সিলেট ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
News Title :
বানিয়াচং-নবীগঞ্জ সড়কে  সুটকি ব্রিজের গোড়ায় ভয়াবহ ভাঙ্গনযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে ‎জাফলং সীমান্তে ভারতে পাচারের সময় নারীসহ আটক ৭ নবীগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের মামলায় দুই কিশোরের ৩ বছর করে কারাদণ্ড ‎লাখাইয়ে মুড়িকাটা পেয়াজ চাষ সম্প্রসারণ কার্যক্রম এর উদ্বোধন। হবিগঞ্জে কাঠসহ সিএনজি জব্দ, ফাঁকা গুলি ছোড়ার দাবি বন বিভাগের শান্তিগঞ্জের হাওরে অবৈধ রিংজাল উদ্ধার, আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস কুলাউড়ায় ‘সীমান্তের ডাক’র গুণীজন সংবর্ধনা: ‎ড. আবেদ চৌধুরী ও মাহিদুর রহমানকে সম্মাননা‎ নবীগঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ‎টাঙ্গাইলের​ মধুপুরে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে যুবদলের বিক্ষোভ ও সমাবেশ হবিগঞ্জ শহরে ফুটপাতের শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, জরিমানা তিন ব্যবসায়ীকে

কুলাউড়ায় ‘সীমান্তের ডাক’র গুণীজন সংবর্ধনা: ‎ড. আবেদ চৌধুরী ও মাহিদুর রহমানকে সম্মাননা‎

‎মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সাপ্তাহিক ‘সীমান্তের ডাক’-এর আয়োজনে গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানে খ্যাতিমান জিন বিজ্ঞানী ও ধান গবেষক ড. আবেদ চৌধুরী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহিদুর রহমানকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

‎অনুষ্ঠানে দেশের বিজ্ঞান, শিক্ষা, সমাজ ও মানুষের অগ্রগতি নিয়ে বক্তব্য দেন সংবর্ধিত অতিথিরা। এ সময় ড. আবেদ চৌধুরী সফলতার জন্য মেধার পাশাপাশি কাজের প্রতি অঙ্গীকার ও ত্যাগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমি যখন মৌলভীবাজার স্কুলে পড়েছি, তখন আমি দুনিয়ার একেবারে খুব ব্রিলিয়ান্ট ছিলাম না। কিন্তু আমি কাজে লেগে আছি। বিজ্ঞানের গবেষণায় আমি লেগে আছি। আমার একটা কমপ্লিট কমিটমেন্ট আছে। আমি সবকিছু ত্যাগ করে এটা করছি। আসলে সাকসেসের মূল ব্যাপারটা হচ্ছে ত্যাগ।’

‎ছাত্রজীবনের আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘১৯৬৭ সালে যেদিন ইহুদিরা প্রথম জেরুজালেমে প্রবেশ করেছিল, একই সময়ে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনও মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল। তখন আমি মৌলভীবাজার স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলাম। জেরুজালেমের আন্দোলন আর সিলেটের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন একই সূত্রে গাঁথা হয়ে একটি কমন আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল।’

‎শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে হাওরাঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুযোগ প্রসঙ্গে ড. আবেদ চৌধুরী বলেন, ‘সাস্টে সিলেটিদের জায়গা নেই। আমাদের কোনো ইকুয়িটি নেই। যেমন হাওর এলাকার মানুষের প্রচণ্ড ট্যালেন্টেড ছেলেমেয়ে রয়েছে। তাদের জন্য তো শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা থাকা দরকার। এই কারণেই তো আমরা আন্দোলনটা করেছি।’


‎দেশের বৈষম্য ও মানুষের বিদেশমুখী হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো একশ, দুইশ, এক হাজার, দুই হাজার মানুষ মিলিওনিয়ার, বিলিওনিয়ার। কিন্তু অসংখ্য দরিদ্র মানুষ আছে। তাদের দেশের প্রতি যে আস্থাহীনতা, বিশ্বাসহীনতা; তা তাদের প্ররোচিত করছে বিদেশ চলে যেতে। যেকোনো মূল্যে তারা বিদেশ যেতে চায়। সিলেটিরাও যাচ্ছে।’

‎অন্যদিকে, অনুষ্ঠানের আরেক সংবর্ধিত অতিথি মাহিদুর রহমান তাঁর বক্তব্যে দেশ, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং কুলাউড়ার মানুষের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সাপ্তাহিক ‘সীমান্তের ডাক’-এর ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

‎সাপ্তাহিক ‘সীমান্তের ডাক’-এর পরিচালক মাহফুজ আহমেদের সভাপতিত্বে এবং পত্রিকাটির সম্পাদক সঞ্জয় দেবনাথ ও সিনিয়র রিপোর্টার মোক্তাদির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কুলাউড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য, ইয়াকুব তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এমদাদুল ইসলাম ভুট্টো, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অবসরপ্রাপ্ত) এহসান উদ্দিন চৌধুরী, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, যুগান্তর প্রতিনিধি আজিজুল ইসলাম এবং সীমান্তের ডাকের স্টাফ রিপোর্টার নাজমুল বারী সোহেল।

‎এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইয়াকুব তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল-আমীন চৌধুরী, প্রথম আলো জুড়ী প্রতিনিধি কল্যাণ প্রসূন চম্পু, কুলাউড়া টাউন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির জামান জাকি, সমাজসেবী জাহের আলম চৌধুরী, এম হাজির আলী, নুরুল ইসলাম খান বাবলা, সীমান্তের ডাকের বার্তা সম্পাদক তারেক হাসান, দেশের কণ্ঠ প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম মামুন, ভোরের পাতার প্রতিনিধি রুবেল বখস পাবেল, নাগরিক টিভির মাহফুজুর রহমান মাহি, বাংলার জাগরণ প্রতিনিধি আজিজুল ইসলাম, দৈনিক আমাদের পত্রিকার সামসুউদ্দিন বাবুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।

