
জামালপুর সদর উপজেলার ১৪নং দিগপাইত ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় গোরস্থানের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, বিগত ছয় মাস আগে মোহনপুর তালুকদার বাড়ি গোরস্থানের রাস্তা নির্মাণ কাজের জন্য ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ৪ টন ৩৭৫ কেজি গম বরাদ্দ দেওয়া হয় যার আনুমানিক বাজার মূল্য লক্ষাধিক টাকা। অভিযোগ উঠেছে বরাদ্দের মাত্র ৪৪ হাজার টাকা হাতে পেয়ে ছিলেন প্রকল্পের সভাপতি ও ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মিজানুর রহমান নান্টু, তার মধ্যে ৪১ হাজার কয়েক টাকা ব্যয় করে মাটি ধরে রাখার গাইডের জন্য ২৬ টি সিমেন্টের খুটি তৈরী করেছিলেন মেম্বার মিজানুর রহমান নান্টু।
অভিযোগ রয়েছে কাজ সম্পন্ন করতে দিগপাইত ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রাহাত হোসেন এর কাছে বারবার কাজ সম্পন্ন করার তাগিদ দিলেও বিভিন্ন তাল বাহানা করে যাচ্ছে রাহাত হোসেন। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন প্রকল্পের সম্পূর্ণ টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন চেয়ারম্যান রাহাত হোসেন।
এদিকে বারবার কাজের তাগিদ দেওয়া হলেও বাকী টাকা বা কাজ করছেনা চেয়ারম্যান রাহাত হোসেন। ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মিজানুর রহমান নান্টু আরো বলেন, এ ব্যাপারে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান এর সাথে কথা হলেও তিনি তার কথায়ে কোন সাড়া দেন না। সরকার তাকে ইউনিয়নে মানুষের সেবার জন্য নিয়োগ দিলেও তিনি নিজেকে মন্ত্রণালয়ের সচিব ভেবে থাকেন। তিনি আরো অভিযোগ তুলে বলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের সলাপরামর্শে চেয়ারম্যান রাহাত হোসেন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন।
এ ঘটনায় মেম্বার মিজানুর রহমান নান্টু বাকি টাকার হদিস চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে নীতি উপজেলার নির্ধারকদের প্রতি বাকি টাকার হদিস চেয়েছেন এবং এই অসম্পূর্ণ গোরস্থানের রাস্তার কাজ অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান রাহাত হোসেনের সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এ প্রকল্পের টাকা ফুরিয়ে গিয়েছে আগামীতে প্রকল্প আসলে কাজের ব্যাবস্থা করবো।
এদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, মেম্বার মিজানুর রহমান নান্টু আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি তুলেছে তার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন আমি এই প্রকল্প সম্পর্কে কিছুই জানিনা। কে বা কাহারা এ প্রকল্পের টাকা উঠিয়ে নিয়েছে তাও জানিনা। প্রকল্পের কাজ আমার আওতার বাইরে।
এ ঘটনায় জামালপুর সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার ইউএনওর সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং সত্যতার প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
একটি সামাজিক গোরস্থান যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের শেষ ঠিকানা। এই গোরস্থানের অর্থ আত্মসাৎ করার ঘটনায় সচেতন মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এবং অর্থ আত্মসৎকারীদের প্রতি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এলাকাবাসী এই ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া, জামালপুর। 


















