
সিলেটের সীমান্তঘেঁষা গোয়াইনঘাটে মাদক, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৮১ দিনে ২৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। গত ৩ জুলাই থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে মাদক মামলায় ৩২, চোরাচালান মামলায় ২৩, জিআর পরোয়ানায় ৬১, জিআর সাজা পরোয়ানায় ১৩, সিআর পরোয়ানায় ৪০, সিআর সাজা পরোয়ানায় ১১, নিয়মিত মামলায় ৬৪ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ৯ জন রয়েছেন।
এ সময়ে ২৮টি মাদক মামলায় ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযানে ১৬০ লিটার চোলাই মদ, ২ হাজার ৫৭৫ বোতল ভারতীয় এসকাফ কাফ সিরাপ, ১৬৭ বোতল ও ৪২ ক্যান ভারতীয় মদ, ১ হাজার ৬৮০ পিস ইয়াবা এবং ৬১.৫ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকার বেশি।
চোরাচালানবিরোধী ১৭টি মামলায় ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ শলাকা ভারতীয় নাসির বিড়ি, ১ হাজার ৯০০ কেজি ভারতীয় জিরা, ৯ হাজার ৮৭২ পিস ভারতীয় চকলেট ও অন্যান্য সামগ্রী, ২২০ বোতল ভারতীয় অলিভ অয়েল, ডাবর আমলা হেয়ার অয়েল ও প্রসাধনসামগ্রী, ভারতীয় আইফোন, মোবাইল ফোন ও ব্যাগেজ সামগ্রী জব্দ করা হয়। পাশাপাশি চোরাচালানে ব্যবহৃত সিএনজি, পিকআপ, ডিআই পিকআপ, ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
তবে পুলিশের দাবি, মাদক ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ওসি মো. ওমর ফারুকের দাবি, পুলিশের অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত একটি চক্র অবৈধ ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে ওসি, সেকেন্ড অফিসার এসআই তানভীর ফয়েজসহ থানার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে অপরাধ দমনে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. ওমর ফারুক বলেন, গোয়াইনঘাটকে মাদক, চোরাচালানসহ সব ধরনের অপরাধমুক্ত করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। সীমান্ত অপরাধ দমন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি 
















