
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় পাট উৎপাদনকারী জেলাগুলোর মধ্যে জামালপুর অন্যতম। এ বছর স্বাভাবিক আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে পাটের চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় দারুণ খুশি চাষিরা।
জেলার বিভিন্ন ছোট নদী, খাল ও বিলের পারে এখন পাট জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
গত ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের কুলিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এক গ্রামীণ চিত্র—রাস্তার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি খালে পাট ধোয়ার কাজ করছেন ৮ জন শ্রমিক।
এ সময় স্থানীয় চাষি আব্দুল মান্নানের সঙ্গে কথা হলে তিনি এ মৌসুমের পাট চাষের সফলতার কথা জানান। তিনি বলেন, বোরো মৌসুমে ধান কাটার শেষ পর্যায়ে দুই বিঘা জমিতে তুষা জাতের পাট চাষ করেছিলেন। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত তাঁর মোট খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। এ বছর দুই বিঘা জমিতে প্রায় ২০ মণ পাট উৎপাদিত হয়েছে।
বাজারে পাটের অধিক চাহিদা থাকায় বর্তমানে ব্যবসায়ীরা মণপ্রতি ৩ হাজার ৮০০ শত টাকা দাম দিচ্ছেন। জমিতে নিয়মমাফিক ইউরিয়া, টিএসপি এবং জৈব সার ব্যবহার করে মাত্র চার মাসের মাথায় উৎপাদিত পাট বিক্রি করে তাঁর প্রায় ৭৬ হাজার টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন। পাট কাটার পর ওই জমিতেই আবার ভুট্টা রোপণ করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে যদি বিনামূল্যে বা ভর্তুকি মূল্যে মানসম্মত বীজ, সার এবং আধুনিক কারিগরি সহায়তা পাওয়া যায়, তবে আগামীতে পাটের উৎপাদন আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া, জামালপুর। 


















