
সিলেটের কেওয়াছড়াতে বাস ও টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা ও মেয়ে নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক বাস চালক মোঃ নাসির মিয়াকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৯)।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানাধীন ঢাকা দক্ষিণ পশ্চিম বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত নাসির মিয়া সিলেট জেলার এয়ারপোর্ট থানার পীরেরগাঁও এলাকার সামছুল হকের ছেলে।
এসআরবি-৯ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর বিকেলে সিলেট জেলার এয়ারপোর্ট থানাধীন লালবাগ এলাকার বাসিন্দা সামির আহম্মেদের অসুস্থ মেয়ে ইনিয়া জান্নাতকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া সিদ্দিকা তানিয়া ও বোন তানিয়া বেগম টমটমযোগে নতুন বাজারের একটি ফার্মেসিতে যান। চিকিৎসা শেষে ওষুধ নিয়ে অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিটের দিকে এয়ারপোর্ট থানাধীন কেওয়াছড়া এলাকার বুড়িবন্তি ব্রিজের ওপর পৌঁছালে সিলেটগামী একটি বাসের সঙ্গে টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে টমটমে থাকা সুমাইয়া সিদ্দিকা তানিয়া, তাঁর মেয়ে ইনিয়া জান্নাত ও তানিয়া বেগমসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ওই দিন রাত ৮.৫০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা সুমাইয়া সিদ্দিকা তানিয়া ও মেয়ে ইনিয়া জান্নাত মারা যান। আহত তানিয়া বেগম বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী বাদী হয়ে সিলেট জেলার এয়ারপোর্ট থানায় সড়ক ও পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৩, তারিখ: ১২/১০/২০২৬)। ঘটনার পর থেকেই এসআরবি-৯ ছায়া-তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে এসআরবি-৯, সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেট জেলার এয়ারপোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্টাফ রিপোর্টার 


















