সিলেট ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
লাখাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা ‎সিলেটে বাস টমটম সংঘর্ষে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় ঘাতক বাস চালক গ্রেপ্তার কুলাউড়ায় নতুন আঙ্গিকে গোবিন্দাস রেস্টুরেন্ট, সাশ্রয়ী মূল্যে মিলবে তিন বেলার খাবার নিউইয়র্ক পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল মাহবুবের সঙ্গে স্রোত সাহিত্য পর্ষদের শুভেচ্ছা বিনিময় ‎হবিগঞ্জে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ‎লাখাইয়ে শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজাঁ‎ উদযাপনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।    ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অলিপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী মৃত্যু হবিগঞ্জ কারাগারে মাদক মামলার এক বন্দির মৃত্যু ‎লাখাইয়ে পুলিশের উদ্যোগে মাদক ও অপরাধবিরোধী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে প্রধান শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি মানিক,সম্পাদক সুধা রঞ্জন

‎অধ্যাপক মো. ইকরামুল ওয়াদুদকে নদ-নদী ও পরিবেশ রক্ষায় অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করেছে বাপা

অধ্যাপক মো. ইকরামুল ওয়াদুদ এর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন, ভিসি ডক্টর মোহাম্মদ জহিরুল হক।


‎
‎বৃন্দাবন সরকারি কলেজ এর অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ইকরামুল ওয়াদুদকে নদ-নদী, জলাশয়, প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ আঞ্চলিক শাখা। সম্প্রতি হবিগঞ্জ উন্নয়ন সংস্থার কনফারেন্স হলে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ও বাপার আজীবন সদস্য প্রফেসর ড.মোহাম্মদ জহিরুল হক।
‎
‎বাপা হবিগঞ্জের সহ-সভাপতি ও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল এর সভাপতিত্বে ও বাপা হবিগঞ্জের সাধারন সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি ও কলামিস্ট তাহমিনা বেগম গিনি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন, হবিগঞ্জ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শাহীন, অব: ব্যাংক কর্মকর্তা রোটারিয়ান এম তবারক আলী লস্কর, নাট্যকার ও পরিবেশকর্মী সিদ্দিকী হারুন, অ্যাডভোকেট তাহমিনা খান জলি, লাখাই প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ বাহার উদ্দিন, চলচ্চিত্রকার মোক্তাদির ইবনে ছালাম, সামাজিক সংগঠন বটতলা’র সাধারণ সম্পাদক হাসবী সাঈদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সায়লা খান, আফরোজা সিদ্দিকা, মোঃ আব্দুল কাইয়ূম, ‘গাছমামা’ হিসেবে পরিচিত মোঃ রায়হান, মাহমুদ ইকবাল, তারুন্য সোসাইটির সাইফুল ইসলাম, ‘বিডিক্লিন’- এর সংগঠক সোহাগ গাজী, গালিব হাসান, মোঃ শামীম আহমেদ, এম ইয়াকুব হাসান অন্তর, মোঃ বাহার মিয়া প্রমূখ।
‎
‎উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ঢাকার গন্ডি পেড়িয়ে জেলা পর্যায়ে যখন বাপার কার্যক্রম সম্প্রসারনের সিদ্ধান্ত হয় তখনই জেলা পর্যায়ের প্রথম সাংগঠনিক কমিটি হিসেবে হবিগঞ্জে অধ্যাপক মো. ইকরামুল ওয়াদুদ এর নেতৃত্বে বাপার কমিটি গঠন করা হয়। ২০০৯ সালে বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর গ্রহবনের পর ২০১০ সাল থেকে ২০২৬ এর এপ্রিল পর্যন্ত তিনি বাপা হবিগঞ্জের সভাপতি ছাড়াও একাধিকবার বাপার জাতীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। একাধারে ১৬ বছর পরিবেশ প্রতিবেশের দিক থেকে সংকটাপন্ন হবিগঞ্জ জেলায় বাপার নেতৃত্ব ও দায়িত্ব তিনি নির্ভিকভাবে পালন করেছেন। শহরের পুরাতন খোয়াই, সুতাং ও সোনাই নদীসহ হবিগঞ্জের বিভিন্ন নদ-নদী ও জলাশয় দখল-দূষনের কবল থেকে রক্ষা করতে তিনি দীর্ঘ দেড় যুগ নিরলস কাজ করেছেন। তিনি হবিগঞ্জ ছাড়াও সিলেটের হাওর, চা বাগান, পাথর ও বালু খোয়ারী অঞ্চল এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন পরিবেশ ও প্রতিবেশের সংকটে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
‎
মো. ইকরামুল ওয়াদুদ ১৯৬৬ সালে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৬৮ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি ও ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে যথাক্রমে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৭৫ সাল থেকে তিনি কাপাসিয়া সরকারি কলেজ, নরসিংদী সরকারি কলেজ, পটুয়াখালী সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ, এমসি কলেজ ও বৃন্দাবন কলেজে শিক্ষকতার পর ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাসে বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর গ্রহন করেন।
‎
‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডক্টর মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, হবিগঞ্জ তথা সিলেট বিভাগের প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় নেতৃত্ব দিয়েছেন, জনমত গড়ে তুলেছেন এবং অসংখ্য পরিবেশকর্মী ও সংগঠক তৈরি করেছেন। মানুষ ও প্রকৃতির কল্যাণে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় এ অঞ্চলে পরিবেশ আন্দোলন একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। নদ-নদী, জলাশয় ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে তাঁর অবদান আজ সর্বজনস্বীকৃত। তাঁর অনুপ্রেরণায় নতুন প্রজন্ম পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে সম্পৃক্ত হচ্ছে, যা একটি টেকসই ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা

