সিলেট ০৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
News Title :
‎শ্রীমঙ্গলে তৃতীয় শ্রেনির এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগ, ধর্ষক আটক টাঙ্গাইলে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নবীগঞ্জে ফারিয়ার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত, সংগঠন শক্তিশালীকরণে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা‎ শান্তিগঞ্জে সচেতন নাগরিক পরিষদের কর্মী সম্মেলন,সভাপতি মঞ্জুর, সম্পাদক সিতু‎ ‎প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার সফর ঘিরে উৎসবের আমেজ, উন্নায়ন প্রত্যাশায় জেলাবাসী যমুনার ভাঙনে ভূঞাপুরে চরম সংকট আতঙ্কে নদীপাড়ের হাজারো মানুষ হবিগঞ্জে খোয়াই নদীতে নিখোঁজের চার দিন পর ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার‎ ‎প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনে উৎসবের জনপদ মৌলভীবাজার, পৌঁছেছে ‘লাল-সবুজ’ বাস‎ ‎জামালপুরে ব্র্যাক কর্তৃক নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে অ্যাডভোকেসি ডায়লগ অনুষ্ঠিত হবিগঞ্জে শরীরে লুকিয়ে রাখা ২ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

‎মৌলভীবাজারের শেরপুরে পুলিশের অভিযানে ৩.৩ টন অবৈধ পণ্য জব্দ,আটক-১‎




সীমান্তবর্তী জেলা মৌলভীবাজার দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানকারীদের নজরে। কখনও গরু, কখনও মাদক, আবার কখনও নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য—বিভিন্ন কৌশলে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে অবৈধ মালামাল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা।

‎গত ৩ মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুর পয়েন্টে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্যারিকেড বসিয়ে তল্লাশি শুরু করা হয়। ঠিক তখনই সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রাক থামানোর সংকেত দিলে চালক পালানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের কৌশলী অবস্থানে আটক হয় ট্রাকটি।

‎তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে চমকপ্রদ তথ্য—ট্রাকে রয়েছে ১১০ বস্তা জিরা, প্রতিটি বস্তায় ৩০ কেজি করে। মোট ওজন দাঁড়ায় ৩.৩ মেট্রিক টন (৩,৩০০ কেজি)। বাজারমূল্য আনুমানিক প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এছাড়া ট্রাকে ১৫০ ফুট বালুও পাওয়া যায়, যা পণ্য আড়াল করার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।

‎আটক চালক রবিউল ইসলাম (৩৭) পাবনা জেলার সাথিয়া উপজেলার বাসিন্দা। তবে এ সময় ট্রাক থেকে আরেক ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পালাতক আসামি হিসেবে জিসান (২৫) নামে একজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ।

‎পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিরাগুলো সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে চোরাইপথে দেশে এনে ঢাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু জব্দকৃত পণ্যের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি আটক ব্যক্তি। ফলে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

‎বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মসলা জাতীয় পণ্যের বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় চোরাচালানকারীরা এগুলোকে টার্গেট করছে। শুল্ক ও ভ্যাট এড়িয়ে বাজারে কম দামে বিক্রি করে তারা দ্রুত লাভবান হচ্ছে। এতে একদিকে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে বৈধ ব্যবসায়ীরা পড়ছেন প্রতিযোগিতার চাপে।

‎স্থানীয়দের মতে, মহাসড়ক ব্যবহার করে রাতের আঁধারে পণ্য পরিবহন চোরাচালানকারীদের একটি পরিচিত কৌশল। তবে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি বাড়ালে এ ধরনের অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

‎শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শিপু কুমার দাস জানিয়েছেন, পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত ও মহাসড়ক এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
‎সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলে চোরাচালান রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতা কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎শ্রীমঙ্গলে তৃতীয় শ্রেনির এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগ, ধর্ষক আটক

‎মৌলভীবাজারের শেরপুরে পুলিশের অভিযানে ৩.৩ টন অবৈধ পণ্য জব্দ,আটক-১‎

সময় ০২:৩১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬




সীমান্তবর্তী জেলা মৌলভীবাজার দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানকারীদের নজরে। কখনও গরু, কখনও মাদক, আবার কখনও নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য—বিভিন্ন কৌশলে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে অবৈধ মালামাল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা।

‎গত ৩ মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুর পয়েন্টে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্যারিকেড বসিয়ে তল্লাশি শুরু করা হয়। ঠিক তখনই সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রাক থামানোর সংকেত দিলে চালক পালানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের কৌশলী অবস্থানে আটক হয় ট্রাকটি।

‎তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে চমকপ্রদ তথ্য—ট্রাকে রয়েছে ১১০ বস্তা জিরা, প্রতিটি বস্তায় ৩০ কেজি করে। মোট ওজন দাঁড়ায় ৩.৩ মেট্রিক টন (৩,৩০০ কেজি)। বাজারমূল্য আনুমানিক প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এছাড়া ট্রাকে ১৫০ ফুট বালুও পাওয়া যায়, যা পণ্য আড়াল করার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।

‎আটক চালক রবিউল ইসলাম (৩৭) পাবনা জেলার সাথিয়া উপজেলার বাসিন্দা। তবে এ সময় ট্রাক থেকে আরেক ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পালাতক আসামি হিসেবে জিসান (২৫) নামে একজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ।

‎পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিরাগুলো সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে চোরাইপথে দেশে এনে ঢাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু জব্দকৃত পণ্যের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি আটক ব্যক্তি। ফলে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

‎বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মসলা জাতীয় পণ্যের বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় চোরাচালানকারীরা এগুলোকে টার্গেট করছে। শুল্ক ও ভ্যাট এড়িয়ে বাজারে কম দামে বিক্রি করে তারা দ্রুত লাভবান হচ্ছে। এতে একদিকে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে বৈধ ব্যবসায়ীরা পড়ছেন প্রতিযোগিতার চাপে।

‎স্থানীয়দের মতে, মহাসড়ক ব্যবহার করে রাতের আঁধারে পণ্য পরিবহন চোরাচালানকারীদের একটি পরিচিত কৌশল। তবে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি বাড়ালে এ ধরনের অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

‎শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শিপু কুমার দাস জানিয়েছেন, পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত ও মহাসড়ক এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
‎সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলে চোরাচালান রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতা কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়