সিলেট ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
লাখাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা ‎সিলেটে বাস টমটম সংঘর্ষে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় ঘাতক বাস চালক গ্রেপ্তার কুলাউড়ায় নতুন আঙ্গিকে গোবিন্দাস রেস্টুরেন্ট, সাশ্রয়ী মূল্যে মিলবে তিন বেলার খাবার নিউইয়র্ক পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল মাহবুবের সঙ্গে স্রোত সাহিত্য পর্ষদের শুভেচ্ছা বিনিময় ‎হবিগঞ্জে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ‎লাখাইয়ে শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজাঁ‎ উদযাপনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।    ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অলিপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী মৃত্যু হবিগঞ্জ কারাগারে মাদক মামলার এক বন্দির মৃত্যু ‎লাখাইয়ে পুলিশের উদ্যোগে মাদক ও অপরাধবিরোধী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে প্রধান শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি মানিক,সম্পাদক সুধা রঞ্জন

সিলেটে অবশেষে অনুমোদিত হলো ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল


‎

‎দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেল সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকায় নির্মিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকার পর আজ সোমবার (১৫ জুন) হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়।

‎সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানিয়েছেন সরকারের বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।

‎ফেসবুক স্ট্যাটাসে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আজ সিলেটে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে।

‎এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবার অধিকতর সুযোগ পাবে। সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এই উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। সিলেটের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক।

‎সিলেটবাসীর বহুল প্রত্যাশিত এ হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয় নগরের ঐতিহ্যবাহী আবু সিনা ছাত্রাবাসের স্থানে। নাগরিক সমাজের তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করে তৎকালীন সরকারের সময়ে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই বৃহৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। ২০২৩ সালে ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ নির্ধারণসহ নানা প্রশাসনিক জটিলতায় হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে প্রায় অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়ে ছিল।

‎২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৬ দশমিক ৯৮ একর জমির ওপর হাসপাতালটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় ‘পদ্মা অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড’। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া নির্মাণকাজ পরবর্তীতে সম্পন্ন হয়। অনুমোদিত ১৫ তলা নকশার ভবনটির বর্তমানে আট তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।

‎আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এই হাসপাতালে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট রাখা হয়েছে, অত্যাধুনিক আইসিইউ (ICU) ও সিসিইউ (CCU) সুবিধা। আধুনিক অপারেশন থিয়েটার ও উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা।  বহির্বিভাগ (OPD), সাধারণ ওয়ার্ড এবং কেবিন। এর মধ্যে বিশেষায়িত সেবার জন্য রয়েছে ১৯টি আইসিইউ বেড, ৯টি সিসিইউ বেড এবং ৪০টি কেবিন।

‎হাসপাতালটি দ্রুত চালুর বিষয়ে গত কয়েক মাস ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। গত ২০ এপ্রিল তিনি হাসপাতালটি সশরীরে পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে এটি দ্রুত চালুর আশ্বাস দেন।

‎এছাড়া গত ৩১ মে সিলেটের মুসলিম সাহিত্য সংসদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, শিগগিরই ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। একই সাথে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১ হাজার ২০০ শয্যার আরেকটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

‎এর আগে গত ২ মে সিলেট সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-ও সিলেটের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে এই হাসপাতালটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর ব্যাপারে দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছিলেন। হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের স্বাস্থ্য খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা

সিলেটে অবশেষে অনুমোদিত হলো ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল

সময় ০৭:২৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


‎

‎দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেল সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকায় নির্মিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকার পর আজ সোমবার (১৫ জুন) হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়।

‎সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানিয়েছেন সরকারের বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।

‎ফেসবুক স্ট্যাটাসে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আজ সিলেটে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে।

‎এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবার অধিকতর সুযোগ পাবে। সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এই উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। সিলেটের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক।

‎সিলেটবাসীর বহুল প্রত্যাশিত এ হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয় নগরের ঐতিহ্যবাহী আবু সিনা ছাত্রাবাসের স্থানে। নাগরিক সমাজের তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করে তৎকালীন সরকারের সময়ে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই বৃহৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। ২০২৩ সালে ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ নির্ধারণসহ নানা প্রশাসনিক জটিলতায় হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে প্রায় অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়ে ছিল।

‎২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৬ দশমিক ৯৮ একর জমির ওপর হাসপাতালটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় ‘পদ্মা অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড’। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া নির্মাণকাজ পরবর্তীতে সম্পন্ন হয়। অনুমোদিত ১৫ তলা নকশার ভবনটির বর্তমানে আট তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।

‎আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এই হাসপাতালে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট রাখা হয়েছে, অত্যাধুনিক আইসিইউ (ICU) ও সিসিইউ (CCU) সুবিধা। আধুনিক অপারেশন থিয়েটার ও উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা।  বহির্বিভাগ (OPD), সাধারণ ওয়ার্ড এবং কেবিন। এর মধ্যে বিশেষায়িত সেবার জন্য রয়েছে ১৯টি আইসিইউ বেড, ৯টি সিসিইউ বেড এবং ৪০টি কেবিন।

‎হাসপাতালটি দ্রুত চালুর বিষয়ে গত কয়েক মাস ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। গত ২০ এপ্রিল তিনি হাসপাতালটি সশরীরে পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে এটি দ্রুত চালুর আশ্বাস দেন।

‎এছাড়া গত ৩১ মে সিলেটের মুসলিম সাহিত্য সংসদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, শিগগিরই ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। একই সাথে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১ হাজার ২০০ শয্যার আরেকটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

‎এর আগে গত ২ মে সিলেট সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-ও সিলেটের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে এই হাসপাতালটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর ব্যাপারে দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছিলেন। হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের স্বাস্থ্য খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