
রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, থাকবে মতাদর্শের ভিন্নতা কিন্তু দিনশেষে জয় হোক মানবিকতার। এমনই এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান (জীবন)। নির্বাচনী মাঠের প্রধানতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবং দেশের প্রবীণ আলেম, ১১দলীয় ঐক্যজোটের মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী রয়েছেন শুনে শনিবার (২৮ শে ফ্রেবুয়ারি) তাঁর বাসভবনে ছুটে যান ডা. জীবন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তাপ আর লড়াইয়ের স্মৃতি তখনো ফিকে হয়নি। সেই লড়াইয়ের দুই প্রধান সেনাপতি যখন মুখোমুখি হলেন, তখন সেখানে ছিল না কোনো তিক্ততা; বরং ছিল পরম শ্রদ্ধা আর ভ্রাতৃত্বের পরশ।
পেশায় একজন চিকিৎসক হওয়ায় ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন নিজেই অসুস্থ মাওলানা আব্দুল বাছিদ আজাদ’র শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ তাঁর চিকিৎসার আদ্যোপান্ত খোঁজ নেন। সাক্ষাৎকালে ডা. জীবন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের সুস্থতা কামনায় দোয়া করেন। বলেন, মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ আমাদের অভিভাবকতুল্য। রাজনীতিতে আমাদের মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তাঁর মতো বিজ্ঞ ব্যক্তিত্বের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আজীবন অমলিন থাকবে। প্রতিউত্তরে অসুস্থ মাওলানা বাসিত আজাদও ডা. জীবনের এই সৌজন্যবোধে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তাঁর জন্য দোয়া করেন।
এই সৌজন্য সাক্ষাৎ কেবল দুই ব্যক্তির মিলনমেলা ছিল না, বরং এটি ছিল বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জের সাধারণ মানুষের জন্য এক শান্তির বার্তা। এই সংস্কৃতির চর্চা হলে রাজনীতিতে সংঘাত কমবে এবং উন্নয়নের ধারা আরও বেগবান হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ডা. জীবনের এই উদ্যোগ রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মডেল হিসেবে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
ভোটের লড়াই সাময়িক, কিন্তু সম্পর্ক চিরন্তন। ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবনের এই উদারতা প্রমাণ করে যে, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি কেবল নির্দিষ্ট একটি পক্ষের নন, বরং তিনি দল-মত নির্বিশেষে সকলের সেবক।
মখলিছ মিয়া, বানিয়াচং থেকে। 