‎অধ্যাপক মো. ইকরামুল ওয়াদুদকে নদ-নদী ও পরিবেশ রক্ষায় অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করেছে বাপা

সময় ০৯:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
অধ্যাপক মো. ইকরামুল ওয়াদুদ এর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন, ভিসি ডক্টর মোহাম্মদ জহিরুল হক।


‎
‎বৃন্দাবন সরকারি কলেজ এর অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ইকরামুল ওয়াদুদকে নদ-নদী, জলাশয়, প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ আঞ্চলিক শাখা। সম্প্রতি হবিগঞ্জ উন্নয়ন সংস্থার কনফারেন্স হলে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ও বাপার আজীবন সদস্য প্রফেসর ড.মোহাম্মদ জহিরুল হক।
‎
‎বাপা হবিগঞ্জের সহ-সভাপতি ও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল এর সভাপতিত্বে ও বাপা হবিগঞ্জের সাধারন সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি ও কলামিস্ট তাহমিনা বেগম গিনি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন, হবিগঞ্জ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শাহীন, অব: ব্যাংক কর্মকর্তা রোটারিয়ান এম তবারক আলী লস্কর, নাট্যকার ও পরিবেশকর্মী সিদ্দিকী হারুন, অ্যাডভোকেট তাহমিনা খান জলি, লাখাই প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ বাহার উদ্দিন, চলচ্চিত্রকার মোক্তাদির ইবনে ছালাম, সামাজিক সংগঠন বটতলা’র সাধারণ সম্পাদক হাসবী সাঈদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সায়লা খান, আফরোজা সিদ্দিকা, মোঃ আব্দুল কাইয়ূম, ‘গাছমামা’ হিসেবে পরিচিত মোঃ রায়হান, মাহমুদ ইকবাল, তারুন্য সোসাইটির সাইফুল ইসলাম, ‘বিডিক্লিন’- এর সংগঠক সোহাগ গাজী, গালিব হাসান, মোঃ শামীম আহমেদ, এম ইয়াকুব হাসান অন্তর, মোঃ বাহার মিয়া প্রমূখ।
‎
‎উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ঢাকার গন্ডি পেড়িয়ে জেলা পর্যায়ে যখন বাপার কার্যক্রম সম্প্রসারনের সিদ্ধান্ত হয় তখনই জেলা পর্যায়ের প্রথম সাংগঠনিক কমিটি হিসেবে হবিগঞ্জে অধ্যাপক মো. ইকরামুল ওয়াদুদ এর নেতৃত্বে বাপার কমিটি গঠন করা হয়। ২০০৯ সালে বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর গ্রহবনের পর ২০১০ সাল থেকে ২০২৬ এর এপ্রিল পর্যন্ত তিনি বাপা হবিগঞ্জের সভাপতি ছাড়াও একাধিকবার বাপার জাতীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। একাধারে ১৬ বছর পরিবেশ প্রতিবেশের দিক থেকে সংকটাপন্ন হবিগঞ্জ জেলায় বাপার নেতৃত্ব ও দায়িত্ব তিনি নির্ভিকভাবে পালন করেছেন। শহরের পুরাতন খোয়াই, সুতাং ও সোনাই নদীসহ হবিগঞ্জের বিভিন্ন নদ-নদী ও জলাশয় দখল-দূষনের কবল থেকে রক্ষা করতে তিনি দীর্ঘ দেড় যুগ নিরলস কাজ করেছেন। তিনি হবিগঞ্জ ছাড়াও সিলেটের হাওর, চা বাগান, পাথর ও বালু খোয়ারী অঞ্চল এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন পরিবেশ ও প্রতিবেশের সংকটে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
‎
মো. ইকরামুল ওয়াদুদ ১৯৬৬ সালে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৬৮ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি ও ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে যথাক্রমে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৭৫ সাল থেকে তিনি কাপাসিয়া সরকারি কলেজ, নরসিংদী সরকারি কলেজ, পটুয়াখালী সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ, এমসি কলেজ ও বৃন্দাবন কলেজে শিক্ষকতার পর ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাসে বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর গ্রহন করেন।
‎
‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডক্টর মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, হবিগঞ্জ তথা সিলেট বিভাগের প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় নেতৃত্ব দিয়েছেন, জনমত গড়ে তুলেছেন এবং অসংখ্য পরিবেশকর্মী ও সংগঠক তৈরি করেছেন। মানুষ ও প্রকৃতির কল্যাণে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় এ অঞ্চলে পরিবেশ আন্দোলন একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। নদ-নদী, জলাশয় ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে তাঁর অবদান আজ সর্বজনস্বীকৃত। তাঁর অনুপ্রেরণায় নতুন প্রজন্ম পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে সম্পৃক্ত হচ্ছে, যা একটি টেকসই ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।