
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেছেন, শিক্ষার্থীদের নিজেদের স্বপ্নের পাশাপাশি পিতা-মাতা তথা দেশের আপামর জনসাধারণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের এই সময়ে শিক্ষার্থীদের পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত হবিগঞ্জের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘খোয়াই বন্ধন’ এর নবীন বরণ, বিদায় সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন। শাবিপ্রবির মিনি অডিটরিয়ামে এ বর্ণিল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
খোয়াই বন্ধনের সভাপতি তোহা মিয়ার সভাপতিত্বে ও আদনান ফারহাত এবং তুষি ঘোষের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সাধারন সম্পাদক সৌরভ গোপ অয়ন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. আহমদ জালাল ফরিদ-উস-সামাদ, ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রেদওয়ান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর সৈয়দ মিছবাহ উদ্দিন, অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. মাহবুবুল হাকিম শোভন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সাবিহা সুলতানা মেরিন,পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের এসোসিয়েট প্রফেসর ড. হাজেরা আক্তার, শারিরীক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। সম্মানীত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম শামীম। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মোঃ শামীম মিয়া ও গীতা থেকে পাঠ করেন সৌরভ চন্দ্র দাশ।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শাবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সভাপতি নোমান মিয়া, শাকির আহমেদ রিপন, শাকিল হাসান, আরমান হোসেন, মোর্শেদ হাসান, জান্নাত হোসাইন রাখি, সিয়াম আহমেদ, প্রমূখ।
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতার বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি নিজেদের শিকড় ও এলাকার প্রতি দায়বদ্ধতা থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, হবিগঞ্জ প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সেই সম্পদের সুফল যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। এলাকার প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদকে ভিত্তি করে বিভিন্ন শিল্পকারখানা গড়ে উঠলেও স্থানীয় জনগণের জন্য প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি—যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, শিল্পায়ন অবশ্যই প্রয়োজন; তবে তা হতে হবে পরিকল্পিত,পরিবেশবান্ধব ও জনকল্যাণমুখী। হবিগঞ্জের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ আহরণ ও ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে বরণ, বিদায়ী শিক্ষার্থী ও কমিটির সদস্যদের সম্মাননা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
বিশেষ প্রতিনিধি।। 


















