
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি ও অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত মঞ্জুর আহমেদ (৪৪) হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সিলেট থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯ এবং এসআরবি-৭ এর যৌথ অভিযানে শনিবার (০৩ অক্টোবর) মধ্যরাতে সিলেট নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন দরগা গেট এলাকার আজমির হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মোঃ আলমগীর (৪০)। তিনি চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানার গোলাবাড়িয়া গ্রামের মালি হকের ছেলে এবং মামলার ৩ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম মঞ্জুর আহমেদের জমির পার্শ্ববর্তী একটি পুকুর নিয়ে আসামিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে মঞ্জুর আহমেদ পুকুরে মাছ ধরার জন্য পানি নিষ্কাশনের মেশিন বসাতে গেলে আসামিরা তাকে বাধা দেয়। কারণ জানতে চাইলে তারা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দিলে মাছ ধরতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেয়।
পরবর্তীতে একই দিন দুপুরে সীতাকুণ্ডের মুরাদপুর ইউনিয়নের গোলাবাড়িয়া সংলগ্ন রাস্তার ওপর ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্র, রামদা, চায়নিজ কুড়াল, চাপাতি ও লোহার রড নিয়ে মঞ্জুর আহমেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তিনি মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হন। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর মঞ্জুর আহমেদ মারা যান।
এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-৫০, তারিখ: ২৭/০৯/২০২৬)।
এসআরবি-৯ এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেটে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্টাফ রিপোর্টার 

















