
ঈদ মানেই আনন্দ, মিলন আর ভ্রাতৃত্বের উজ্জ্বল এক উৎসব। তবে সেই আনন্দের রং কখনো কখনো ভিন্ন সময়েও ধরা দেয়—যেমনটি দেখা গেল মৌলভীবাজারে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে জেলার শতাধিক পরিবার আগেভাগেই উদযাপন করলেন পবিত্র ঈদুল ফিতর,ভাগ করে নিলেন খুশির সেই চিরচেনা অনুভূতি।
শুক্রবার ভোরের আলো ফুটতেই জেলা শহরের সার্কিট হাউস এলাকার একটি বাসা—আহমেদ শাবিস্তা—পরিণত হয় এক ছোট্ট ঈদগাহে। সকাল ৭টার আগেই ভিড় জমতে থাকে নানা বয়সী মানুষের। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউবা প্রতিবেশীর হাত ধরে—সবাই এসেছেন একসঙ্গে নামাজ আদায় করে ঈদের আনন্দে শামিল হতে।
নামাজ শেষে মোনাজাতে ছিল এক গভীর আবেগঘন মুহূর্ত। দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় হাত ওঠে আকাশের দিকে। সেই প্রার্থনায় যেন মিশে যায় দূরদেশের সময়, ভিন্নতার দেয়াল পেরিয়ে একাত্মতার ডাক।
এ জামায়াতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। পরিবারভিত্তিক অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে করে তোলে আরও অন্তরঙ্গ ও প্রাণবন্ত। শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস, নতুন পোশাকের ঝলক আর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
জামায়াতে ইমামতি করেন আব্দুল মাওফিক চৌধুরী, যিনি পীর সাহেব উজান্ডি নামে পরিচিত। তিনি জানান, বহু বছর ধরেই মৌলভীবাজারের কিছু পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে, যা এক ধরনের বিশ্বাস ও অনুশীলনের প্রতিফলন।
স্থানীয়দের মতে, সময়ের ভিন্নতা থাকলেও ঈদের মূল বার্তা—ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব—সবখানেই এক ও অভিন্ন। তাই আলাদা দিনে হলেও এই উদযাপন কারও কাছে বিভাজন নয়, বরং এক ভিন্ন মাত্রার আনন্দ।
সময়ের ব্যবধান পেরিয়েও একই আবেগে ঈদকে ধারণ করার এই দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দেয়—ঈদ আসলে হৃদয়ের উৎসব, যা ক্যালেন্ডারের তারিখে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের বিশ্বাস ও অনুভূতির মধ্যেই বেঁচে থাকে।
আব্দুস সামাদ আজাদ,মৌলভীবাজার থেকে। 

















