
হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে এক সপ্তাহের ভিতরে দুই আসামীর মৃত্যুর ঘটনায় শংকিত হয়ে পড়ছেন আসামীগণ।
কারাগার সূত্রে জানাযায়, মাধবপুর উপজেলার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীর মামলায় দুলাল মিয়া (৫৫) নামে আওয়ামীলীগের এক নেতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ মাস খানেক ধরে কারাভোগ করে আসছিলেন।
১১জানুয়ারি কারাগারের ভিতরে হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক কারা কর্তৃপক্ষ উক্ত আসামীকে চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে ভর্তী করিয়ে চিকিৎসা চালান।
কিন্তু সেখানে তার অবস্থার অবনতির দিকে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
কতৃপক্ষ তাকে দ্রুত (রোববার) সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তী করা হয়।
১২জানুয়ারি (সোমবার) তার অবস্থার অবনতি ঘটলে দুলাল মিয়া (৫৫) মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়েন।
নিহত দুলাল মিয়া মাধবপুর উপজেলার ৬নং শাহজাহানপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তিনি তেলিয়াপাড়া গোয়াছ নগর গ্রামের মরহুম হাজী মোস্তুব আলীর পুত্র। নিহত দুলাল মিয়ার পরিবার সূত্রে জানাযায়, তিনি একজন সুনামধন্য ব্যবসায়ী ছিলেন। পাশাপাশি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।
২০২৪ইং সনের বৈষম্য বিরোধী এক দফা ছাত্র আন্দোলনের পর যখন ৫ আগষ্ট সরকার দেশ ত্যাগ করে এরপর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ছাত্রদের ঘটনায় অনেক মামলা দায়ের করা হয়।
এসব মামলায় গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আওয়ামীলীগ নেতা দুলাল মিয়াকে গ্রেফতার করে মাধবপুর থানা পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ ১ মাস ধরে কারাভোগ করে আসছিলেন নিহত এই আওয়ামীলীগ নেতা দুলাল মিয়া।
এদিকে দুলাল মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেল সুপার বিল্লাল হোসেন। তিনি আরও বলেন,আইনী পক্রিয়া শেষে (মঙ্গলবার)তার মরদেহটি পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য,চলতি মাসের ৫ জানুয়ারি কারাগারে ভেতর রফিক মিয়া (৪৫) নামের আরও একজন হত্যা মামলার আসামী মৃত্যু বরণ করেন।
নিহত রফিক মিয়া বানিয়াচং উপজেলার ৬নং কাগাপাশা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাতাকান্দী গ্রামের হযরত আলী হত্যা মামলার ২নং আসামী ছিলেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর উক্ত মামলায় আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন না-মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ প্রদান করেন।
তারপর থেকে দীর্ঘ ৪ মাস যাবত তিনি কারাভোগ করে আসছিলেন। হঠাৎ তার বুকে ব্যাথা অনুভব হলে কারা কতৃপক্ষ তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ৬ জানুয়ারি রফিক মিয়ার ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের নিকট মরদেহটি হস্তান্তর করেন কারা কতৃপক্ষ।
এদিকে এক সপ্তাহের ভিতরে কারাগারে ২ আসামীর মৃত্যুর ঘটনায় অন্যান্য আসামীদের মধ্যে এক আতংক বিরাজ করার খবর পাওয়া যায়!
এ আর রুমন। 

















