সিলেট ১০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
News Title :
গোলাপগঞ্জে ২১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২, নগদ টাকা উদ্ধার ‎জৈন্তাপুর সীমান্তে ওয়াচ টাওয়ারে বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ‎জামালপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত লাখাইয়ে নতুন ইউএনও তারেক হাসান, এর যোগদান ‎বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বানিয়াচংয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালী। ইয়াবা সেবনের দায়ে বাহুবলে এক ব্যক্তির ৬ মাসের কারাদণ্ড ‎স্পেনে বাইসাইকেল গ্যারেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশীর তরুণে মৃত্যু বানিয়াচং জনাব আলী সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক অনুপ রায় এর অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা ‎মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু: বানিয়াচংয়ের বিদায়ী ইউএনও কে সংবর্ধনা প্রদান। ‎গোয়াইনঘাটে নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক ‘ধনবাড়ী নবাববাড়ি’

ধনবাড়ী নবাববাড়ি প্যালেস।




‎ব্রিটিশ ও মোঘল স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ‘নবাববাড়ি’ বা ‘নবাব প্যালেস’। ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধনে গড়া এই ঐতিহাসিক স্থানটি বর্তমানে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।

‎প্রায় ১৮০০ শতকের মাঝামাঝি সময়ে মোঘল শাসনামলে সেনাপতি ইস্পিঞ্জর খাঁ ও মোনোয়ার খাঁ সিংহ নামের একজনকে পরাজিত করে এই জমিদারীর সূচনা করেন বলে একটি সূত্রে জানা যায়। তবে এই জমিদার বাড়ির প্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ধরা হয় খান বাহাদুর সৈয়দ নবাব আলী চৌধুরীকে। ব্রিটিশদের কাছ থেকে ‘নওয়াব’ ও ‘সি.আই.ই’ খেতাবপ্রাপ্ত এই দূরদর্শী জমিদার ১৯১৯ সালে মূল প্রাসাদটি নির্মাণ করেন।

‎সৈয়দ নবাব আলী চৌধুরী ছিলেন ব্রিটিশ শাসনামলে প্রথম মুসলিম মন্ত্রী। এছাড়াও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রতিষ্ঠার অন্যতম দাতা ও স্বপ্নদ্রষ্টা এবং বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রথম প্রস্তাবক ছিলেন। এই গৌরবোজ্জ্বল বংশেরই সন্তান মোহাম্মদ আলী বগুড়া পাকিস্তানের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং সৈয়দ হাসান আলী চৌধুরী পূর্ব পাকিস্তানের শিল্প মন্ত্রী ও পরবর্তীতে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জমিদারী আমল থেকে এখন পর্যন্ত তাঁর বংশধররাই এই বিশাল সম্পত্তি দেখাশোনা করছেন।

‎নবাব প্যালেস বা নবাববাড়ি মোঘল স্থাপত্যের মিশেলে তৈরি মূল প্রাসাদের সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। প্রাচীন আদলে তৈরি বেশ কয়েকটি কটেজ রয়েছে, যেখানে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা আছে। চাইলে কতৃপক্ষের সাথে আগেও যোগাযোগ করে যেতে পারবেন ভ্রমণ পিপাসুরা।

‎বাড়ির ঠিক পূর্ব পাশেই রয়েছে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট অত্যন্ত সুন্দর একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। সম্পূর্ণ মসজিদটি চিনা মাটির টুকরো (চিনি-টিকরি) ও কাঁচের মোজাইক দিয়ে চমৎকার নকশায় সাজানো।

‎এছাড়াও নবাববাড়ি প্রাঙ্গণেই রয়েছে একটি বিশাল আকারের প্রাচীন দিঘি এবং একটি ঐতিহ্যবাহী শাহি ঈদগাহ। সব স্থাপনা পর্যটকেরা ঘুরে দেখতে পারেন।

‎বর্তমানে “লাইট হাউস” নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই জমিদারীর দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে। পর্যটকদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিতে তারা এটিকে একটি ঐতিহ্যবাহী রিসোর্ট হিসেবে রূপান্তর করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে “রয়্যাল রিসোর্ট।”

‎জমিদার বাড়ি প্রাঙ্গণে প্রবেশের জন্য সাধারণত জনপ্রতি ১০০ টাকা প্রবেশ ফি দিতে হয়।

‎ধনবাড়ীতে এসে ভ্যানে চড়ে পুরো এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি পর্যটকরা চাইলে কাছাকাছি বিখ্যাত ‘রাবান বাগান’ থেকেও ঘুরে আসতে পারেন।

‎নববাবাড়ি দেখতে আসা পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধা খুবই ভাল। ঢাকা-জামালপুর মহাসড়ক সংলগ্ন হওয়ায় ধনবাড়ী নবাববাড়িতে যাতায়াত অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে আছে।

‎ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে চড়ে ধনবাড়ী আসা যায়। অথবা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক হয়ে এলেঙ্গা নেমে, সেখান থেকে মধুপুর হয়ে সহজেই ধনবাড়ি নবাববাড়িতে পৌঁছানো সম্ভব।

‎যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় পর্যটকরা চাইলে ঢাকা থেকে এসে দিনে দিনেই ঘুরে আবার ঢাকায় ফিরে যেতে পারবেন। বা টাঙ্গাইল জেলা সদরে রাত্রি যাপন করতে পারবেন। শহরে একাধিক ভাল মানের থাকার হোটেল আছে।

‎ইতিহাস ও প্রকৃতির এক অপূর্ব সংমিশ্রণ উপভোগ করতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু দর্শনার্থী ভিড় জমাচ্ছেন এই নবাববাড়িতে।

