
জামালপুর সদর উপজেলার ১৪ নং দিগপাইত ইউনিয়নের চকপাড়া-পেঁচামানিক এলাকায় দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে একটি মজবুত কাঠের সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক উৎসবমুখর পরিবেশে ফিতা কেটে এই সেতুর শুভ উদ্বোধন করেন দিগপাইত ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. ছানোয়ার হোসেন সোহাগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অর্থনৈতিক অঞ্চল ইজেড বটতলা সংলগ্ন ইউনিয়নের ১ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া দিঘুলী চকপাড়া ও পেঁচামানিক এলাকায় জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকোটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী ছিল। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষ ও মুসল্লিদের চরম ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পার হতে হতো। অসাবধানতাবশত পা পিছলে নিচে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের এই ক্ষোভ ও দুর্ভোগ লাঘবে তরুণ রাজনৈতিক নেতা মো. ছানোয়ার হোসেন সোহাগের কাছে একটি টেকসই যাতায়াত ব্যবস্থার দাবি জানান স্থানীয়রা। জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে বাঁশের সাঁকোটির স্থলে এই মজবুত কাঠের সেতু নির্মাণ করে দেন।
সেতুটির উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে চকপাড়া, পেঁচামানিক ও ছোনটিয়াসহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের মাঝে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিগপাইত ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ ফরিদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী ফজলুল হক, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল মন্ডল, বিশিষ্ট বিএনপি নেতা আলী আজগর, ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কালাম মাস্টার, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার , ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ড্রাইভার, স্থানীয় ইউপি সদস্যবৃন্দ এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সেতুটি উদ্বোধন শেষে মো. ছানোয়ার হোসেন সোহাগ বলেন, এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট আমি নিজে দেখেছি। এলাকাবাসী ও স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে জনস্বার্থে এই কাজটি করতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমি সবসময় দিগপাইত ইউনিয়নবাসীর পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। আপনারা দোয়া ও সমর্থন দিলে এই কাঠের সেতুটিকে ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী পাকা ব্রিজে রূপান্তর করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
জানাযায়, ইতিপূর্বে তিনি নিজ অর্থায়নে অত্র ইউনিয়নের অবহেলিত গ্রাম গুলোর মধ্যে ছোট-বড় মোট ১৫ টিও বেশি মাটির রাস্তা ইটের খোয়া ও রাবিশ দিয়ে সংস্কার করেছেন।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী মামুন স্মৃতি পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ ডিগ্রি কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী তরুণ এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি গোপীনাথপুর সরকার বাড়ির সর্বজনশ্রদ্ধেয় মরহুম রফিকুল ইসলাম সরকারের দ্বিতীয় সন্তান। রাজনীতির পাশাপাশি যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মাঝে তাঁর ব্যাপক ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে আসন্ন দিগপাইত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি এলাকারবাসীর অন্যতম আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।
ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া, জামালপুর। 


















