সিলেট ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
News Title :
গোলাপগঞ্জে ২১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২, নগদ টাকা উদ্ধার ‎জৈন্তাপুর সীমান্তে ওয়াচ টাওয়ারে বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ‎জামালপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত লাখাইয়ে নতুন ইউএনও তারেক হাসান, এর যোগদান ‎বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বানিয়াচংয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালী। ইয়াবা সেবনের দায়ে বাহুবলে এক ব্যক্তির ৬ মাসের কারাদণ্ড ‎স্পেনে বাইসাইকেল গ্যারেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশীর তরুণে মৃত্যু বানিয়াচং জনাব আলী সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক অনুপ রায় এর অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা ‎মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু: বানিয়াচংয়ের বিদায়ী ইউএনও কে সংবর্ধনা প্রদান। ‎গোয়াইনঘাটে নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন
মানবিক আবেদন...

‎চার শিশু সন্তানকে এতিম করে মরতে চাননা সুজিনা

সুজিনা বেগম, গলায় ক্যান্সার নিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।


‎সুজিনা বেগমের বয়স সর্বোচ্চ সাঁইত্রিশ হবে। দেখলে মনে হয় অন্তত পঞ্চাশ। সুজিনা বলেন, যুগে নয়, বুড়া হয়েছি রোগে। তিনি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত। গলার দুই পাশে ফুলে উঠেছে। স্পষ্ট চোখে পড়ে গলার ফুলা অংশ। এজন্য ঠিকঠাক ভাবে খেতেও পারেন না তিনি। সার্বক্ষণিক শয্যাশায়ী থাকতে হয় তাকে।

‎চার সন্তানের জননী সুজিনা বেগম সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের জয়কলস গ্রামের ফকির বাড়ির বাসিন্দা আমিনুল হকের স্ত্রী। আমিনুল হক একজন দিনমজুর। একা স্ত্রী ও বৃদ্ধ মায়ের ঔষধের খরচ ও সংসারের ঘানি টেনে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না তিনি। সহায় সম্পত্তি যা আছে স্ত্রী’র চিকিৎসার পেছনেই শেষ সব কিছু। এখন আছে শুধু মাথা গুঁজবার ঠাঁই ভিটে খানি। অভাবের করালগ্রাসে সন্তানদের লেখাপড়াও করাতে পারছেন না তিনি। বড় ছেলে সাইম আহমদের বয়স চৌদ্দ। সে মাত্র ছয় হাজার টাকা মাসিক বেতনে সিলেটে একটি ফ্যাক্টরিতে কাজ করে। যে বয়সে বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা সে বয়সে করছে চাকরি, যোগান দিচ্ছে মৃত্যু পথযাত্রী মায়ের চিকিৎসা খরচের। মেঝো মেয়ে ওয়াকিয়া বেগমের বয়স ১১। পড়ছে ক্লাস ফোরে। মা অসুস্থ্য থাকায় দাদীর সাথে সব কাজ সামলায় সে-ই। নিয়মিত স্কুলেও যেতে পারে না। বাকী দুই সন্তানের একজনের নাম সিয়াম আহমদ (৮) ও ছোট মেয়ে মুনতাহা জান্নাতের বয়স দুই বছর।

‎অভাব, টানাপোড়েন আর অসুস্থতায় বিকল সুজিনা বেগমের সংসার। কেমোথেরাপি দিয়ে কিছু দিন চলেছিলেন তিনি। এখন আর পারছেন না ২০ হাজার টাকা দামের থেরাপি চালিয়ে নিতে। অসহায় ও বাধ্য হয়ে এখন হাত পেতেছেন সমাজেন বিত্তশালী মানুষের কাছে। পরম আত্মবিশ্বাস নিয়ে সহযোগিতা চেয়েছেন সুজিনা। ছোট ছোট চারটি শিশু সন্তানকে এতিম করে এতো তারাতাড়ি মরতে চাননা তিনি।

‎স্বামী ও সন্তানদের সাথে হতভাগ্য সুজিনা বেগম।

‎কে দেখবে অবুঝ এই সন্তানদের? কে দেবে তাদের মুখে আহার তুলে? মা মা বলে চিৎকার করে কাঁদলে কে তাদের সান্ত্বনা দিয়ে মায়ের আদরে কোলে তুলে নিবে? এসব বলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন একজন মমতাময়ী মা।

‎পাশে থাকা নির্বাক স্বামী আমিনুর হক হাত জোর করে করুণ ভঙ্গি আর চাহনি দিয়ে বলে দিলেন তার অপারগতার কথা। দুনিয়ার সকল অসহায়ত্ব যেনো তার এই আবদারের কাছে ধরা দিয়েছে। সাহায্য চেয়েছেন সকলের কাছে। স্ত্রী না হোক, সুজিনা বেগম একজন মা। তার চার চারটি সন্তান। তাকে বাঁচাতে করজোড়ে মিনতি করেন সমাজের সকলের কাছে। একটু একটু সহায়তা করে তাকে যেনো চিকিৎসার খরচটি জোগার করে দেন সেই প্রার্থনা দিন আনা দিন খাওয়া মানুষটির।

‎সুজিনা বেগমকে সহায়তা করতে ও তার সাথে যোগাযোগ করতে একটি বিকাশ নাম্বার দিয়েছেন তিনি। নিচে দেওয়া নাম্বারে যোগাযোগ করে তাকে সহায়তা করার অনুরোধ করেছেন সুজিনা ও তার স্বামী আইনুল হক। বিকাশ নাম্বার – 01738-924003

‎সেই সাথে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন মানবিক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, সমাজসেবী ও সহায়তাকারী ফেসবুক ব্যবহারকারীদের। তারা প্রত্যেকে যদি তাকে নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি বা অর্থ সহায়তা ক্যাম্পেইন করে চিকিৎসা সহায়তা চান দেশ, বিদেশের মানুষের কাছে তাহলে হয়তো আর মা হারা এতিম হতে হবে না সন্তানদের এমনটাই প্রত্যাশা সুজিনা বেগমের।



ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

গোলাপগঞ্জে ২১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২, নগদ টাকা উদ্ধার

মানবিক আবেদন...

