সিলেট ০১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা: শেরপুর প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ‎জৈন্তাপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: আহত একই পরিবারের ৩  ভাইসহ একাধিক সদস্য। ‎প্রতিবন্ধী নাতনির দায়িত্ব বৃদ্ধ দাদির কাঁধে লাখাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা ‎সিলেটে বাস টমটম সংঘর্ষে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় ঘাতক বাস চালক গ্রেপ্তার কুলাউড়ায় নতুন আঙ্গিকে গোবিন্দাস রেস্টুরেন্ট, সাশ্রয়ী মূল্যে মিলবে তিন বেলার খাবার নিউইয়র্ক পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল মাহবুবের সঙ্গে স্রোত সাহিত্য পর্ষদের শুভেচ্ছা বিনিময় ‎হবিগঞ্জে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ‎লাখাইয়ে শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজাঁ‎ উদযাপনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।    ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অলিপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী মৃত্যু

‎মৌলভীবাজার চেম্বারে একযুগ পর পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন৷ গোপন ব্যালটে নেতৃত্ব নির্বাচিত।


‎

‎
‎দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পর গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হলো দি মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এসোসিয়েট ও অর্ডিনারি মিলে ৬৬৭ জন ভোটার এই নির্বাচনে অংশ নেন।
‎
‎দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় চেম্বারের নেতৃত্বে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, এবার সেই অচলাবস্থা ভেঙে ব্যবসায়ীদের মাঝে ফিরে এসেছে নতুন প্রত্যাশা। ব্যবসায়ীরা এটিকে চেম্বারের গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখছেন।
‎
‎বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে চেম্বার কার্যালয়ের সামনে হাজারো ব্যবসায়ীর উপস্থিতিতে ফলাফল ঘোষণা করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার ও মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের প্রফেসর মোবারক হোসেন খান।
‎
‎১২টি অর্ডিনারি সদস্য পদের মধ্যে বিএনপি সমর্থিত ৭ এবং জামায়াত সমর্থিত ৫ জন নির্বাচিত হন। ৬টি এসোসিয়েট সদস্য পদের মধ্যে বিএনপি সমর্থিত ৪ এবং জামায়াত সমর্থিত ২ জন বিজয়ী হন।
‎অর্ডিনারি সদস্য পদে নির্বাচিতঃইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন, হাসান আহমেদ জাবেদ, সৈয়দ মহি উদ্দীন আহমদ শাহীন, মো. আব্দুল মুকিত, আনোয়ার হোসেন চৌধুরী মুর্শেদ, সাইফুল ইসলাম টুটুল, এমদাদুল হক এমাদ, হাফেজ আহমদ মাহফুজ, আবু নোমান মুয়িন, হানিফ মোহাম্মদ খান নিয়াজ, আবুল কালাম বেলাল ও জহিরুল ইসলাম জাকির।
‎
‎এসোসিয়েট সদস্য পদে নির্বাচিতঃমো. রুবেল মিয়া, মির্জা সোহেল বেগ, দেলোয়ার হোসেন, সৈয়দ সালমান আহমেদ জুমান, আলকাছর উর রহমান ও মোক্তাদির হোসেন।
‎ফল ঘোষণার আগে চেম্বারের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোজাম্মেল আলী শরীফ বলেন, ৫ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের সময় আমরা নির্বাচন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
‎
‎সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহিম রিপন বলেন,আজ ব্যবসায়ীরা নিজেরাই নিজের নেতৃত্ব নির্বাচন করেছেন। অতীতে ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধারণের যে অনিয়ম ছিল,সেখান থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।
‎
‎প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. অলিউর রহমান বলেন,রাজনৈতিক পরিচয় থাকা সত্ত্বেও সব পক্ষ আমার ওপর আস্থা রেখেছে। নির্বাচনকে সর্বোচ্চ স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য রাখতে চেষ্টা করেছি।
‎
‎ভোটের দিন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদুর রহমান পাভেল, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার–৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম নাসের রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন, জামায়াতে ইসলামী আমীর ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
‎
‎দীর্ঘ অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতির পর চেম্বারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াকে ব্যবসায়ীরা বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা স্বচ্ছ নেতৃত্ব জবাবদিহি মূলক পরিচালনা,ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি জেলা বাণিজ্য উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা।
‎
‎ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চেম্বারের নেতৃত্বে বিএনপি–জামায়াত সমর্থিত ব্যবসায়ীদের নতুন এক প্রাধান্য তৈরি হয়েছে। এর ফলে চেম্বারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি নতুন ভারসাম্য গড়ে উঠেছে। তবে ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন, রাজনৈতিক সমীকরণের বাইরে গিয়ে নতুন কমিটিকে জেলার ব্যবসা–বাণিজ্যের সার্বিক উন্নয়নে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা: শেরপুর প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