‎তথ্য সূত্র-“কালের সাক্ষী ধনবাড়ী জমিদারবাড়ি”।

NTV Online,আর্কাইভ।

‎”ধনবাড়ী মসজিদ – বাংলাপিডিয়া”।

bn.banglapedia.org।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

গোলাপগঞ্জে ২১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২, নগদ টাকা উদ্ধার

পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক ‘ধনবাড়ী নবাববাড়ি’

সময় ০২:৩২:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
ধনবাড়ী নবাববাড়ি প্যালেস।




‎ব্রিটিশ ও মোঘল স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ‘নবাববাড়ি’ বা ‘নবাব প্যালেস’। ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধনে গড়া এই ঐতিহাসিক স্থানটি বর্তমানে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।

‎প্রায় ১৮০০ শতকের মাঝামাঝি সময়ে মোঘল শাসনামলে সেনাপতি ইস্পিঞ্জর খাঁ ও মোনোয়ার খাঁ সিংহ নামের একজনকে পরাজিত করে এই জমিদারীর সূচনা করেন বলে একটি সূত্রে জানা যায়। তবে এই জমিদার বাড়ির প্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ধরা হয় খান বাহাদুর সৈয়দ নবাব আলী চৌধুরীকে। ব্রিটিশদের কাছ থেকে ‘নওয়াব’ ও ‘সি.আই.ই’ খেতাবপ্রাপ্ত এই দূরদর্শী জমিদার ১৯১৯ সালে মূল প্রাসাদটি নির্মাণ করেন।

‎সৈয়দ নবাব আলী চৌধুরী ছিলেন ব্রিটিশ শাসনামলে প্রথম মুসলিম মন্ত্রী। এছাড়াও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রতিষ্ঠার অন্যতম দাতা ও স্বপ্নদ্রষ্টা এবং বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রথম প্রস্তাবক ছিলেন। এই গৌরবোজ্জ্বল বংশেরই সন্তান মোহাম্মদ আলী বগুড়া পাকিস্তানের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং সৈয়দ হাসান আলী চৌধুরী পূর্ব পাকিস্তানের শিল্প মন্ত্রী ও পরবর্তীতে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জমিদারী আমল থেকে এখন পর্যন্ত তাঁর বংশধররাই এই বিশাল সম্পত্তি দেখাশোনা করছেন।

‎নবাব প্যালেস বা নবাববাড়ি মোঘল স্থাপত্যের মিশেলে তৈরি মূল প্রাসাদের সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। প্রাচীন আদলে তৈরি বেশ কয়েকটি কটেজ রয়েছে, যেখানে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা আছে। চাইলে কতৃপক্ষের সাথে আগেও যোগাযোগ করে যেতে পারবেন ভ্রমণ পিপাসুরা।

‎বাড়ির ঠিক পূর্ব পাশেই রয়েছে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট অত্যন্ত সুন্দর একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। সম্পূর্ণ মসজিদটি চিনা মাটির টুকরো (চিনি-টিকরি) ও কাঁচের মোজাইক দিয়ে চমৎকার নকশায় সাজানো।

‎এছাড়াও নবাববাড়ি প্রাঙ্গণেই রয়েছে একটি বিশাল আকারের প্রাচীন দিঘি এবং একটি ঐতিহ্যবাহী শাহি ঈদগাহ। সব স্থাপনা পর্যটকেরা ঘুরে দেখতে পারেন।

‎বর্তমানে “লাইট হাউস” নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই জমিদারীর দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে। পর্যটকদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিতে তারা এটিকে একটি ঐতিহ্যবাহী রিসোর্ট হিসেবে রূপান্তর করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে “রয়্যাল রিসোর্ট।”

‎জমিদার বাড়ি প্রাঙ্গণে প্রবেশের জন্য সাধারণত জনপ্রতি ১০০ টাকা প্রবেশ ফি দিতে হয়।

‎ধনবাড়ীতে এসে ভ্যানে চড়ে পুরো এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি পর্যটকরা চাইলে কাছাকাছি বিখ্যাত ‘রাবান বাগান’ থেকেও ঘুরে আসতে পারেন।

‎নববাবাড়ি দেখতে আসা পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধা খুবই ভাল। ঢাকা-জামালপুর মহাসড়ক সংলগ্ন হওয়ায় ধনবাড়ী নবাববাড়িতে যাতায়াত অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে আছে।

‎ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে চড়ে ধনবাড়ী আসা যায়। অথবা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক হয়ে এলেঙ্গা নেমে, সেখান থেকে মধুপুর হয়ে সহজেই ধনবাড়ি নবাববাড়িতে পৌঁছানো সম্ভব।

‎যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় পর্যটকরা চাইলে ঢাকা থেকে এসে দিনে দিনেই ঘুরে আবার ঢাকায় ফিরে যেতে পারবেন। বা টাঙ্গাইল জেলা সদরে রাত্রি যাপন করতে পারবেন। শহরে একাধিক ভাল মানের থাকার হোটেল আছে।

‎ইতিহাস ও প্রকৃতির এক অপূর্ব সংমিশ্রণ উপভোগ করতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু দর্শনার্থী ভিড় জমাচ্ছেন এই নবাববাড়িতে।

‎তথ্য সূত্র-“কালের সাক্ষী ধনবাড়ী জমিদারবাড়ি”।

NTV Online,আর্কাইভ।

‎”ধনবাড়ী মসজিদ – বাংলাপিডিয়া”।

bn.banglapedia.org।