সিলেট ০৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
News Title :
‎নিষ্ক্রিয় করা হলো বানিয়াচংয়ের কৃষি জমিতে উদ্ধার হওয়া শক্তিশালী গ্রেনেডটি। মৌলভীবাজারে VCNB বিষয়ক প্রশিক্ষণ‎ কর্মশালা অনুষ্ঠিত ‎বানিয়াচংয়ে টি-আর গ্যাস গ্রেনেড উদ্ধার, আসছে সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল সীমান্ত সুরক্ষা ও নির্বাচনী নিরাপত্তায় বিজিবির কঠোর নজরদারি থাকবে। ‎মৌলভীবাজারে হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রহ.)-এর ৬৮৫তম ওরস আগামীকাল।‎ ধনবাড়ীতে ‘জান ফুডস’ চিপস ফ্যাক্টরিতে ভয়াবহ আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। ‎২২ জানুয়ারী সিলেটে আসছেন তারেক রহমান‎ ‎শেরপুরের মাছের মেলা‎ বিলীন হতে বসা দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য সিলেটে চোরাই মোটরসাইকেল ও নগদ টাকাসহ ২ জন গ্রেফতার। ‎টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের সদস্য সচিব বাবু বহিষ্কার, নতুন দায়িত্বে- মালা

‎শেরপুর নতুন বস্তি থেকে নাবালিকা অপহরণ থানায় লিখিত অভিযোগ?





‎মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর নতুন বস্তি এলাকা থেকে এক নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও ভিকটিম পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ অপহরণ।

‎ভিকটিমের মা অভিযোগ করে বলেন, একই এলাকার লায়েছ মিয়ার বখাটে ছেলে ঈমন মিয়া (৩০) দীর্ঘদিন ধরে তার নাবালিকা মেয়ে সুজিনা বেগম (১৫)  কে উত্যক্ত করে আসছিল। একপর্যায়ে সে ও তার পরিবার মেয়েটিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। মেয়েটি নাবালিকা হওয়ায় এবং বিষয়টি আইনবিরোধী হওয়ায় তিনি স্পষ্টভাবে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঈমন মিয়া  ও তার পরিবার প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে ওঠে।

‎অপহৃত সুজিনা বেগমের মা অভিযোগ করে বলেন গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোর রাতের কোনো এক সময়ে ঈমন মিয়া  তার পিতা লায়েছ মিয়া,হেলাল মিয়া,আলমগীর মিয়া,রানু মিয়াসহ ৪ থেকে ৫ জন সহযোগী নিয়ে শেরপুর নতুন বস্তিতে ভিকটিমের বসতঘরে হানা দেয়। রাতের আঁধারকে কাজে লাগিয়ে তারা জোরপূর্বক নাবালিকা কে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা আতংকে চিৎকার করলেও আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেনি বলে অভিযোগ করেন মেয়েটির মা।

‎ঘটনার পরপরই পরিবার ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তবে অপহৃত নাবালিকার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। ভিকটিমের মা বলেন,আমার মেয়ে নাবালিকা। তাকে কোথায় নিয়ে গেছে জানি না। আমি আমার মেয়েকে জীবিত ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরে চাই।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ঈমন মিয়ার বিরুদ্ধে আগেও এলাকায় বখাটেপনা ও উত্ত্যক্তের অভিযোগ থাকলেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সে এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল জানা গেছ। তারা মনে করছেন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকায় এমন অপরাধ বারবার ঘটছে।

‎এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে ভিকটিমের পরিবার অভিযোগ করছে, অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক অভিযানের বিষয়ে তারা এখনো আশানুরূপ সাড়া পায়নি।

‎এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার  মডেল থানার নিয়ন্ত্রণাধীন শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ  শিপু কুমার দাস বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎এদিকে সমাজকর্মী ইয়াসিন সেলিম বলছেন, নাবালিকা অপহরণ শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়; এটি শিশু সুরক্ষা, নারী নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের প্রতি চরম অবহেলার প্রতিফলন। তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, অপহৃত শিশুকে উদ্ধার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

‎স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত অভিযান না চালানো হলে অপহৃত নাবালিকার জীবন ও ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎নিষ্ক্রিয় করা হলো বানিয়াচংয়ের কৃষি জমিতে উদ্ধার হওয়া শক্তিশালী গ্রেনেডটি।

‎শেরপুর নতুন বস্তি থেকে নাবালিকা অপহরণ থানায় লিখিত অভিযোগ?

সময় ০৪:০৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬





‎মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর নতুন বস্তি এলাকা থেকে এক নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও ভিকটিম পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ অপহরণ।

‎ভিকটিমের মা অভিযোগ করে বলেন, একই এলাকার লায়েছ মিয়ার বখাটে ছেলে ঈমন মিয়া (৩০) দীর্ঘদিন ধরে তার নাবালিকা মেয়ে সুজিনা বেগম (১৫)  কে উত্যক্ত করে আসছিল। একপর্যায়ে সে ও তার পরিবার মেয়েটিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। মেয়েটি নাবালিকা হওয়ায় এবং বিষয়টি আইনবিরোধী হওয়ায় তিনি স্পষ্টভাবে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঈমন মিয়া  ও তার পরিবার প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে ওঠে।

‎অপহৃত সুজিনা বেগমের মা অভিযোগ করে বলেন গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোর রাতের কোনো এক সময়ে ঈমন মিয়া  তার পিতা লায়েছ মিয়া,হেলাল মিয়া,আলমগীর মিয়া,রানু মিয়াসহ ৪ থেকে ৫ জন সহযোগী নিয়ে শেরপুর নতুন বস্তিতে ভিকটিমের বসতঘরে হানা দেয়। রাতের আঁধারকে কাজে লাগিয়ে তারা জোরপূর্বক নাবালিকা কে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা আতংকে চিৎকার করলেও আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেনি বলে অভিযোগ করেন মেয়েটির মা।

‎ঘটনার পরপরই পরিবার ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তবে অপহৃত নাবালিকার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। ভিকটিমের মা বলেন,আমার মেয়ে নাবালিকা। তাকে কোথায় নিয়ে গেছে জানি না। আমি আমার মেয়েকে জীবিত ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরে চাই।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ঈমন মিয়ার বিরুদ্ধে আগেও এলাকায় বখাটেপনা ও উত্ত্যক্তের অভিযোগ থাকলেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সে এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল জানা গেছ। তারা মনে করছেন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকায় এমন অপরাধ বারবার ঘটছে।

‎এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে ভিকটিমের পরিবার অভিযোগ করছে, অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক অভিযানের বিষয়ে তারা এখনো আশানুরূপ সাড়া পায়নি।

‎এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার  মডেল থানার নিয়ন্ত্রণাধীন শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ  শিপু কুমার দাস বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎এদিকে সমাজকর্মী ইয়াসিন সেলিম বলছেন, নাবালিকা অপহরণ শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়; এটি শিশু সুরক্ষা, নারী নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের প্রতি চরম অবহেলার প্রতিফলন। তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, অপহৃত শিশুকে উদ্ধার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

‎স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত অভিযান না চালানো হলে অপহৃত নাবালিকার জীবন ও ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।