‎অনুষ্ঠানের শেষে ড. আবেদ চৌধুরী ও মাহিদুর রহমানের হাতে সাপ্তাহিক ‘সীমান্তের ডাক’-এর পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বানিয়াচং-নবীগঞ্জ সড়কে  সুটকি ব্রিজের গোড়ায় ভয়াবহ ভাঙ্গনযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে

কুলাউড়ায় ‘সীমান্তের ডাক’র গুণীজন সংবর্ধনা: ‎ড. আবেদ চৌধুরী ও মাহিদুর রহমানকে সম্মাননা‎

সময় ১২:২০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‎মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সাপ্তাহিক ‘সীমান্তের ডাক’-এর আয়োজনে গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানে খ্যাতিমান জিন বিজ্ঞানী ও ধান গবেষক ড. আবেদ চৌধুরী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহিদুর রহমানকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

‎অনুষ্ঠানে দেশের বিজ্ঞান, শিক্ষা, সমাজ ও মানুষের অগ্রগতি নিয়ে বক্তব্য দেন সংবর্ধিত অতিথিরা। এ সময় ড. আবেদ চৌধুরী সফলতার জন্য মেধার পাশাপাশি কাজের প্রতি অঙ্গীকার ও ত্যাগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমি যখন মৌলভীবাজার স্কুলে পড়েছি, তখন আমি দুনিয়ার একেবারে খুব ব্রিলিয়ান্ট ছিলাম না। কিন্তু আমি কাজে লেগে আছি। বিজ্ঞানের গবেষণায় আমি লেগে আছি। আমার একটা কমপ্লিট কমিটমেন্ট আছে। আমি সবকিছু ত্যাগ করে এটা করছি। আসলে সাকসেসের মূল ব্যাপারটা হচ্ছে ত্যাগ।’

‎ছাত্রজীবনের আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘১৯৬৭ সালে যেদিন ইহুদিরা প্রথম জেরুজালেমে প্রবেশ করেছিল, একই সময়ে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনও মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল। তখন আমি মৌলভীবাজার স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলাম। জেরুজালেমের আন্দোলন আর সিলেটের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন একই সূত্রে গাঁথা হয়ে একটি কমন আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল।’

‎শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে হাওরাঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুযোগ প্রসঙ্গে ড. আবেদ চৌধুরী বলেন, ‘সাস্টে সিলেটিদের জায়গা নেই। আমাদের কোনো ইকুয়িটি নেই। যেমন হাওর এলাকার মানুষের প্রচণ্ড ট্যালেন্টেড ছেলেমেয়ে রয়েছে। তাদের জন্য তো শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা থাকা দরকার। এই কারণেই তো আমরা আন্দোলনটা করেছি।’


‎দেশের বৈষম্য ও মানুষের বিদেশমুখী হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো একশ, দুইশ, এক হাজার, দুই হাজার মানুষ মিলিওনিয়ার, বিলিওনিয়ার। কিন্তু অসংখ্য দরিদ্র মানুষ আছে। তাদের দেশের প্রতি যে আস্থাহীনতা, বিশ্বাসহীনতা; তা তাদের প্ররোচিত করছে বিদেশ চলে যেতে। যেকোনো মূল্যে তারা বিদেশ যেতে চায়। সিলেটিরাও যাচ্ছে।’

‎অন্যদিকে, অনুষ্ঠানের আরেক সংবর্ধিত অতিথি মাহিদুর রহমান তাঁর বক্তব্যে দেশ, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং কুলাউড়ার মানুষের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সাপ্তাহিক ‘সীমান্তের ডাক’-এর ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

‎সাপ্তাহিক ‘সীমান্তের ডাক’-এর পরিচালক মাহফুজ আহমেদের সভাপতিত্বে এবং পত্রিকাটির সম্পাদক সঞ্জয় দেবনাথ ও সিনিয়র রিপোর্টার মোক্তাদির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কুলাউড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য, ইয়াকুব তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এমদাদুল ইসলাম ভুট্টো, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অবসরপ্রাপ্ত) এহসান উদ্দিন চৌধুরী, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, যুগান্তর প্রতিনিধি আজিজুল ইসলাম এবং সীমান্তের ডাকের স্টাফ রিপোর্টার নাজমুল বারী সোহেল।

‎এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইয়াকুব তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল-আমীন চৌধুরী, প্রথম আলো জুড়ী প্রতিনিধি কল্যাণ প্রসূন চম্পু, কুলাউড়া টাউন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির জামান জাকি, সমাজসেবী জাহের আলম চৌধুরী, এম হাজির আলী, নুরুল ইসলাম খান বাবলা, সীমান্তের ডাকের বার্তা সম্পাদক তারেক হাসান, দেশের কণ্ঠ প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম মামুন, ভোরের পাতার প্রতিনিধি রুবেল বখস পাবেল, নাগরিক টিভির মাহফুজুর রহমান মাহি, বাংলার জাগরণ প্রতিনিধি আজিজুল ইসলাম, দৈনিক আমাদের পত্রিকার সামসুউদ্দিন বাবুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।

‎অনুষ্ঠানের শেষে ড. আবেদ চৌধুরী ও মাহিদুর রহমানের হাতে সাপ্তাহিক ‘সীমান্তের ডাক’-এর পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।