সিলেট ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
News Title :
ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র বাহুবল আহত অন্তত ৫০ ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি কালিম উদ্দিন আহমদ মিলন ‎শান্তিগঞ্জে পুলিশের হ্যান্ডকাফ সহ আসামির পলায়ন ‎কালিহাতী পৌরসভায় মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ শান্তিগঞ্জে মহাসড়কে টাস্কফোর্সের অভিযান‎১৭ বাসকে জরিমানা, কাগজপত্রে ত্রুটি: দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ লাখাইয়ে বিদায় ও বরণ: সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ইউএনও-এর মতবিনিময়‎ লাখাইয়ে বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহেদ আলীর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন। বিভিন্ন মহলের শোক। ‎গোপালপুরে মজলুমের কণ্ঠের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ‎মৌলভীবাজারে ডিবি ও শেরপুর পুলিশের পৃথক অভিযান ৪৫ বোতল বিদেশি মদ, গাজাসহ আটক ৬ জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে বিদায় সংবর্ধনা ও নবীনদের বরণ।
প্রশাসনের তড়িৎ হস্তক্ষেপ কামনা...

‎কাদার ফাঁদে জাফলং সংযোগপথ, শিক্ষা ও জনজীবনে চরম দুর্ভোগ‎

কাচাঁ রাস্তায়, কাদা পেরিয়ে দুই শিক্ষার্থী হেঁটে যাচ্ছে। প্রতিদিন এভাবেই পথচারী সহ মানুষ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে


‎সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের মুসলিমনগর-লাখেরপাড় থেকে জাফলং পর্যন্ত একমাত্র সংযোগপথ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা। সামান্য বৃষ্টিতেই কাঁচা পথ কাদায় ঢেকে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণের দাবিতে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

‎স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুসলিমনগর, কালিনগর, লাখেরপাড়সহ পাঁচটি আশপাশের গ্রামের মানুষের জাফলং বাজারে যাতায়াতের প্রধান ভরসা এই পথ। একই সঙ্গে শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন আমির মিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মুসলিমনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে এ পথই ব্যবহার করে।

‎বর্ষা মৌসুম কিংবা অল্প বৃষ্টিতেই পুরো পথ কাদাময় হয়ে ওঠে। ফলে পথচারীদের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। প্রায়ই শিক্ষার্থীরা পিছলে পড়ে আহত হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে বই-খাতা ও পোশাক। এমন পরিস্থিতিতে রিকশা, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচলও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

‎ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের বাইরে থাকায় এলাকাটি যোগাযোগ সংকটে ভুগছে। এতে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি সেবাগ্রহণ-সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয়দের মতে, জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত টেকসই উন্নয়ন ছাড়া বিকল্প নেই।

‎দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে মো. রাকিব হাসান, রুমি আক্তারসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। কাদার কারণে প্রায়ই পড়ে গিয়ে বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হয়। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান তারা।

‎স্থানীয় ইউপি সদস্য আওয়াল মিয়া বলেন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। বিষয়টি একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদের সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

‎পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, পথটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় এটি সংস্কারের জন্য প্রকল্প প্রস্তুতের কাজ চলছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।



‎গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, মুসলিমনগর-লাখেরপাড় থেকে জাফলং পর্যন্ত সংযোগপথ রাস্তাটি পরিদর্শন করেছি। দুরবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা  করা হচ্ছে। শিক্ষা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‎জাফলং পর্যটনাঞ্চলের নিকটবর্তী এই জনপদের মানুষের জন্য যোগাযোগব্যবস্থা শুধু চলাচলের মাধ্যম নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থানীয় অর্থনীতিরও প্রধান ভিত্তি। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগপথ উন্নয়নের বাইরে থাকায় কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতির গতি সচল রাখতে দ্রুত পাকাকরণ এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র বাহুবল আহত অন্তত ৫০

প্রশাসনের তড়িৎ হস্তক্ষেপ কামনা...

‎কাদার ফাঁদে জাফলং সংযোগপথ, শিক্ষা ও জনজীবনে চরম দুর্ভোগ‎

সময় ০৪:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
কাচাঁ রাস্তায়, কাদা পেরিয়ে দুই শিক্ষার্থী হেঁটে যাচ্ছে। প্রতিদিন এভাবেই পথচারী সহ মানুষ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে


‎সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের মুসলিমনগর-লাখেরপাড় থেকে জাফলং পর্যন্ত একমাত্র সংযোগপথ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা। সামান্য বৃষ্টিতেই কাঁচা পথ কাদায় ঢেকে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণের দাবিতে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

‎স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুসলিমনগর, কালিনগর, লাখেরপাড়সহ পাঁচটি আশপাশের গ্রামের মানুষের জাফলং বাজারে যাতায়াতের প্রধান ভরসা এই পথ। একই সঙ্গে শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন আমির মিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মুসলিমনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে এ পথই ব্যবহার করে।

‎বর্ষা মৌসুম কিংবা অল্প বৃষ্টিতেই পুরো পথ কাদাময় হয়ে ওঠে। ফলে পথচারীদের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। প্রায়ই শিক্ষার্থীরা পিছলে পড়ে আহত হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে বই-খাতা ও পোশাক। এমন পরিস্থিতিতে রিকশা, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচলও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

‎ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের বাইরে থাকায় এলাকাটি যোগাযোগ সংকটে ভুগছে। এতে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি সেবাগ্রহণ-সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয়দের মতে, জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত টেকসই উন্নয়ন ছাড়া বিকল্প নেই।

‎দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে মো. রাকিব হাসান, রুমি আক্তারসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। কাদার কারণে প্রায়ই পড়ে গিয়ে বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হয়। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান তারা।

‎স্থানীয় ইউপি সদস্য আওয়াল মিয়া বলেন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। বিষয়টি একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদের সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

‎পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, পথটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় এটি সংস্কারের জন্য প্রকল্প প্রস্তুতের কাজ চলছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।



‎গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, মুসলিমনগর-লাখেরপাড় থেকে জাফলং পর্যন্ত সংযোগপথ রাস্তাটি পরিদর্শন করেছি। দুরবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা  করা হচ্ছে। শিক্ষা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‎জাফলং পর্যটনাঞ্চলের নিকটবর্তী এই জনপদের মানুষের জন্য যোগাযোগব্যবস্থা শুধু চলাচলের মাধ্যম নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থানীয় অর্থনীতিরও প্রধান ভিত্তি। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগপথ উন্নয়নের বাইরে থাকায় কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতির গতি সচল রাখতে দ্রুত পাকাকরণ এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি।