সিলেট ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
News Title :
‎ওসমানীনগরে পুকুর ঘাট থেকে বিদেশি রিভলবার উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ ‎মানবিক উদ্যোগে আলোকিত ভবিষ্যৎ—গোরারাইয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে প্রাক্তন ছাত্ররা‎ ‎বিয়ানীবাজারে সড়ক দূর্ঘটনায় দুই তরুণের মৃত্যু ‎টাঙ্গাইলে র‍্যাবের জোড়া অভিযান: ১৪৫ বোতল ফেনসিডিলসহ ২ কারবারি আটক, অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার ‎টাঙ্গাইল আড়ংয়ের সিকিউরিটি সুপারভাইজার গৌরাঙ্গের বিরুদ্ধে নারী কর্মীকে হয়রানি ও ঘুষের অভিযোগ! ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে পূর্ণ মন্ত্রী: সিলেটের রাজনীতিতে আরিফুল হক চৌধুরীর ‘ম্যাজিক’ ‎সেরা সাংবাদিকতার স্বীকৃতি: প্রতিদিনের কাগজে গৌরবের ২২ ফেব্রুয়ারি ‎টাঙ্গাইলে জমকালো আয়োজনে ‘কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট’ সম্পন্ন‎ টাঙ্গাইল-৬: ধানের শীষের জয়, জামানত হারালেন ৫ প্রার্থী শ্যালিকাকে ধর্ষণ করে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগ: র‍্যাবের হাতে সেতু গ্রেফতার।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে পূর্ণ মন্ত্রী: সিলেটের রাজনীতিতে আরিফুল হক চৌধুরীর ‘ম্যাজিক’

আরিফুল হক চৌধুরী, মাননীয় মন্ত্রী। ছবি সংগৃহীত।



‎আল্লাহ চাইলে যে কোনো মানুষকে সম্মানিত করতে পারেন—সিলেটের গণমানুষের নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর ক্ষেত্রে এই বাক্যটি যেন আজ ধ্রুব সত্য। এক সময়কার ওয়ার্ড কমিশনার থেকে আজ তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


‎আরিফুল হক চৌধুরীর রাজনীতির হাতেখড়ি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠালগ্নে। রাজপথের লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি উঠে এসেছেন। দায়িত্ব পালন করেছেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সদস্য এবং বিএনপির জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক এবং মহানগর সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তিনি নিজেকে দলের অপরিহার্য নেতা হিসেবে প্রমাণ করেছেন। এক পর্যায়ে তিনি জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেন।


‎তার জনপ্রতিনিধি হওয়ার যাত্রা শুরু হয়েছিল সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে। এরপর তিনি সিলেট নগর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হন। সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে সিলেটের আধুনিকায়নে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।


‎২০১৩ সালে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বদরুদ্দীন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন আরিফুল হক চৌধুরী। তবে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে জড়িয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তিন বছরের দীর্ঘ কারাবরণও তার জনপ্রিয়তা কমাতে পারেনি। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে মাত্র কয়েক মাসেই তিনি সিলেটের উন্নয়নের ভোল বদলে দেন। ফলে পরের নির্বাচনেও নগরবাসী তাকে পুনরায় মেয়র হিসেবে বেছে নেয়। যদিও তৎকালীন সরকার তাকে প্রাপ্য ‘প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা’ দেয়নি, কিন্তু তিনি দমে যাননি। হকারমুক্ত ফুটপাত ও যানজটমুক্ত নগরী গড়তে তার প্রচেষ্টা সিলেটে কিংবদন্তিতুল্য।


‎২০২৩ সালে দলের নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও মেয়র নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তবে জনগণের ভালোবাসা থেকে তাকে দূরে রাখা যায়নি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে মাত্র কয়েক দিনের প্রচারণায় তিনি লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।


‎‎অবশেষে মঙ্গলবার তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের মুকুটে যুক্ত হলো নতুন পালক। দুই মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার মাধ্যমে তিনি এখন সিলেটের উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও নেতৃত্ব দেবেন। জনতার নেতা থেকে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক হওয়ার এই সফরকে সিলেটের সাধারণ মানুষ দেখছে ত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন হিসেবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎ওসমানীনগরে পুকুর ঘাট থেকে বিদেশি রিভলবার উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯

ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে পূর্ণ মন্ত্রী: সিলেটের রাজনীতিতে আরিফুল হক চৌধুরীর ‘ম্যাজিক’

সময় ১১:৪৯:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
আরিফুল হক চৌধুরী, মাননীয় মন্ত্রী। ছবি সংগৃহীত।



‎আল্লাহ চাইলে যে কোনো মানুষকে সম্মানিত করতে পারেন—সিলেটের গণমানুষের নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর ক্ষেত্রে এই বাক্যটি যেন আজ ধ্রুব সত্য। এক সময়কার ওয়ার্ড কমিশনার থেকে আজ তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


‎আরিফুল হক চৌধুরীর রাজনীতির হাতেখড়ি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠালগ্নে। রাজপথের লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি উঠে এসেছেন। দায়িত্ব পালন করেছেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সদস্য এবং বিএনপির জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক এবং মহানগর সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তিনি নিজেকে দলের অপরিহার্য নেতা হিসেবে প্রমাণ করেছেন। এক পর্যায়ে তিনি জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেন।


‎তার জনপ্রতিনিধি হওয়ার যাত্রা শুরু হয়েছিল সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে। এরপর তিনি সিলেট নগর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হন। সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে সিলেটের আধুনিকায়নে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।


‎২০১৩ সালে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বদরুদ্দীন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন আরিফুল হক চৌধুরী। তবে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে জড়িয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তিন বছরের দীর্ঘ কারাবরণও তার জনপ্রিয়তা কমাতে পারেনি। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে মাত্র কয়েক মাসেই তিনি সিলেটের উন্নয়নের ভোল বদলে দেন। ফলে পরের নির্বাচনেও নগরবাসী তাকে পুনরায় মেয়র হিসেবে বেছে নেয়। যদিও তৎকালীন সরকার তাকে প্রাপ্য ‘প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা’ দেয়নি, কিন্তু তিনি দমে যাননি। হকারমুক্ত ফুটপাত ও যানজটমুক্ত নগরী গড়তে তার প্রচেষ্টা সিলেটে কিংবদন্তিতুল্য।


‎২০২৩ সালে দলের নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও মেয়র নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তবে জনগণের ভালোবাসা থেকে তাকে দূরে রাখা যায়নি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে মাত্র কয়েক দিনের প্রচারণায় তিনি লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।


‎‎অবশেষে মঙ্গলবার তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের মুকুটে যুক্ত হলো নতুন পালক। দুই মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার মাধ্যমে তিনি এখন সিলেটের উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও নেতৃত্ব দেবেন। জনতার নেতা থেকে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক হওয়ার এই সফরকে সিলেটের সাধারণ মানুষ দেখছে ত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন হিসেবে।