‎চার শিশু সন্তানকে এতিম করে মরতে চাননা সুজিনা

সময় ১০:০৯:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
সুজিনা বেগম, গলায় ক্যান্সার নিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।


‎সুজিনা বেগমের বয়স সর্বোচ্চ সাঁইত্রিশ হবে। দেখলে মনে হয় অন্তত পঞ্চাশ। সুজিনা বলেন, যুগে নয়, বুড়া হয়েছি রোগে। তিনি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত। গলার দুই পাশে ফুলে উঠেছে। স্পষ্ট চোখে পড়ে গলার ফুলা অংশ। এজন্য ঠিকঠাক ভাবে খেতেও পারেন না তিনি। সার্বক্ষণিক শয্যাশায়ী থাকতে হয় তাকে।

‎চার সন্তানের জননী সুজিনা বেগম সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের জয়কলস গ্রামের ফকির বাড়ির বাসিন্দা আমিনুল হকের স্ত্রী। আমিনুল হক একজন দিনমজুর। একা স্ত্রী ও বৃদ্ধ মায়ের ঔষধের খরচ ও সংসারের ঘানি টেনে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না তিনি। সহায় সম্পত্তি যা আছে স্ত্রী’র চিকিৎসার পেছনেই শেষ সব কিছু। এখন আছে শুধু মাথা গুঁজবার ঠাঁই ভিটে খানি। অভাবের করালগ্রাসে সন্তানদের লেখাপড়াও করাতে পারছেন না তিনি। বড় ছেলে সাইম আহমদের বয়স চৌদ্দ। সে মাত্র ছয় হাজার টাকা মাসিক বেতনে সিলেটে একটি ফ্যাক্টরিতে কাজ করে। যে বয়সে বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা সে বয়সে করছে চাকরি, যোগান দিচ্ছে মৃত্যু পথযাত্রী মায়ের চিকিৎসা খরচের। মেঝো মেয়ে ওয়াকিয়া বেগমের বয়স ১১। পড়ছে ক্লাস ফোরে। মা অসুস্থ্য থাকায় দাদীর সাথে সব কাজ সামলায় সে-ই। নিয়মিত স্কুলেও যেতে পারে না। বাকী দুই সন্তানের একজনের নাম সিয়াম আহমদ (৮) ও ছোট মেয়ে মুনতাহা জান্নাতের বয়স দুই বছর।

‎অভাব, টানাপোড়েন আর অসুস্থতায় বিকল সুজিনা বেগমের সংসার। কেমোথেরাপি দিয়ে কিছু দিন চলেছিলেন তিনি। এখন আর পারছেন না ২০ হাজার টাকা দামের থেরাপি চালিয়ে নিতে। অসহায় ও বাধ্য হয়ে এখন হাত পেতেছেন সমাজেন বিত্তশালী মানুষের কাছে। পরম আত্মবিশ্বাস নিয়ে সহযোগিতা চেয়েছেন সুজিনা। ছোট ছোট চারটি শিশু সন্তানকে এতিম করে এতো তারাতাড়ি মরতে চাননা তিনি।

‎স্বামী ও সন্তানদের সাথে হতভাগ্য সুজিনা বেগম।

‎কে দেখবে অবুঝ এই সন্তানদের? কে দেবে তাদের মুখে আহার তুলে? মা মা বলে চিৎকার করে কাঁদলে কে তাদের সান্ত্বনা দিয়ে মায়ের আদরে কোলে তুলে নিবে? এসব বলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন একজন মমতাময়ী মা।

‎পাশে থাকা নির্বাক স্বামী আমিনুর হক হাত জোর করে করুণ ভঙ্গি আর চাহনি দিয়ে বলে দিলেন তার অপারগতার কথা। দুনিয়ার সকল অসহায়ত্ব যেনো তার এই আবদারের কাছে ধরা দিয়েছে। সাহায্য চেয়েছেন সকলের কাছে। স্ত্রী না হোক, সুজিনা বেগম একজন মা। তার চার চারটি সন্তান। তাকে বাঁচাতে করজোড়ে মিনতি করেন সমাজের সকলের কাছে। একটু একটু সহায়তা করে তাকে যেনো চিকিৎসার খরচটি জোগার করে দেন সেই প্রার্থনা দিন আনা দিন খাওয়া মানুষটির।

‎সুজিনা বেগমকে সহায়তা করতে ও তার সাথে যোগাযোগ করতে একটি বিকাশ নাম্বার দিয়েছেন তিনি। নিচে দেওয়া নাম্বারে যোগাযোগ করে তাকে সহায়তা করার অনুরোধ করেছেন সুজিনা ও তার স্বামী আইনুল হক। বিকাশ নাম্বার – 01738-924003

‎সেই সাথে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন মানবিক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, সমাজসেবী ও সহায়তাকারী ফেসবুক ব্যবহারকারীদের। তারা প্রত্যেকে যদি তাকে নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি বা অর্থ সহায়তা ক্যাম্পেইন করে চিকিৎসা সহায়তা চান দেশ, বিদেশের মানুষের কাছে তাহলে হয়তো আর মা হারা এতিম হতে হবে না সন্তানদের এমনটাই প্রত্যাশা সুজিনা বেগমের।