সিলেট ০৫:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
‎চাল চুরির সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের ওপর ইউপি সদস্যের হামলা নবীগঞ্জে বজ্রপাতে ১জনের মৃত্যু,আহত ৩ ‎বানিয়াচংয়ে মসজিদের ১২০০ টাকার হিসাব নিয়ে সংঘর্ষ: চিকিৎসাধীন কিশোরী সানজিদার মৃত্যু ‎লাখাইয়ে সুতাংনদীর উপর ব্রীজের দাবি দীর্ঘ দিনের ২৮ গ্রামের দুর্ভোগ ‎নবীগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বেকারি মালিককে আর্থিক সহায়তা ‎ভাষাসংগ্রামী, লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল আজিজের নববইতম জন্মবার্ষিকী উদযাপন‎ ‎ধনবাড়ীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যা না আত্মহত্যা? ভিডিও ঘিরে ধূম্রজাল ‎লাখাইয়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল চুরি: সেনা অভিযানে আটক ১, ডিলার পলাতক বানিয়াচংয়ে সড়কের মাঝে ভয়াবহ গর্ত।।  এলআর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তায় বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা ‎বাহুবলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, আহত ১০ ‎প্রায় ৪০ যাত্রী অল্পের জন্য রক্ষা

‎ভাষাসংগ্রামী, লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল আজিজের নববইতম জন্মবার্ষিকী উদযাপন‎

বক্তব্য রাখছেন প্রফেসর ড.জহিরুল হক।


‎সিলেটে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভাষাসংগ্রামী, লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল আজিজের নববইতম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরের বই বিপনীবিতার ‘বাতিঘর’-এ আব্দুল আজিজকে ঘিরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘প্রফেসর আবদুল আজিজ নববই যাপন পর্ষদ’।সিলেটে শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতিসহ নানা অঙ্গনের বিশিষ্ট মানুষেরা এই আয়োজনে উপস্থিত হয়ে গানে কথায় আবৃত্তিতে শ্রদ্ধা জানান আবদুল আজিজকে। প্রায় দুই ঘন্টা ব্যাপী এ অনুষ্ঠানের পুরোটা সময় মঞ্চের মধ্যে স্থির হয়ে বসে ছিলেন অধ্যাপক আব্দুল আজিজ।

‎মঙ্গলবারই যিনি ৯০ বছর পূর্ণ করলেন। এখন প্রায় বাকশক্তিহীন, শরীরও তেমন সচল নয়। তবু অনুষ্ঠানস্থলের সব আলো তাকে ঘিরেই। জীবনের প্রায় পুরোটাই তো তিনি এই সমাজ, সময় আর অঞ্চলকে আলোকিত করার কাজ করে গেছেন। কখনো শিক্ষকতা, কখনো লেখালেখি, গবেষণা, সংগঠন বা তারও আগে ভাষা সংগ্রাম- কোথায় নেই আবদুল আজিজ!মঙ্গলবার তাই সিলেট অঞ্চলের সমসাময়িক সময়ের অন্যতম এই আলোকবর্তিকাবে তাঁর নব্বই পূর্ণের দিনে শ্রদ্ধা জানালো নগরের মানুষেরা।

‎‘প্রফেসর আবদুল আজিজ নববই যাপন পর্ষদ’-এর আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবুল ফতেহ ফাতাহ’র সভাপতিত্বে ও আবৃত্তিশিল্পী নাজমা পারভীনের সঞ্চালনায় ‘আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানের মাধ্যমে শুরু হয় এ অনুষ্ঠান।নব্বই যাপন পর্ষদের সদস্য সচিব অপূর্ব শর্মার স্বাগত বক্তব্যের পর সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন শ্বান্তনা দাশ মৌ, প্রশংসাপত্র পাঠ করেন নাজমা পারভীন। আবদুল আজিজের লেখা থেকে পাঠ করে ‘পাঠশালা’র শিশুরা।



‎আমন্ত্রিত আলোচকদের মধ্যে ‘প্রফেসর মো. আবদুল আজিজ : ব্যক্তিমানুষ ও জীবনজিজ্ঞাসা’ বিষয়ে ডক্টর মোস্তাক আহমাদ দীন, ‘ প্রফেসর মো. আবদুল আজিজ: তাঁর লেখকসত্তা’ বিষয়ে অধ্যাপক ডক্টর জফির সেতুু, ‘প্রফেসর মো. আবদুল আজিজ : সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা, সাংগঠনিক কর্মযোগ’ বিষয়ে কবি একে শেরাম, ‘প্রফেসর মো. আবদুল আজিজ : কর্মসাধক ও শিক্ষাসাধক বিষয়ে লেখক গবেষক মিহিরকান্তি চৌধুরী আলোচনা করেন।
‎এতে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক। পরে ডক্টর আবুল ফতেহ ফাত্তাহর সঞ্চালনায় মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন উপস্থিত অতিথিরা। মো. আবদুল আজিজের পরিবারের পক্ষে অনুভূতি প্রকাশ করেন তাঁর ছেলে তারেক আজিজ। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে লিখিত বক্তব্যে আয়োজদের ধন্যবাদ জানিয়ে আবদুল আজিজ লিখেন, ‘এই বয়সে এসে আমার কাছে প্রতিটি দিনই এক-একটি উপহারের মতো। আলাদা করে তাই উদযাপনের প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমি এই পৃথিবীর পথে হাঁটতে একটা জিনিস জেনেছি, ভালোবাসার উদযাপন কখনো বাগুল্য হয় না’।

