা হোক। পাশাপাশি সরকারি অথবা বেসরকারি পর্যায়ে বানিয়াচংয়ে একটি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগের ব্যাপার সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।