
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা ও অনুদান প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার ৯ অক্টোবর দুপুরে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৪ শো কিলোমিটারের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি থাকা সাড়ে তিনশো কিলোমিটারের উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ করতে সরকার এক বিশাল প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গত ৫৫ বছরে যে কাজ হয়েছে, সমপরিমাণ কাজ সম্পন্ন করতে আগামী ৩ থেকে ৪ বছর মেয়াদি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে করে বাকি সড়কগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হয়। এছাড়া শীত মৌসুম থেকেই নগর ও নগরের বাইরের যেসব সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের টেন্ডার হয়েছে, সেগুলোর কাজ শুরু হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
সিলেটের সুপেয় পানির সংকট নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি বা টিউবওয়েল দিয়ে পানি তোলা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, যা পানির স্তর নিচে নামিয়ে দিচ্ছে। পানির স্থায়ী সমাধানের জন্য সুরমা, কুশিয়ারা ও চেঙ্গেরখাল নদী থেকে পানি তুলে তা শোধন করে নগরবাসীর ব্যবহারের উপযোগী করার লক্ষ্যে একটি বড় প্রকল্প পরিকল্পনাধীন রয়েছে।
নগরীর কাষ্টঘর এলাকায় মানবেতর জীবনযাপন করা হরিজন সম্প্রদায়ের আবাসন সমস্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, তাদের জন্য একটি স্বতন্ত্র ও স্বাস্থ্যকর আবাসন ব্যবস্থার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে তারা সামাজিক মর্যাদার সাথে বাস করতে পারেন।
পাশাপাশি সিসিকের অন্তর্ভুক্ত ১২টি চা বাগানে সরকারিভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি, যাতে চা শ্রমিকদের সন্তানেরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়।ঐতিহাসিক কিন ব্রিজ সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কিন ব্রিজ বয়সের কারণে কিছুটা জরাজীর্ণ হলেও এটিকে আরও শক্তিশালী করে সংরক্ষণ করা হবে।
পাশাপাশি এর সৌন্দর্য ও নগরবাসীর যাতায়াত সুবিধার কথা মাথায় রেখে পাশে একটি নতুন দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশের উদ্বর্তন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শেষভাগে তিনি দেশের সম্প্রীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমরা একটি হোমোজিনিয়াস (সমজাতীয়) জাতি। আমাদের চালচলন, কথাবার্তা এবং সামাজিক সম্প্রীতি সবসময়ই অটুট। এই ঐকাই আমাদের মূল শক্তি।
বিশেষ প্রতিনিধি।। 


















