
মৌলভীবাজারে দুই দিনে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলার বাউরভাগ এলাকায় বাসের চাপায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে রাজনগর উপজেলায় প্রাইভেটকার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে মা ও ছেলের প্রাণহানি ঘটে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের বাউরভাগ মিনারা এলাকায় সিলেট–মৌলভীবাজার আঞ্চলিক সড়কে লন্ডন এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শ্যামলী রানী দাস (৮২) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হন। তিনি পূর্ব সাধুহাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত অমর দাসের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্যামলী রানী দাস সড়ক পারাপারের সময় সিলেট থেকে মৌলভীবাজারগামী লন্ডন এক্সপ্রেসের একটি বাসের চাপায় গুরুতর আহত হন। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ওবায়দুল্লাহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ দুর্ঘটনায় জড়িত লন্ডন এক্সপ্রেস বাসটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নিয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে সোমবার (২৯ জুন) রাতে রাজনগর উপজেলার গয়াসপুর এলাকায় সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে প্রাইভেটকার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত হন মা ও ছেলে।
নিহতরা হলেন— বড়দল গ্রামের শাহ ইদ্রিস আলীর স্ত্রী ফরিদা বেগম (৪৫) এবং তার ছেলে জুবের মিয়া (১৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুন্সিবাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে বাড়ি ফেরার পথে গয়াসপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশার যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মা ও ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।
বড়দল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালিক জানান, সংঘর্ষের পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন, তবে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন ভূইঁয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
পরপর দুটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৌলভীবাজার জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা সড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আব্দুস সামাদ আজাদ,মৌলভীবাজার থেকে 







