
সামান্য ১২০০ টাকার হিসাব নিয়ে বিরোধের জেরে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত কিশোরী সানজিদা বেগম (১৪) দীর্ঘ লড়াই শেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে; ক্ষুব্ধ স্বজনরা প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ রমজান উপজেলার ১০নং সুবিদপুর ইউনিয়নের বাঘজুর গ্রামের ইয়ালতলা মসজিদে তারাবিহ নামাজ শেষে ১২০০ টাকার হিসাব নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ান তৈয়ব আলীর পুত্র সালাম মিয়া (৩৫) এবং একই গ্রামের শরফত উল্লাহর পুত্র কালাই মিয়া ও মর্তুজ আলী (৪০)।
প্রাথমিক হাতাহাতি থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। এর জের ধরে ওই দিন মধ্যরাতে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।
সংঘর্ষের পর আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
গুরুতর আহত মর্তুজ আলীর পক্ষের মধু মিয়ার কিশোরী কন্যা সানজিদা বেগমের (১৪) অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে দ্রুত ঢাকা পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার রাতে সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। সোমবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সানজিদার দাফন সম্পন্ন হয়।
সানজিদার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে নিহতের ক্ষুব্ধ স্বজনরা প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সামান্য টাকা নিয়ে এমন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং একটি কিশোরীর অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরীফ আহমেদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে বাঘজুর গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।
এ আর রুমন, বানিয়াচং। 