‎মৌলভীবাজার চেম্বারে একযুগ পর পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন৷ গোপন ব্যালটে নেতৃত্ব নির্বাচিত।

সময় ০৫:৪০:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫


‎

‎
‎দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পর গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হলো দি মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এসোসিয়েট ও অর্ডিনারি মিলে ৬৬৭ জন ভোটার এই নির্বাচনে অংশ নেন।
‎
‎দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় চেম্বারের নেতৃত্বে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, এবার সেই অচলাবস্থা ভেঙে ব্যবসায়ীদের মাঝে ফিরে এসেছে নতুন প্রত্যাশা। ব্যবসায়ীরা এটিকে চেম্বারের গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখছেন।
‎
‎বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে চেম্বার কার্যালয়ের সামনে হাজারো ব্যবসায়ীর উপস্থিতিতে ফলাফল ঘোষণা করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার ও মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের প্রফেসর মোবারক হোসেন খান।
‎
‎১২টি অর্ডিনারি সদস্য পদের মধ্যে বিএনপি সমর্থিত ৭ এবং জামায়াত সমর্থিত ৫ জন নির্বাচিত হন। ৬টি এসোসিয়েট সদস্য পদের মধ্যে বিএনপি সমর্থিত ৪ এবং জামায়াত সমর্থিত ২ জন বিজয়ী হন।
‎অর্ডিনারি সদস্য পদে নির্বাচিতঃইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন, হাসান আহমেদ জাবেদ, সৈয়দ মহি উদ্দীন আহমদ শাহীন, মো. আব্দুল মুকিত, আনোয়ার হোসেন চৌধুরী মুর্শেদ, সাইফুল ইসলাম টুটুল, এমদাদুল হক এমাদ, হাফেজ আহমদ মাহফুজ, আবু নোমান মুয়িন, হানিফ মোহাম্মদ খান নিয়াজ, আবুল কালাম বেলাল ও জহিরুল ইসলাম জাকির।
‎
‎এসোসিয়েট সদস্য পদে নির্বাচিতঃমো. রুবেল মিয়া, মির্জা সোহেল বেগ, দেলোয়ার হোসেন, সৈয়দ সালমান আহমেদ জুমান, আলকাছর উর রহমান ও মোক্তাদির হোসেন।
‎ফল ঘোষণার আগে চেম্বারের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোজাম্মেল আলী শরীফ বলেন, ৫ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের সময় আমরা নির্বাচন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
‎
‎সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহিম রিপন বলেন,আজ ব্যবসায়ীরা নিজেরাই নিজের নেতৃত্ব নির্বাচন করেছেন। অতীতে ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধারণের যে অনিয়ম ছিল,সেখান থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।
‎
‎প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. অলিউর রহমান বলেন,রাজনৈতিক পরিচয় থাকা সত্ত্বেও সব পক্ষ আমার ওপর আস্থা রেখেছে। নির্বাচনকে সর্বোচ্চ স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য রাখতে চেষ্টা করেছি।
‎
‎ভোটের দিন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদুর রহমান পাভেল, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার–৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম নাসের রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন, জামায়াতে ইসলামী আমীর ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
‎
‎দীর্ঘ অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতির পর চেম্বারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াকে ব্যবসায়ীরা বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা স্বচ্ছ নেতৃত্ব জবাবদিহি মূলক পরিচালনা,ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি জেলা বাণিজ্য উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা।
‎
‎ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চেম্বারের নেতৃত্বে বিএনপি–জামায়াত সমর্থিত ব্যবসায়ীদের নতুন এক প্রাধান্য তৈরি হয়েছে। এর ফলে চেম্বারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি নতুন ভারসাম্য গড়ে উঠেছে। তবে ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন, রাজনৈতিক সমীকরণের বাইরে গিয়ে নতুন কমিটিকে জেলার ব্যবসা–বাণিজ্যের সার্বিক উন্নয়নে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে।