সিলেট ১২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
News Title :
ইয়াবা সেবনের দায়ে বাহুবলে এক ব্যক্তির ৬ মাসের কারাদণ্ড ‎স্পেনে বাইসাইকেল গ্যারেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশীর তরুণে মৃত্যু বানিয়াচং জনাব আলী সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক অনুপ রায় এর অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা ‎মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু: বানিয়াচংয়ের বিদায়ী ইউএনও কে সংবর্ধনা প্রদান। ‎গোয়াইনঘাটে নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হবিগঞ্জে সংরক্ষিত বন থেকে বাঁশ পাচার, মিনি ট্রাক জব্দ ‎প্রশাসন ক্যাডারের ২৭ উপসচিবকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পদায়ন ‎বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইন স্পেনের আংশিক কমিটি ঘোষণা, সভাপতি বকুল খান সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান ‎বানিয়াচংয়ে ফুটবল খেলা নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ।। আহত শতাধিক: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের টিয়ারশেল ‎হবিগঞ্জ সীমান্তে চোরাকারবারিদের গুলিতে বাংলাদেশি এক যুবক নিহত: বিজিবি‎

‎মৌলভীবাজার রাজনগর উপজেলা পরিষদের সিএ অনুপ দাসের কোটি টাকার জালিয়াতি আলোচনায়; প্রশাসনে তোলপাড়!

অনুপ দাস, (ফাইল ছবি)





‎রাজনগর উপজেলা পরিষদের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর অনুপ দাস চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে অল্প সময়ে কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন—এমন অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় চলছে উপজেলা প্রশাসনে। সরকারি বিভিন্ন তহবিলের বিপুল অর্থ ভ্যাট–ট্যাক্স বাবদ জমা না দিয়ে নিজের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর ও নগদ উত্তোলনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি এখন জেলার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।


‎মৌলভীবাজারের সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেনের সাম্প্রতিক পরিদর্শনে ক্যাশবই ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট মিলিয়ে দেখার সময় জালিয়াতির তথ্য ধরা পড়ে। এরপর থেকেই প্রশাসনের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে—এত বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারী কীভাবে দীর্ঘদিন নজরদারির বাইরে থাকলেন? সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘটনাটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে।


‎সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অনুপ দাস ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর রাজনগরে সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে যোগ দেন। বিভিন্ন অভিযোগের কারণে গেল ১৬ সেপ্টেম্বর তাকে বড়লেখায় বদলি করা হয়। কিন্তু বদলি হওয়ার আগের চার মাসেই তিনি ১ কোটি ৫১ লাখ ৫১ হাজার ৪৫৫ টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ আছে।


‎জেলা প্রশাসকের নির্দেশে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোসা. শাহিনা আক্তার তদন্ত শুরু করলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়,উপজেলা হাট-বাজার তহবিল থেকে ৮০ লাখ ৫১ হাজার ৪৫৫ টাকা

‎রাজস্ব তহবিল থেকে ৪০ লাখ টাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে ৩১ লাখ টাকা এসব অর্থের একটি বড় অংশ অনুপ দাস নিজের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেন এবং কিছু টাকা নগদ উত্তোলন করেন।


‎পরিষদের একটি সূত্র জানায়, অনুপ দাস কৌশলে নির্ধারিত চেকগুলোতে কিছু জায়গা ফাঁকা রেখে ইউএনও’র সামনে স্বাক্ষরের জন্য উপস্থাপন করতেন। স্বাক্ষর হয়ে গেলে পরে সেই চেকে টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতেন। রাজনগরে জালিয়াতি ধরা পড়ার পর বড়লেখা উপজেলাতেও অনুসন্ধান চালানো হয়, সেখানে একই কায়দায় আরও ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।


‎উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় এ সম্পর্কিত নথিপত্র ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের তদন্তেও অনুপ দাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।


‎অভিযুক্ত সাঁট মুদ্রাক্ষরিক অনুপ দাসের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনা সম্পর্কে জানতে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ফাতেমা তুজ জোহরার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়াবা সেবনের দায়ে বাহুবলে এক ব্যক্তির ৬ মাসের কারাদণ্ড

‎মৌলভীবাজার রাজনগর উপজেলা পরিষদের সিএ অনুপ দাসের কোটি টাকার জালিয়াতি আলোচনায়; প্রশাসনে তোলপাড়!

সময় ১১:৪৭:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

অনুপ দাস, (ফাইল ছবি)





‎রাজনগর উপজেলা পরিষদের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর অনুপ দাস চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে অল্প সময়ে কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন—এমন অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় চলছে উপজেলা প্রশাসনে। সরকারি বিভিন্ন তহবিলের বিপুল অর্থ ভ্যাট–ট্যাক্স বাবদ জমা না দিয়ে নিজের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর ও নগদ উত্তোলনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি এখন জেলার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।


‎মৌলভীবাজারের সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেনের সাম্প্রতিক পরিদর্শনে ক্যাশবই ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট মিলিয়ে দেখার সময় জালিয়াতির তথ্য ধরা পড়ে। এরপর থেকেই প্রশাসনের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে—এত বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারী কীভাবে দীর্ঘদিন নজরদারির বাইরে থাকলেন? সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘটনাটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে।


‎সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অনুপ দাস ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর রাজনগরে সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে যোগ দেন। বিভিন্ন অভিযোগের কারণে গেল ১৬ সেপ্টেম্বর তাকে বড়লেখায় বদলি করা হয়। কিন্তু বদলি হওয়ার আগের চার মাসেই তিনি ১ কোটি ৫১ লাখ ৫১ হাজার ৪৫৫ টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ আছে।


‎জেলা প্রশাসকের নির্দেশে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোসা. শাহিনা আক্তার তদন্ত শুরু করলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়,উপজেলা হাট-বাজার তহবিল থেকে ৮০ লাখ ৫১ হাজার ৪৫৫ টাকা

‎রাজস্ব তহবিল থেকে ৪০ লাখ টাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে ৩১ লাখ টাকা এসব অর্থের একটি বড় অংশ অনুপ দাস নিজের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেন এবং কিছু টাকা নগদ উত্তোলন করেন।


‎পরিষদের একটি সূত্র জানায়, অনুপ দাস কৌশলে নির্ধারিত চেকগুলোতে কিছু জায়গা ফাঁকা রেখে ইউএনও’র সামনে স্বাক্ষরের জন্য উপস্থাপন করতেন। স্বাক্ষর হয়ে গেলে পরে সেই চেকে টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতেন। রাজনগরে জালিয়াতি ধরা পড়ার পর বড়লেখা উপজেলাতেও অনুসন্ধান চালানো হয়, সেখানে একই কায়দায় আরও ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।


‎উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় এ সম্পর্কিত নথিপত্র ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের তদন্তেও অনুপ দাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।


‎অভিযুক্ত সাঁট মুদ্রাক্ষরিক অনুপ দাসের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনা সম্পর্কে জানতে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ফাতেমা তুজ জোহরার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।