
বানিয়াচংয়ে ২০১৫ সালে দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয় ইসলামি আন্দোলনের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক সামছুদ্দিন আহমদ (৪৮)কে। এরপর আসামীদের হুমকি-ধামকিতে স্বামীর বাড়ি থেকে ৩ অবুঝ সন্তানকে নিয়ে পিত্রালয়ে চলে যান স্ত্রী রাহেনা বেগম। শুরু হয় তার এক সংগ্রামী জীবন। একদিকে স্বামীকে হারিয়ে ৩টি সন্তান নিয়ে সামনে এগিয়ে চলা যেমন দুরূহ ব্যাপার, অন্যদিকে স্বামী হত্যার সাথে জড়িতদের বিচার হবে কি না এনিয়ে এক অনিশ্চয়তা! সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে কেটে যায় ১১ বছর। মামলাটি প্রায় শেষ পর্যায়ে। রাহেনা বেগম চান স্বামী হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। সেই সাথে এলাকাবাসীও চান যথাযথ বিচার।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৪নং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের অন্তর্গত এড়ালিয়া পাড়ার মৃত গোলাম মস্তোফার ছেলে সামছুদ্দিন আহমদ গংদের সাথে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল একই এলাকার মিনহাজ উদ্দিন খান লেচু (৫৮) এবং মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে বদু মিয়া (৫২) গংদের।
১৮/০৪/২০১৫ সালে সকাল সাড়ে ৮টায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে সামছুদ্দিন আহমদ (৪৮)কে মিনহাজ উদ্দিন খান লেচু এবং বদু মিয়া গংরা বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা করে। প্রতিকার চেয়ে ১৯ /০৪/২০১৫ সালে ১৯জনকে আসামী করে বানিয়াচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী রাহেনা বেগম। বানিয়াচং থানায় মামলা নং-২৩, জি.আর ৯৯/১৫ ও দায়রা ৯৯৫/১৭।
সেই চাঞ্চল্যকর মামলাটি ১১বছর শেষে চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে। নিহত সামছুদ্দিন এর স্ত্রী রাহেনা বেগম চান স্বামীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মাননীয় আদালতের প্রতি রাহেনা বেগমের সেই আস্থা এবং বিশ্বাস রয়েছে বলে গণমাধ্যমকে তিনি জানান।
মামলায় চার্জশীটভুক্ত আসামীগণ হচ্ছেন, মিনহাজ উদ্দিন খান লেচু (৫৮), শাওন মিয়া (২৬), কয়ছর মিয়া (২৮), কাউছার মিয়া (৩২), বদু মিয়া (৫২), ইমদাদ (ইনজাদ) (৩৫), নওশাদ (৩৮), খালেদ মিয়া (৪৫), হালিম মিয়া (২২), পায়েল মিয়া (১৯), নছিবুর মিয়া (২০), মাহমুদ মিয়া (২৫), আব্দুল ওয়াদুদ (৬০), নাহিদ মিয়া (২৩), মাহমুদা বেগম (৫০), হেলেনা বেগম (৪৪), আব্দুল মালিক (৫২), সাজন মিয়া (৩৫), লাল মিয়া (৩০) ও মোস্তাক মিয়া (৩৫)।
বানিয়াচং প্রতিনিধি। 

















