
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কবরস্থানের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নাইম সওদাগর (১৮) নামে এক কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।
আজ বুধবার ২৫ মার্চ সকালে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের রামদেবপুর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত নাইম সওদাগর রামদেবপুর গ্রামের ওসমান সওদাগরের ছেলে এবং হাতিয়া কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রামদেবপুর দক্ষিণপাড়া কবরস্থানের জমি নিয়ে ওই গ্রামের সওদাগর ও সিকদার পরিবারের মধ্যে গত আড়াই মাস ধরে বিরোধ চলছিল। ইতিপূর্বে একাধিকবার ঝগড়া ও হামলার ঘটনা ঘটলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় মীমাংসার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। এমনকি এই বিরোধের জেরে গত ঈদুল ফিতরে দুই পক্ষ আলাদা জামাতে নামাজ আদায় করেন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় জমি নিয়ে পুনরায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার সকালে কয়েক দফায় সংঘর্ষ বাধে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে নাইম সওদাগর দলবল নিয়ে সিকদার পক্ষের হামিদ মন্ডলের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় সিকদার পরিবারের লোকজন পাল্টা আক্রমণ করলে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষে দুই পরিবারের অন্তত ৮ জন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে কলেজ ছাত্র নাইম সওদাগর মারা যান। অন্যান্য আহতদের মধ্যে রয়েছেন,
সওদাগর পক্ষের মাজাহারুল ইসলাম (১৮), সাকিল সওদাগর (২৩) ও বক্কর সওদাগর (২০)।
সিকদার পক্ষের হবিবর রহমান সিকদার (৪৫), আব্দুল আজিজ সিকদার (৭৬), মামুন সিকদার (৩৫) ও হাফিজুর সিকদার (৩১)।
আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে হবিবর রহমান সিকদারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেওএম তৌফিক আজম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কবরস্থানের জমি নিয়ে বিরোধেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি 


