‎অধ্যাপক অব্দুল আজিজের এই অনুভূতি পাঠ করেন গায়ত্রী রায়। অনুষ্ঠানে শিল্পী রানা কুমার সিনহা ও রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। পরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ‘প্রগতিসোপান’ নামে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশিত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

‎চাল চুরির সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের ওপর ইউপি সদস্যের হামলা

‎ভাষাসংগ্রামী, লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল আজিজের নববইতম জন্মবার্ষিকী উদযাপন‎

সময় ১১:২৭:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
বক্তব্য রাখছেন প্রফেসর ড.জহিরুল হক।


‎সিলেটে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভাষাসংগ্রামী, লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল আজিজের নববইতম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরের বই বিপনীবিতার ‘বাতিঘর’-এ আব্দুল আজিজকে ঘিরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘প্রফেসর আবদুল আজিজ নববই যাপন পর্ষদ’।সিলেটে শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতিসহ নানা অঙ্গনের বিশিষ্ট মানুষেরা এই আয়োজনে উপস্থিত হয়ে গানে কথায় আবৃত্তিতে শ্রদ্ধা জানান আবদুল আজিজকে। প্রায় দুই ঘন্টা ব্যাপী এ অনুষ্ঠানের পুরোটা সময় মঞ্চের মধ্যে স্থির হয়ে বসে ছিলেন অধ্যাপক আব্দুল আজিজ।

‎মঙ্গলবারই যিনি ৯০ বছর পূর্ণ করলেন। এখন প্রায় বাকশক্তিহীন, শরীরও তেমন সচল নয়। তবু অনুষ্ঠানস্থলের সব আলো তাকে ঘিরেই। জীবনের প্রায় পুরোটাই তো তিনি এই সমাজ, সময় আর অঞ্চলকে আলোকিত করার কাজ করে গেছেন। কখনো শিক্ষকতা, কখনো লেখালেখি, গবেষণা, সংগঠন বা তারও আগে ভাষা সংগ্রাম- কোথায় নেই আবদুল আজিজ!মঙ্গলবার তাই সিলেট অঞ্চলের সমসাময়িক সময়ের অন্যতম এই আলোকবর্তিকাবে তাঁর নব্বই পূর্ণের দিনে শ্রদ্ধা জানালো নগরের মানুষেরা।

‎‘প্রফেসর আবদুল আজিজ নববই যাপন পর্ষদ’-এর আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবুল ফতেহ ফাতাহ’র সভাপতিত্বে ও আবৃত্তিশিল্পী নাজমা পারভীনের সঞ্চালনায় ‘আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানের মাধ্যমে শুরু হয় এ অনুষ্ঠান।নব্বই যাপন পর্ষদের সদস্য সচিব অপূর্ব শর্মার স্বাগত বক্তব্যের পর সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন শ্বান্তনা দাশ মৌ, প্রশংসাপত্র পাঠ করেন নাজমা পারভীন। আবদুল আজিজের লেখা থেকে পাঠ করে ‘পাঠশালা’র শিশুরা।



‎আমন্ত্রিত আলোচকদের মধ্যে ‘প্রফেসর মো. আবদুল আজিজ : ব্যক্তিমানুষ ও জীবনজিজ্ঞাসা’ বিষয়ে ডক্টর মোস্তাক আহমাদ দীন, ‘ প্রফেসর মো. আবদুল আজিজ: তাঁর লেখকসত্তা’ বিষয়ে অধ্যাপক ডক্টর জফির সেতুু, ‘প্রফেসর মো. আবদুল আজিজ : সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা, সাংগঠনিক কর্মযোগ’ বিষয়ে কবি একে শেরাম, ‘প্রফেসর মো. আবদুল আজিজ : কর্মসাধক ও শিক্ষাসাধক বিষয়ে লেখক গবেষক মিহিরকান্তি চৌধুরী আলোচনা করেন।
‎এতে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক। পরে ডক্টর আবুল ফতেহ ফাত্তাহর সঞ্চালনায় মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন উপস্থিত অতিথিরা। মো. আবদুল আজিজের পরিবারের পক্ষে অনুভূতি প্রকাশ করেন তাঁর ছেলে তারেক আজিজ। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে লিখিত বক্তব্যে আয়োজদের ধন্যবাদ জানিয়ে আবদুল আজিজ লিখেন, ‘এই বয়সে এসে আমার কাছে প্রতিটি দিনই এক-একটি উপহারের মতো। আলাদা করে তাই উদযাপনের প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমি এই পৃথিবীর পথে হাঁটতে একটা জিনিস জেনেছি, ভালোবাসার উদযাপন কখনো বাগুল্য হয় না’।

‎অধ্যাপক অব্দুল আজিজের এই অনুভূতি পাঠ করেন গায়ত্রী রায়। অনুষ্ঠানে শিল্পী রানা কুমার সিনহা ও রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। পরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ‘প্রগতিসোপান’ নামে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশিত হয়।