সিলেট ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
লাখাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা ‎সিলেটে বাস টমটম সংঘর্ষে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় ঘাতক বাস চালক গ্রেপ্তার কুলাউড়ায় নতুন আঙ্গিকে গোবিন্দাস রেস্টুরেন্ট, সাশ্রয়ী মূল্যে মিলবে তিন বেলার খাবার নিউইয়র্ক পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল মাহবুবের সঙ্গে স্রোত সাহিত্য পর্ষদের শুভেচ্ছা বিনিময় ‎হবিগঞ্জে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ‎লাখাইয়ে শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজাঁ‎ উদযাপনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।    ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অলিপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী মৃত্যু হবিগঞ্জ কারাগারে মাদক মামলার এক বন্দির মৃত্যু ‎লাখাইয়ে পুলিশের উদ্যোগে মাদক ও অপরাধবিরোধী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে প্রধান শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি মানিক,সম্পাদক সুধা রঞ্জন
টাংগাইলের ডিবি পুলিশের সফল অভিযান...

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পটকা ফাটিয়ে ডাকাতির ঘটনায় চাঞ্চল্য, ৭ ডাকাত গ্রেফতার

টাংগাইল ডিবি পুলিশের অভিযানে আটককৃত ৭ ডাকাত। ছবি- ডিবির সৌজন্যে।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় একটি বাড়িতে পটকা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৮ আগস্ট গভীর রাতে। ঘাটাইল থানাধীন চকপাকুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা অমর বনিকের বাড়িতে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দেয়। তারা বাড়ির মালিক অমর বনিক এবং তার মা কৃষ্ণা রাণীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, রুপার গহনা, পিতলের মূর্তি এবং মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৬,৪১,৮০০ টাকা মূল্যের জিনিসপত্র লুট করে। ডাকাতির সময় বাধা দেওয়ায় ডাকাতদের ধারালো ছুরির আঘাতে অমর বনিক আহত হন।
ডাকাতি শেষে পালানোর সময় ডাকাতরা পটকা ফাটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ভয়ের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান একটি বিশেষ দল গঠন করেন। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন ডিবি (উত্তর) পুলিশের এসআই আহসানুজ্জামান। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে।


তদন্তের এক পর্যায়ে গত ২৫ আগস্ট গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে ডাকাত দলের সদস্য মোঃ সোহাগ মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে লুন্ঠিত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। সোহাগ মন্ডল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং দলের অন্যদের পরিচয় প্রকাশ করেন।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নেত্রকোনার কেন্দুয়া থেকে দলের মূল পরিকল্পনাকারী মিন্টুকে গ্রেফতার করে। মিন্টু বাকি সদস্যদের নাম ও অবস্থান জানান। এরপর গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার কোনাবাড়ী থেকে একে একে আরও পাঁচজন ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন- মোশাররফ, জসিম, আমিনুল, আনোয়ার এবং ময়নাল।

পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ০৫ রতি স্বর্ণ এবং ৩৪ ভরি রুপাসহ কিছু লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার করেছে। জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতির মামলা রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে এই ধরনের অপরাধ করে আসছে।

এই গ্রেফতারের ফলে শুধু এই মামলারই রহস্য উদঘাটন হয়নি, বরং স্থানীয় জনগণের মনে ফিরে এসেছে স্বস্তি। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশ আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা

টাংগাইলের ডিবি পুলিশের সফল অভিযান...

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পটকা ফাটিয়ে ডাকাতির ঘটনায় চাঞ্চল্য, ৭ ডাকাত গ্রেফতার

সময় ১১:৩০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

টাংগাইল ডিবি পুলিশের অভিযানে আটককৃত ৭ ডাকাত। ছবি- ডিবির সৌজন্যে।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় একটি বাড়িতে পটকা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৮ আগস্ট গভীর রাতে। ঘাটাইল থানাধীন চকপাকুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা অমর বনিকের বাড়িতে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দেয়। তারা বাড়ির মালিক অমর বনিক এবং তার মা কৃষ্ণা রাণীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, রুপার গহনা, পিতলের মূর্তি এবং মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৬,৪১,৮০০ টাকা মূল্যের জিনিসপত্র লুট করে। ডাকাতির সময় বাধা দেওয়ায় ডাকাতদের ধারালো ছুরির আঘাতে অমর বনিক আহত হন।
ডাকাতি শেষে পালানোর সময় ডাকাতরা পটকা ফাটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ভয়ের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান একটি বিশেষ দল গঠন করেন। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন ডিবি (উত্তর) পুলিশের এসআই আহসানুজ্জামান। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে।


তদন্তের এক পর্যায়ে গত ২৫ আগস্ট গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে ডাকাত দলের সদস্য মোঃ সোহাগ মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে লুন্ঠিত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। সোহাগ মন্ডল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং দলের অন্যদের পরিচয় প্রকাশ করেন।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নেত্রকোনার কেন্দুয়া থেকে দলের মূল পরিকল্পনাকারী মিন্টুকে গ্রেফতার করে। মিন্টু বাকি সদস্যদের নাম ও অবস্থান জানান। এরপর গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার কোনাবাড়ী থেকে একে একে আরও পাঁচজন ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন- মোশাররফ, জসিম, আমিনুল, আনোয়ার এবং ময়নাল।

পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ০৫ রতি স্বর্ণ এবং ৩৪ ভরি রুপাসহ কিছু লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার করেছে। জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতির মামলা রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে এই ধরনের অপরাধ করে আসছে।

এই গ্রেফতারের ফলে শুধু এই মামলারই রহস্য উদঘাটন হয়নি, বরং স্থানীয় জনগণের মনে ফিরে এসেছে স্বস্তি। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশ আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে।