
টাঙ্গাইল দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘আড়ং’-এর টাঙ্গাইল শাখায় কর্মরত হাই-এন্ড সিকিউরিটি সুপারভাইজার গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এক নারী কর্মীকে অনৈতিক প্রস্তাব, ঘুষ গ্রহণ ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নারী সিকিউরিটি গার্ড উর্মী আক্তার এসব অভিযোগ তুলে ধরে বিচার দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী উর্মী আক্তার জানান, তিনি গত ৭ মাস ধরে সুনামের সাথে আড়ংয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার অভিযোগ, সুপারভাইজার গৌরাঙ্গ বিশ্বাস নারী কর্মীদের সাথে নিয়মিত অশালীন আচরণ করেন এবং তুচ্ছ বিষয়ে তাদের অনৈতিক প্রস্তাব দেন। নিয়ম মেনে ২৪ ঘণ্টা আগে ছুটির আবেদন করলেও গৌরাঙ্গ সিন্ডিকেট নারী কর্মীদের বেতন কেটে রাখেন। এমনকি পিরিয়ড চলাকালীন ছুটির প্রয়োজন হলেও গালিগালাজ ও মানসিক হেনস্তার শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
উর্মী আক্তার জানান, গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে টাঙ্গাইল সদর থেকে তাৎক্ষণিক সাভারের ইপিজেড এলাকায় বদলি করা হয়েছে। উর্মীর দাবি, সুপারভাইজার তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং চাকরিচ্যুতির হুমকি দিচ্ছেন। যদিও উর্মী চাকুরী নেয়ার সময় গৌরাঙ্গ কে বলেছিল আমি টাঙ্গাইলের বাহিরে চাকুরী করব না। সে-সময় গৌরাঙ্গ বলেছিল, যতদিন চাকুরী করবে তুমি টাঙ্গাইলের আড়ংয়ে করবে। কিন্তু তার যোগসাজশে তাকে তাৎক্ষণিক বদলী করে গৌরাঙ্গ গংরা।
তদন্তে জানা গেছে, গৌরাঙ্গ বিশ্বাস নতুন নিয়োগের নামে বাণিজ্য ফেঁদে বসেছেন। একেকজন নতুন কর্মীর নিয়োগ দিলেই তার লাভ। নতুন কর্মীর কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী উর্মী নিজেও ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। অভিযোগ আছে, গৌরাঙ্গ নিয়মিত অনলাইন জুয়া ও নেশায় আসক্ত! জুয়ার টাকা জোগাতে তিনি অধীনস্থ কর্মীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মী জানান, ঢাকা অফিসের দেলোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তার সাথে গৌরাঙ্গের দহরম-মহরম রয়েছে। তাদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে ম্যানেজ করে রাখার কারণে বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না। যারা গৌরাঙ্গের কথা মতো চলে না বা অনৈতিক সুবিধা দেয় না, তাদের ওপরই নেমে আসে ছাঁটাই বা বদলির খড়গ। অথচ সকাল ৯টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত নারী পুরুষ সিকিউরিটি গার্ডদের ডিউটি করাচ্ছে তারা। অথচ শ্রম আইনে আছে একজন কর্মচারী ৮ টার বেশি ডিউটি করা নিয়ম। কিন্তু আড়ংয়ে বেলায় ব্যতিক্ষম! কোন প্রকার ওভার টাইমও নেই।
এটা একটা অমানবিক কাজ। মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল! কিন্তু আড়ংয়ে মত প্রতিষ্ঠানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। নারী কর্মীরা অভিযোগ করেন একটানা ১২ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। শুধু মাত্র খাবার সময় বসার সুযোগ পায় নারী কর্মীরা। এতে তাদের শারীরিক নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
আড়ংয়ে একজন সাংবাদিক, এসব বিষয়ে সরেজমিনে কাস্টমার সেজে অবলোকন করে অভিযোগের সততা পান। নারীদের অমানবিক কাজ করাচ্ছে এসব তথাকথিত সিকিউরিটি কোম্পানির লোকজন। পদে পদে নারীদের অবমাননা করা হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানে! একজন মানবাধিকার কর্মী দাবী করেন, আড়ংয়ে মত একটি প্রতিষ্ঠানে কিভাবে নারীদের অবমাননা করা হয় এটা খুবই অমানবিক। তা হলে কি আড়ং তাদের কথার সাথে কাজের কোথাও মিল নেই, এসব অভিযোগ মানবাধিকা কর্মী সহ সাধারণ মানুষদের।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত গৌরাঙ্গ বিশ্বাস তার বিরুদ্ধে ওঠা মাদক, জুয়া ও যৌন হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে কোনো কারণ ছাড়া একজন নারী কর্মীকে কেন হঠাৎ বদলি করা হলো, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
অন্যদিকে, আড়ং টাঙ্গাইল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে ভুক্তভোগী উর্মী টাঙ্গাইল আড়ংয়ের ম্যানেজারের কাছে অভিযোগ করলে তিনি জানান, এটি সিকিউরিটি কোম্পানির অভ্যন্তরীণ বিষয়, এতে আড়ংয়ের কিছু করার নেই।
ভুক্তভোগী উর্মী আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আড়ংয়ের মতো একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান যেখানে নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করে, সেখানে গৌরাঙ্গের মতো একজন লম্পট ও নেশাখোর কীভাবে বহাল তবিয়তে থাকে? আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি 

















